গ্রেগ চ্যাপেল। অস্ট্রেলীয় হয়েও যিনি ভারতীয় ক্রিকেটের সবচেয়ে বিতর্কিত চরিত্রের অন্যতম। তাঁর কোচিংয়ের সময়কালকে সবচেয়ে ভারতীয় ক্রিকেটের সবচেয়ে অন্ধকার সময় হিসাবে অনেকে চিহ্নিত করেন। প্রায় দু’দশক আগে কোচিং ছাড়ার পরও চ্যাপেল বহু ভারতীয়র কাছে ভিলেন। সেই তালিকায় রয়েছেন হরভজন সিংও। তিনি মনে করছেন, নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে ভারতে এসেছিলেন চ্যাপেল।
এক সাক্ষাৎকারে দলের প্রাক্তন কোচ সম্পর্কে ভাজ্জির বক্তব্য, গ্রেগ চ্যাপেলের সময়কালটা ভারতের ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্ধকারতম সময়। যেভাবে ও ভারতীয় দলে ভাগাভাগি করেছে, সেটা শুধু অস্ট্রেলিয়ার স্বার্থে। ভাজ্জির কথায়, চ্যাপেলকে কোচ হিসাবে নিয়োগ করাটা ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের সবচেয়ে জঘন্য সিদ্ধান্তগুলির মধ্যে অন্যতম।
সাক্ষাৎকারে টিম ইন্ডিয়ার প্রাক্তন অফস্পিনার বলেছেন, “যেভাবে চ্যাপেল দাদার (সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়) সঙ্গে আচরণ করেছিল এবং যেভাবে অন্য ক্রিকেটারদের নিজেদের মধ্যে লড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, সেটা ভারতীয় ক্রিকেটের জঘন্যতম অধ্যায়। ওকে কোচ করাটাই ম্যানেজমেন্টের মস্ত বড় ভুল ছিল। ও দলে ডিভাইড এন্ড রুল নীতি শুরু করেছিল। ও ক্রিকেটারদের নিজেদের মধ্যে লড়াইয়ে মত্ত রেখেছিল।” ভাজ্জির কথায়, “ও গোটা দলকে শেষ করে দিয়েছিল। আমাদের ওই শক্তিশালী দলকে ওরা ভেঙে টুকরো টুকরো করে দিয়েছিল। আমার মনে হয় ও ইচ্ছা করে এসব করেছে। সেসময় ভারতই একমাত্র দল যারা অস্ট্রেলিয়াকে চ্যালেঞ্জ করতে পারত। হতে পারে সেকারণেই ও আমাদের দলটা ভেঙে দিতে চেয়েছিল।”
উল্লেখ্য, ভারতীয় দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় চ্যাপেল ও সৌরভের সম্পর্ক অত্যন্ত তিক্ত হয়ে উঠেছিল। ২০০৫ সালে চ্যাপেল কোচ হওয়ার পর থেকেই তাঁদের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে। পরে সৌরভ অধিনায়কের পদ হারান। রাহুল দ্রাবিড় ভারতের নতুন অধিনায়ক হন। ২০০৭ বিশ্বকাপে ভারতের ভরাডুবির পর চ্যাপেলের কোচিং অধ্যায়ও শেষ হয়ে যায়।
