আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন আগামী ৫ই নভেম্বরের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ৩১শে অক্টোবর পর্যন্ত ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন করা যাবে। হালনাগাদ কার্যক্রম শেষে আগামী ২৫শে নভেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে কমিশন। এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ভোটাররাই সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন।
নির্বাচন কমিশন সোমবার দেশের সব উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে। এ জন্য ৫ই নভেম্বর সারা দেশে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। তালিকা নিয়ে দাবি-আপত্তি গ্রহণ ও নিষ্পত্তির পর ২৫শে নভেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।
ইসি’র নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০০৮ সালের ৩১শে অক্টোবর বা এর আগে যাদের জন্ম, তাদের মধ্যে যারা চলতি বছরের ৩১শে অক্টোবরের মধ্যে ভোটার ডেটাবেজে নিবন্ধিত হবেন, তাদের হালনাগাদ ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
আবেদন নিষ্পত্তি: ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে পছন্দের বা স্থায়ী ঠিকানার এলাকার ভোটার হতে চান-এমন নাগরিকদের জন্য ৩১শে অক্টোবর পর্যন্ত আবেদনের সুযোগ রাখা হয়েছে। এসব আবেদন আগামী ৫ই নভেম্বরের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। এ সময়সীমার মধ্যে আবেদন যাচাই বাছাই ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষ করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তাদের।
ভোটার স্থানান্তরের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়মে আবেদন করা এবং তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করা জরুরি। ঠিকানা পরিবর্তনের আবেদন নিষ্পত্তি না হলে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় প্রত্যাশিত এলাকার পরিবর্তন প্রতিফলিত নাও হতে পারে। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করে তার অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে খোঁজ নেয়ার সুযোগ রয়েছে।
কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৫ই নভেম্বর প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকায় কারও নাম, ঠিকানা বা অন্যান্য তথ্য নিয়ে আপত্তি থাকলে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় তা উত্থাপন করা যাবে। দাবি-আপত্তি নিষ্পত্তি শেষে ২৫শে নভেম্বর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। এ তালিকা স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটার নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচন: ইসি’র ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী বছরের ২১শে জানুয়ারি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। দ্বিতীয় ধাপের ভোট ৪ঠা ফেব্রুয়ারি, তৃতীয় ধাপে ২৯শে এপ্রিল, চতুর্থ ধাপে ১৩ই মে এবং পঞ্চম ও শেষ ধাপে ২৭শে মে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব নির্বাচনের তফসিল সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা ঘোষণা করবেন। এর আগে নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা ছিল, নভেম্বরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরু হবে এবং সেপ্টেম্বরে তফসিল ঘোষণা করা হবে। সে অনুযায়ী ভোটার তালিকা চূড়ান্তকরণ ও মুদ্রণের প্রস্তুতিও নেয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্বাচনের সময়সূচি পিছিয়ে যাওয়ায় দেশ জুড়ে আবারো ভোটার স্থানান্তরের কার্যক্রম চালু করে কমিশন। নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, ভোটার স্থানান্তরের আবেদন নিষ্পত্তি, খসড়া তালিকা প্রকাশ, দাবি-আপত্তি নিষ্পত্তি এবং চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ-সব কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে ইসি। এর মধ্যদিয়ে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রস্তুতের কাজ সম্পন্ন হবে।
আঙ্গুলের ছাপ না দিলে আবেদন বাতিল: জাতীয় পরিচয়পত্র পেতে নিবন্ধনের জন্য অনলাইনে আবেদন করার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বায়োমেট্রিক (আঙ্গুলের ছাপ) না দিলে আবেদনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করে দেবে ইসি। এ ব্যবস্থা চালু করতে সিস্টেম ম্যানেজারকে নির্দেশনা দিয়েছেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার নিবন্ধনের জন্য অনলাইন আবেদন করার পর সংশ্লিষ্ট আবেদনকারী বায়োমেট্রিক দিতে না আসলে একটা নির্দিষ্ট সময় পর আবেদনটি সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করার ব্যবস্থা করতে হবে।
