রানু স্কুল থেকে বাসায় ফিরতেই ছোট ভাই রাজু বলে, ‘জানিস বুবু, মা আর বাবা আজও ঝগড়া করেছে। অনেক ঝগড়া, প্রায় আধা ঘণ্টা।’
‘কখন? কী নিয়ে ঝগড়া?’
‘বাবা সকালে তোকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে বাসায় এসে দেখেন মা শওকত আংকেলের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলছেন। বাবা কিছুক্ষণ চুপ করে দেখলেন, শুনলেন। মার ফোনের স্পিকার অন করা ছিল তো। এরপরেই বাবা খুব রেগে গিয়ে মাকে বকা দিলেন।’
‘বাবা কী বললেন মাকে?’
‘বললেন, আমি বাসার বাইরে গেলেই তুমি শওকতের সঙ্গে ফোনে কথা বলো, হাসিঠাট্টা করো। ছেলেমেয়েদের সামনেও করো। আর কতদিন এসব চলবে? মাও রেগে গিয়ে বললেন, শওকত আমার বন্ধু। তার সঙ্গে কথা বললে তোমার গা জ্বালা করে কেন? এভাবেই ঝগড়া হলো অনেকক্ষণ। বাবা-মা রোজই এমন ঝগড়া করে। আমার ভালো লাগে না বুবু।’
রানু চুপ করে ছোট ভাইয়ের কথা শোনে। সেও জানে তাদের বাবা ও মায়ের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না, ঝগড়াঝাটি লেগেই আছে। ঝগড়ার কারণ মায়ের সহকর্মী শওকত আহমেদ। তাদের মা ফারজানা ও শওকত একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে কাজ করেন। সমবয়সী দুই সহকর্মীর মধ্যে সম্পর্ক ক্রমেই ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। একই সঙ্গে মাসুদ ও ফারজানার সুখের সংসারেও ফাটল ধরছে।
দুই.
মাসুদুর রহমান ও ফারজানা ইয়াসমিন। ওদের বিয়ে হয়েছে ১৬ বছর আগে। ভালোবাসার বিয়ে। একই কলেজে তারা সহপাঠী ছিলেন। দুজনেরই পৈতৃক বাড়ি বরিশাল শহরে। একই বছরে এসএসসি পাস করে তারা একই কলেজে ভর্তি হন একই ক্লাসে। তাদের লেখাপড়া ও ভালোবাসা সমান তালে চলতে থাকে। যথাসময়ে বিএ পাস করে তারা ঢাকা শহরে চলে আসেন উচ্চশিক্ষার জন্য। কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ না পেয়ে তারা ঠিক করলেন চাকরিতে ঢুকবেন। শুরু হলো চাকরি খোঁজা।
আরও পড়ুন
বরিশাল থেকেই মাসুদ কম্পিউটারের কাজ শিখেছিলেন। ঢাকায় এসে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটারে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিলেন। দক্ষতা অর্জন করলেন ছয় মাসের মধ্যেই। দক্ষতার কারণে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকরিও পেলেন। বেতন মোটামুটি ভালো।
ফারজানাও চাকরির ইন্টারভিউ দিতে লাগলেন একটির পর একটি। ইন্টারভিউ দিতে দিতে ক্লান্ত হয়ে গেলেন। চাকরি আর হয় না। হঠাৎ করেই একটি কোম্পানির বড় কর্তার সুনজরে পড়লেন ফারজানা। স্মার্ট, সুন্দরী ফারজানা ইংরেজি মোটামুটি ভালোই বলেন। তার চাকরি হয়ে গেল কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি পদে।
আরও পড়ুন
চাকরি পেয়ে মাসুদ ও ফারজানা দুজনেই খুব খুশি। এবার তারা বিয়ে করবেন, সংসার পাতবেন। ওদের অভিভাবকরা সম্মতি দিলেন। বিয়ে হবে বরিশালে। তার পর ওরা ঢাকায় এসে বাড়ি ভাড়া করে থাকবেন, চাকরিও করবেন সংসারও করবেন। বিয়ের আগেই ওদের জীবন সুখের সাগরে ভাসতে থাকে।
কেউ কিছু না বললেও বিয়ের কথা পাকা হওয়ার আগেই মাসুদের বাবা রমজান আলি হাওলাদার ছেলেকে ডেকে বললেন, ‘বাবা, সবকিছু ভাইবা দ্যাখসো তো? মেয়েটা কিন্তু বেশ স্মার্ট, সুন্দরী, ইংরেজিও ভালো জানে। তাছাড়া সে বয়সে তোমার সমান, ভালো চাকরি করে। পরে সামলাইতে পারবা তো?’
আরও পড়ুন
‘আপনি চিন্তা করবেন না বাপজান। ফারজানাকে আমি অনেক দিন থিকা চিনি। আমার মানুষ চিনতে ভুল হয় না। আশা করি অসুবিধা হইবে না। আপনে দোয়া করবেন।’
তিন.
বিয়ের পর মাসুদ ও ফারজানা ঢাকার কমলাপুর এলাকায় দুই রুমের একটি ছোট বাসা ভাড়া করে সংসার যাত্রা শুরু করে। বিয়ের দুই বছর পরেই ওদের ঘরে আসে ফুটফুটে সুন্দর মেয়ে। ওর নাম রাখা হলো রানু। রানুর যখন দুই বছর বয়স, তখন জন্ম হয় তার ছোট ভাই রাজুর। দুই সন্তান নিয়ে মাসুদ-ফারজানার সুখের সংসার। ওদের দিন কেটে যায় শান্তিতে, আনন্দে।
এক সময় রানু ও রাজুর স্কুল যাওয়ার বয়স হলো। রানুকে ভর্তি করা হলো শান্তিনগর এলাকায় মেয়েদের একটি স্কুলে। প্রতিদিন সকালে মাসুদ মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দেন। আবার ছুটির পর বাসায় নিয়ে আসেন। তার কর্মস্থল মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকায়। মেয়েকে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার পর অফিসে গিয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করতে হয়। কাজের চাপ বেশি থাকলে বাসায় ফিরতে রাত হয়ে যায়। চাকরির ব্যস্ততা যতই থাকুক, মাসুদ মেয়ের দিকে বেশি খেয়াল রাখেন, বিশেষ যত্ন নেন। রানু লেখাপড়ায় ভালো, পরীক্ষার ফল প্রতি বছরই ভালো হয়।
রাজুকেও সময়মতো স্কুলে দেওয়া হয়। স্কুলটি বাসার কাছেই, হেঁটেই যাওয়া যায়। ছেলেকে স্কুলে পৌঁছানো ও বাসায় নিয়ে আসার দায়িত্ব ফারজানাই নেয়। ছেলেমেয়ের লেখাপড়া ভালোই চলতে থাকে, মা-বাবার স্নেহে-যত্নে ওরাও বড় হয়ে উঠতে থাকে। মাসুদ-ফারজানার সুখের সংসার শান্তিতেই কেটে যায় প্রায় বারো বছর। কিন্তু দিন তো আর সব সময় একই রকম যায় না। শরতের নীল আকাশে কালো মেঘের আনাগোনাও দেখা গেল এক সময়ে এবং তা ক্রমেই বাড়তে থাকে।
চার.
মাসুদ সেদিন একটু আগেই বাসায় ফিরেছে। মোটরবাইকটা বাড়ির গেটের সামনে রেখে তালা দেওয়ার ব্যবস্থা করছে। ঠিক সে সময়ে একটি রিকশা এসে দাঁড়ায় সেখানে। রিকশার যাত্রী ফারজানা ও শওকত। রিকশা থেকে নেমে ফারজানা দাঁড়ায় মাসুদের সামনে। শওকতকে পরিচয় করিয়ে দেয় মাসুদের সঙ্গে। ‘আমার সহকর্মী শওকত। আমার সঙ্গে এসেছে আমার বাসা দেখতে।’
মাসুদ হাসিমুখে করমর্দন করে শওকতের সঙ্গে। তকে বাসার ভিতরে গিয়ে বসতে আমন্ত্রণ জানায়। ‘ভিতরে চলুন, এক কাপ চা খাবেন আমাদের সঙ্গে।’
‘ধন্যবাদ মাসুদ সাহেব, চা আর একদিন খাওয়া যাবে। আজ চলি, আমাকে আর এক জায়গায় যেতে হবে, জরুরি কাজ আছে।’ শওকত চলে যায় যে রিকশায় এসেছিল সেটাতে করেই।
মাসুদ সেদিন তার স্ত্রীকে শওকতের সঙ্গে এক রিকশায় দেখে কিছু মনে করেনি। এক অফিসে কাজ করলে পুরুষ সহকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা থাকতেই পারে। সবকিছু মাসুদ স্বাভাবিকভাবেই নিয়েছিল। এভাবেই তার সময় কেটে যায়। কিন্তু এক সময়ে তার মনে সন্দেহের বীজ ঢুকল। প্রতিদিন মোবাইল ফোনে দীর্ঘক্ষণ কথা বলা, এক রিকশায় প্রতিদিন চলাফেরা, এত বেশি ঘনিষ্ঠতা মাসুদের ভালো লাগে না। ওদের ঝগড়া, অশান্তি ক্রমেই বাড়তে থাকে।
একদিন বিকেলের দিকে মাসুদ পুরানা পল্টন মোড়ে তার মোট বাইক নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। অপেক্ষা করছিল কখন ট্রাফিক পুলিশ সামনে যাওয়ার অনুমতি দেয়। হঠাৎ দেখে তার বাম দিকে একটি রিকশায় ফারজানা ও শওকত ঘনিষ্ঠভাবে বসে আছে। ওরা মাসুদকে দেখেনি। ট্রাফিক সিগন্যাল উঠে গেলে যানবাহন চলাচল আবার শুরু হলো। ফারজানাদের রিকশা তোপখানা রোড দিয়ে এগিয়ে যায় পশ্চিম দিকে। মাসুদ তার মোটরবাইক নিয়ে ওদের অনুসরণ করতে থাকে।
কিছুক্ষণ পরে ফারজানাদের রিকশা রমনা পার্কের প্রধান গেটের সামনে দাঁড়ায়। রিকশা থেকে নেমে ওরা এগিয়ে যায় পার্কের ভিতরে লেকের ধারে। সেখানে একটি বেঞ্চে ওরা বসে পাশাপাশি ঘনিষ্ঠ হয়ে। মাসুদ ওর মোটরবাইকটা গেটের বাইরে রেখে ওদের অনুসরণ করে আসে। দূরত্ব বজায় রেখে দেখে ফারজানা ও শওকতকে। ওরা কথা বলছে, হাত ধরাধরি করে হাসছে, শওকত মাঝে মাঝে ফারজানাকে জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করছে, কিন্তু পারছে না ওর বাধার কারণে।
এটুকু দেখেই মাসুদের মাথায় রক্ত উঠে যায়, রাগে সারা শরীর জ্বলতে থাকে। মোবাইলের ক্যামেরায় ভিডিও করে ওদের কর্মকাণ্ড। তার পর ফিরে যায় অফিসে। সেখানে ওয়াশরুমে গিয়ে ঘাঁড়ে-মাথায় ঠাণ্ডা পানি দেয়। পিওনকে বলে একটি ডাব এনে দিতে। ডাবের পানি খেয়ে, এসির ঠাণ্ডা বাতাসে মাথা ঠাণ্ডা হলে মাসুদ ভাবতে থাকে এসব কী আজ দেখতে হলো তাকে। সবকিছু তার কাছে পরিষ্কার হয়ে গেল, ফারজানা পরকীয়ায় জড়িয়েছে গভীরভাবে। এখন মাসুদ কী করবে? ফারজানার সঙ্গে ছাড়াছাড়ি বা ডিভোর্স হয়ে গেলে ছেলেমেয়ে দুটির কী হবে? ছেলেমেয়ের কথা ভেবেই এতদিন নিজেকে শান্ত রেখেছেন মাসুদ। কিন্তু আজ আর পারা যাচ্ছে না, ফারজানার আচরণ সহ্যের সীমা অতিক্রম করে গেছে।
পাঁচ.
সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে মুখহাত ধুয়ে একটি চেয়ারে চুপচাপ বসে থাকেন মাসুদ। ছেলেমেয়েরা তার কাছে এসে বুঝতে পারে বাবার কিছু হয়েছে।
‘বাবা, তোমার শরীর খারাপ?’ জিজ্ঞাসা করে উদ্বিগ্ন রানু।
‘না, কিছু হয়নি। তোমরা পড়তে যাও।’
ফারজানা এক কাপ চা আর দুটি টোস্ট বিস্কুট এনে মাসুদের সামনের ছোট টেবিলে রাখে। জিজ্ঞাসা করে, ‘তোমার কী হয়েছে? ঘরে ফিরেই গম্ভীর হয়ে বসে আছ। ছেলেমেয়েদের সঙ্গেও কথা বললে না।’
‘আমার কিছুই হয়নি, ভালোই আছি। দুপুরে রমনা পার্কে রোমান্টিক সিনেমার শুটিং দেখলাম, ফারজানা নায়িকা, শওকত নায়ক। এজন্য খুব আনন্দ হচ্ছে।’
ফারজানা চুপ করে থাকে, পাশের চেয়ারে বসে থাকে মাথা নিচু করে। অন্যদিন এসব বিষয়ে কথা উঠলে, তর্ক করত, ঝগড়া হতো। আসলে আজ তার কিছুই বলার নেই, সে তো হাতেনাতে ধরা পড়ে গেছে।
‘শোনো ফারজানা, এভাবে চলতে পারে না। শুধু ছেলেমেয়েদের কথা চিন্তা করে এতদিন সব সহ্য করেছি। আজ আর পারছি না। সবকিছু আমার সহ্যের সীমা অতিক্রম করেছে। একটা সিদ্ধান্তে আমাদের আসতে হবে।’
‘তুমি কি আমাকে ডিভোর্স দিতে চাও? তা দিতে পার। আমি আপত্তি করব না, মেনে নেব।’
‘না, সেটা করব না। তোমার-আমার কারণে ছেলেমেয়েরা কষ্ট পাক, সেটা আমি চাই না। তবে তোমার সঙ্গে থাকা আমার উচিত হবে না। আমি কাল সকালেই অন্য কোথাও চলে যাব, একাই থাকব। তুমি রানু আর রাজুকে নিয়ে এই বাসাতেই থাক। সংসার খরচ, ওদের লেখাপড়ার খরচ সবই আমি দেব আগের মতো। আমি শুধু একটু শান্তিতে থাকতে চাই। তুমি শওকতকে নিয়ে আনন্দে থাক।’
পরদিন সকালেই মাসুদ ছোট একটি ব্যাগে নিত্যব্যবহার্য কিছু কাপড়-চোপড় ও তার ল্যাপটপটি নিয়ে বাসা থেকে বের হলো। যাওয়ার আগে এক টুকরা কাগজ মেয়ে রানুর হাতে দিয়ে বলে, ‘এই কাগজে আমি কোথায় থাকব সেই ঠিকানা লেখা আছে। বেশি দূরে নয়, নয়া পল্টনে আমার বন্ধুর বাসায়। প্রয়োজন হলে একটা রিকশা নিয়ে চলে আসবি। আমাকে ফোন করবি। রাজুর দিকে খেয়াল রাখিস।’
রাজু এসে বাবাকে জড়িয়ে ধরে। কেঁদে বলে, ‘বাপজান, তুমি যাইও না। তোমাকে ছাড়া আমি ক্যামনে থাকুম।’
‘আমি তো অনেক দূরে যাচ্ছি না রে বাপ। কাছেই তো থাকব। তোর বুবুজানকে নিয়ে যখন ইচ্ছা চলে আসবি আমার কাছে।’
ফারজানা কিছুই বলে না, সে শুধু দেখে তার স্বামী মোটরবাইক চালিয়ে চলে যাচ্ছেন, একবার ফিরেও তাকালেন না।
ছয়.
সাত দিন পার হয়ে গেল। মাসুদ নয়াপল্টনে তার বন্ধুর বাসায় একটি রুম ভাড়া নিয়ে থাকেন। সেখানে তার কোনো অসুবিধা নেই। তার যা কিছু কষ্ট শুধু ছেলেমেয়ের জন্য। মোবাইল ফোনে ওদের সঙ্গে প্রায় রোজই কথা বলেন, ওরাও ফোন করে।
সেদিন শুক্রবার, ছুটির দিন। সকাল ঠিক ১০টায় রানু ও রাজুকে নিয়ে একটি রিকশা এসে মাসুদের বাসার সামনে এসে থামে। ওদের দুজনের পিঠে দুটি ব্যাগ। মাসুদ বাড়ির নিচতলার একটি ঘরে থাকেন। রানুরা দেখে ওদের বাবা ঘরের দরজা খুলে বাইরে এসে দাঁড়িয়েছেন, তার মুখে হাসি।
‘আয়, তোরা ঘরে আয়। বাসা চিনতে অসুবিধা হয়নি তো?’
‘না বাবা, কোনো অসুবিধা হয়নি। তুমি কিন্তু এই সাত দিনেই অনেক শুকিয়ে গেছ। বুঝতে পারছি, খাওয়া-দাওয়া ঠিকমতো হয় না। এখন থেকে আর অসুবিধা হবে না। আমিই তোমাকে রান্না করে খাওয়াব। আমরা দুজনেই চলে এসেছি, তোমার কাছেই থাকব।’
মাসুদ তার আদরের দুই সন্তানকে বুকে টেনে নিলেন। তার মুখে হাসি, চোখে অশ্রু। ঠিক সেই সময়ে আর একটি রিকশা সেখানে এসে থামল। রিকশা থেকে নামলেন মাসুদের স্ত্রী, রানু-রাজুর মা ফারজানা।
‘তোরা আমাকে ফেলে চলে এলি যে? মার কথা একবারও ভাবলি না?’
মাসুদ হতবাক। রানু-রাজুও অবাক হয়ে চেয়ে আছে তাদের মায়ের দিকে। এ তো অন্য মানুষ। পরনে সাধারণ সুতি শাড়ি, কোনো সাজগোজ নেই, মাথার চুলটাও আঁচড়ানো হয়নি।
ফারজানা এসে মাসুদের হাত চেপে ধরে। ‘অনেক হয়েছে। এবার বাড়ি চলো। স্বীকার করছি আমার অনেক ভুল হয়েছে, অনেক দোষ করেছি। কিন্তু ভুলের তো ক্ষমা আছে। আমাকে ক্ষমা করতে পারবে না?’
মাসুদের মনটা চলে যায় ১৬ বছর আগে, যখন তাদের বিয়ে হয়, তারা তখন নবদম্পতি। মাসুদের সামনে সেই মেয়েটাই তো দাঁড়িয়ে আছে। মাসুদ কোনো কথা বলে না। শুধু দুহাত বাড়িয়ে প্রিয় ফারজানাকে বুকে টেনে নেয়।
রাজু এ সময় চেঁচিয়ে ওঠে, ‘বুবু, দ্যাখ, রেলিংয়ের ওপর জোড়া শালিক, কী সুন্দর, খেলা করছে।’
