টাঙ্গাইলের মধুপুরে বেদখল হওয়া বনভূমি উদ্ধার করে দেশীয় প্রজাতির গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যার উদ্যোগ নিয়ে স্থানীয়দের প্রশংসা পাচ্ছেন দোখলা সদর বিট কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দোখলা বিটে প্রকল্প ও অন্যান্য খাত মিলিয়ে ২২৯ হেক্টর জমিতে বনায়ন করা হয়েছে। এতে রোপণ করা হয়েছে প্রায় ৭ লাখ ৪৭ হাজার ৭৫০টি চারা।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মধুপুর শালবন পুনঃপ্রতিষ্ঠা প্রকল্প ও বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের উদ্যোগে দোখলা বিটের অরণখোলা, পীরগাছা ও শোলাকুড়া মৌজায় বনায়ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে ১৫৩ হেক্টর জমিতে শালবন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এসব এলাকায় শাল, গর্জন, ঢাকিজাম, চাপালিশ, গামার, চিকরাশি, কড়ই, জাম, আমলকি, হরতকি, কাঞ্চনভাদি, লম্বু, কদম, বহেরা, জারুল, অর্জুনসহ বিভিন্ন প্রজাতির চারা রোপণ করা হয়েছে।
বিট কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, বনভূমিতে চারা রোপণ ও বন রক্ষা করা কঠিন কাজ। মধুপুর অঞ্চলে আনারস ও কলাসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ হওয়ায় বনায়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহায়তায় কাজটি এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান বলেন, কালাম ভাইয়ের নেতৃত্বে বাগানটা খুব সুন্দর হয়েছে। এলাকার মানুষও এতে জড়িত ছিলেন। আগে যেসব জায়গা জবরদখলে ছিল, সেগুলো উদ্ধার করে দেশীয় গাছ লাগানো হয়েছে।
আরেক বাসিন্দা শামসুল হক জানান, একটি এলাকায় প্রায় ২০ হেক্টর জমিতে নতুন শালবন গড়ে তোলা হয়েছে। স্থানীয়রা নিয়মিত চারার পরিচর্যা করছেন এবং বাগানের সুরক্ষায় বেড়া নির্মাণেও সহযোগিতা করেছেন। তার ভাষ্য, বিট কর্মকর্তার উদ্যোগের পাশাপাশি এলাকাবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাগানটি সুন্দরভাবে গড়ে উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আগে সংশ্লিষ্ট জমিতে কলা, আদা ও হলুদসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ হতো। পরে বিট কর্মকর্তা ও স্থানীয়দের উদ্যোগে সেখানে চারা রোপণ করা হয়। এখন এলাকাবাসীও বাগানটির পরিচর্যা করছেন।
বনভূমি পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি রোপণ করা চারাগুলোর দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা এখন গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নিয়মিত পরিচর্যা ও বনভূমি রক্ষার উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে মধুপুরের শালবন পুনরুদ্ধারে এ বনায়ন ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
