কারও জমিতে ধানের থোড় এসেছে, কোথাও ধান পাকতে শুরু করেছে। কিন্তু ফসল ঘরে তোলার আগেই ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে বিলীন হচ্ছে আবাদি জমি। চোখের সামনে বাপ-দাদার জমি ও কষ্টের ফসল হারিয়ে দিশেহারা কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার চর শৌলমারী ইউনিয়নের সুখেরবাতি ও মধ্যপাড়ার কৃষকেরা। জমি রক্ষার উপায় না পেয়ে অনেকে কাঁচা ধানগাছ কেটে নিচ্ছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গত দুই দিনে সুখেরবাতি ও মধ্যপাড়া এলাকায় অন্তত ১০ একর আবাদি জমি নদে বিলীন হয়েছে। নতুন করে ভাঙনের মুখে পড়েছে আরও ২০০ থেকে ২৫০ বিঘা ফসলি জমি। দ্রুত ভাঙন ঠেকানো না গেলে এসব জমির ফসল হারানোর পাশাপাশি নিঃস্ব হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।
বিজ্ঞাপন
এলাকাবাসী জানান, গত এক বছরে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে কয়েক শ একর আবাদি জমি ও শতাধিক বসতভিটা বিলীন হয়েছে। এ ছাড়া শৌলমারী ইউনিয়নের চারিপাড়া, বয়াতিপাড়া, শেখের বাজার এবং চর খেদাইমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আশপাশের বিস্তীর্ণ বসতি এলাকা ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দা তন্ময় হাসান তোতা বলেন, গত এক বছরে আমাদের প্রায় ৪০ একর আবাদি জমি নদে চলে গেছে। সুখেরবাতি ও মধ্যপাড়ায় দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পাশের চর খেদাইমারীতে বস্তা ফেলা হলেও সুখেরবাতি এলাকায় ভাঙন ঠেকাতে উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
বিজ্ঞাপন

আরেক ভুক্তভোগী জেলহক বলেন, গত দুই দিনে হঠাৎ ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন বেড়েছে। ধানগাছে থোড় এসেছে, এর মধ্যেই ভাঙন শুরু হয়েছে। আমার প্রায় দেড় একর জমি ভাঙনের কবলে পড়েছে। এখন উপায় না পেয়ে ধানগাছ কেটে নিচ্ছি।
একই এলাকার নগর আলী ও সবুর নাইয়া বলেন, এই জমিতে ফসল ফলিয়ে সংসার চালাতাম। অনেক কষ্টে ঋণ করে ধানের চারা কিনে রোপণ করেছি। সার ও জ্বালানিতেও অনেক টাকা খরচ হয়েছে। এখন ধানের থোড় আসার সময় নদী সব শেষ করে দিল। আগামী বছর ভাত খাওয়ার ধানও থাকবে না।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানো না গেলে শত শত কৃষক জমি ও ফসল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়বেন।
বিজ্ঞাপন
চর শৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একেএইচএম সাইদুর রহমান বলেন, গত দুই দিন ধরে ব্রহ্মপুত্র নদে ব্যাপক ভাঙন চলছে। ইউনিয়নের ৬, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভাঙন দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড অল্প কিছু বস্তা ফেললেও সেগুলো নদে চলে যাচ্ছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, অর্থ সংকটের কারণে আপাতত চর প্রতিরক্ষার কাজ করার সুযোগ নেই। মূল নদের তীর রক্ষায় তাদের বেশি গুরুত্ব দিতে হচ্ছে।
রোকনুজ্জামান মানু/কেএইচকে/জেআইএম
ফলো করুন
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন jagofeature@gmail.com ঠিকানায়।
