Published on
:
2 min read
প্রশান্ত ঘোষ
থুতু দিয়ে ছাতু গেলার অবস্থা হয়েছে রাজ্য সরকারের অধীন দুই সংস্থা হিডকো ও এনকেডিএ–র। স্মার্ট সিটি নিউ টাউনের রূপকার হিডকো আর এনকেডিএ হলো নিউ টাউনের নাগরিক পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই কর্মীর অভাব দুই সংস্থায়। আটকে বিভিন্ন ঠিকাদার সংস্থা ও এজেন্সির বিলও। যার জেরে মাসের পর মাস বেতন পাচ্ছেন না সাফাইকর্মীরা। এলাকার রাস্তাঘাট খানাখন্দে ভরা, স্ট্রিটলাইট জ্বলছে না, ডাস্টবিন উপচে পড়ছে আবর্জনায়। নাগরিক পরিষেবার এই দুর্দশায় বেজায় ক্ষুব্ধ স্মার্ট সিটির বাসিন্দারা। বেহাল রবীন্দ্রতীর্থ ও নজরুলতীর্থের পরিষেবাও। অভিযোগ, পর্যাপ্ত কর্মী ও পরিকল্পনার অভাবে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ দুই কেন্দ্রও জৌলুস হারাচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, নিউ টাউনের মতো পরিকল্পিত শহরে নাগরিক পরিষেবার এই হাল কেন!
হিডকো সূত্রে খবর, গত ৪ মে রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার কিছুদিন পরেই অবসরের পরেও মেয়াদ বাড়িয়ে কর্মরতদের আর কাজে না রাখার বিজ্ঞপ্তি জারি হয়। অভিযোগ, ১১ মে-র পরে হিডকোর ৮৮ জন কর্মীকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে কয়েক জন ষাটোর্ধ্ব কর্মী ছিলেন। আবার কয়েক জন ইঞ্জিনিয়ার দুর্নীতির অভিযোগের জেরে নিজেরাই ইস্তফা দেন বলে দাবি। তালিকায় ছিলেন জয়েন্ট ম্যানেজিং ডিরেক্টর পদমর্যাদার দু’জন, বিপণন, বাণিজ্যিক ও আইন বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার, প্রশাসনিক আধিকারিক এবং চিফ ইঞ্জিনিয়ার-সহ বিভিন্ন স্তরের কর্মী। কর্মী–আধিকারিকের ঘাটতি আরও বাড়ায় পরিষেবা কার্যত শিকেয় উঠেছে। হিডকো থেকে সামান্য একটা সিকিউরিটি ডিপোজিট ফেরত পেতেও কার্যত কালঘাম ছুটেছে পর্ণা ভাদুড়ীর। দিনের পর দিন রবীন্দ্রতীর্থ ও হিডকো–র দরজায় ঘুরতে হয়েছে অ্যাকাউন্টস সংক্রান্ত তথ্য জোগাড়ের জন্যে।
একই ছবি এনকেডিএ–তেও। অভিযোগ, এজেন্সির বিল আটকে থাকায় একাধিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে। নিউ টাউনে রাস্তা সাফাইয়ের কাজে যুক্ত কয়েকশো পুরুষ ও মহিলা কর্মী মাসিক ৮ হাজার টাকা মাইনেও পাচ্ছেন না বিগত তিন-চার মাস ধরে। কর্মী–সঙ্কটের প্রভাব পড়েছে রবীন্দ্রতীর্থ ও নজরুলতীর্থের কাজে। দুই কেন্দ্রের ম্যানেজার ও কিউরেটরকে হিডকো অফিসেও সপ্তাহে দু’-তিন দিন বসতে হচ্ছে। রবীন্দ্রতীর্থের ক্যাশিয়ারকেই আবার নজরুলতীর্থ ও স্নেহদিয়া বৃদ্ধাবাসের হিসাব সামলাতে হচ্ছে। আগে রবীন্দ্রতীর্থে বাংলা নববর্ষ, পঁচিশে বৈশাখ, বাইশে শ্রাবণ, দোল–সহ বিভিন্ন উৎসব অনুষ্ঠিত হতো সরকারি উদ্যোগে। বর্তমানে সে–সবই বন্ধ। অডিটোরিয়ামের চেয়ার-টেবিল, অতিথি নিবাসের দরজা-জানলা ও বাথরুমের দুর্দশা নিয়ে অভিযোগ জানিয়েও সুরাহা মিলছে না বলে দাবি অনেকের।
দীর্ঘদিন ধরে হিডকো ও এনকেডিএ–র চেয়ারপার্সন পদও ফাঁকা। হিডকো–র এমডি ও এনকেডিএ–র সিইও একাধিক দপ্তরের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। ফলে নিউ টাউনের ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া ও বিল ছাড়ার ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে বলে দপ্তর সূত্রে খবর। কর্মীদের অভিযোগ, নতুন সরকার ডিএ নীতি ঘোষণার পরে তাঁরা তার সুফল পাচ্ছেন না। আগে বছর–বছর পাঁচ শতাংশ বেতন বাড়লেও এখন তা তিন শতাংশে ঠেকেছে। কর্মী নিয়োগ বন্ধ। এক আধিকারিকের কথায়, ‘গত ছ’মাসে মাত্র একটি মাত্র বোর্ড মিটিং হয়েছে চার জন সদস্যকে নিয়ে। চেয়ারপার্সন ও জনপ্রতিনিধি না থাকায় নাগরিক পরিষেবা স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রে সমস্যা বাড়ছে।’ কর্মী–সঙ্কটের কথা স্বীকার করেও হিডকো–র এমডি বিভু গোয়েলের দাবি, ‘লোকজন একটু কম আছে এটা ঠিক, তবে কাজকর্মে অসুবিধা হচ্ছে না। সরকার চেষ্টা করছে শূন্যপদে দ্রুত নিয়োগ করতে।’ প্রতিক্রিয়া জানার জন্যে এনকেডিএ–র সিইও রবি আগরওয়ালকে ফোন করা হলে তিনি প্রশ্ন শুনে ফোন কেটে দেন।
