উল্লেখ্য, তপন ও স্বপন প্রয়াত বাবুর থেকে বয়সে বড়। এঁদের পাশাপাশি, বাবার প্রতিষ্ঠা করা পারিবারিক দুর্গাপুজো সফল করতে মায়ের ছায়াসঙ্গী হয়ে রয়েছেন বি টেক পাঠরতা বৃষ্টি বন্দ্যোপাধ্যায়। হাওড়া গ্রামীণ এলাকায় যত পারিবারিক দুর্গাপুজো হয়ে থাকে, তার মধ্যে বাগনান এনডি ব্লকের ব্যানার্জি বাড়ির পারিবারিক দুর্গাপুজো অন্যতম। এই পারিবারিক পুজোর বয়সও বেশি নয়। এ বছর ব্যানার্জি পুজোটি ২৮ বছরে পদার্পণ করবে। পুজোর ইতিহাস বলতে গিয়ে অকাল বিধবা বিপাশা জানান, এই পুজো যখন শুরু হয়েছিল, তখন তাঁর বিয়েও হয়নি। পারিবারিক সূত্রে জেনেছিলেন, আগে একটি ক্লাবের সঙ্গে দুর্গাপুজো করতেন তাঁর স্বামী। তবে এক সময়ে তাঁর শাশুড়ি প্রয়াত মায়া বন্দ্যোপাধ্যায় স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন, বাড়িতে পারিবারিক দুর্গাপুজো চালু করতে হবে। তাঁর পুত্র বাবু তখন সদ্য যুবক। মায়ের স্বপ্নকে মান্যতা দিয়ে, তাঁর স্বামী বাবু বন্দ্যোপাধ্যায় দুর্গাপুজো শুরু করেন ২৭ বছর আগে। যা বাগনানে ‘ব্যানার্জি বাড়ির পুজো’ নামে পরিচিত। ব্যানার্জি বাড়িতে প্রবেশের মুখেই চোখে পড়ল স্থায়ী দুর্গা মন্দির। সেই মন্দিরে রয়েছে দুর্গার দু’হাতে ১০টি অস্ত্র, বাসন থেকে সব ধরনের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। সবই পিতলের। ওই মন্দিরে তৈরি হচ্ছে দশভুজা দুর্গার প্রতিমা। বাগনান শহরের পার্শ্ববর্তী এলাকা কল্যাণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের আমড়াজোল গ্রামের শিল্পী উদয়শঙ্কর মণ্ডল জানালেন, ২৮ বছরের মধ্যে ২৭ বছর ধরে তিনি এই বাড়ির প্রতিমা নির্মাণ করছেন। পুজোর একাধিক বিশেষত্ব আছে। বিশেষ আকর্ষণ হলো, দুর্গাপুজোর নবমীর দিন হলিউড ও বলিউডের তারকার উপস্থিতি থাকে প্রতি বছর। নবমীর দিনে অন্যান্য বছরে সাকিল আনসারি, মন্দাকিনী, সায়ন্তিকা, নচিকেতা ও বাংলা সিরিয়ালের নামী নায়ক–নায়িকারা উপস্থিত থাকতেন।
