ক্রীড়া ডেস্ক
আপডেট :
১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৯: ৫৩
তৃতীয় দিন শেষেই ম্যাচের নাটাই ছিল বাংলাদেশের হাতে। চতুর্থ দিন শেষে জয়ের অপেক্ষা। কিন্তু সে অপেক্ষা আর শেষ হলো না! জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত জিততে না পারার যন্ত্রণা বাংলাদেশ দলের। নিরপেক্ষ ভেন্যুতে নিজেদের প্রথম টেস্টে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ড্র করেছে বাংলাদেশ।
রেকর্ড ৪৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় আগের দিনই ৩ উইকেট খুইয়ে ফেলা আফগানিস্তান আবুধাবি টেস্টের শেষ দিনটি পার করেছে ২ উইকেট হাতে রেখেই। ৮ উইকেটে ৩৪৬ রান তুলে ড্রয়ের কৃতিত্ব নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা।
আফগানিদের এই ড্রয়ের কৃতিত্বে ‘অবদান’ কি বাংলাদেশের ফিল্ডারদেরও নেই। উইকেটে মরু ক্যাকটাসের মতো মাটি কামড়ে পড়ে থাকা সেদিকুল্লাহ আতালকে ফিরিয়ে দেওয়ার পর তখনো দিনের খেলা বাকি ছিল ২১ ওভার। এই সময়ে পাওয়া সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারলে ফল অন্য রকমও হতে পারত। অন্তত প্রবল চাপ সৃষ্টি করা যেত আগফানদের ওপর। আফগানিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসের ১২২তম ওভারে পরপর দুই বলে রানআউটের সুযোগ হাতছাড়া করে বাংলাদেশ। ১৩১তম ওভারে ডিপ মিডউইকেটে কাইস আহমেদের ক্যাচ মিস করেন হাসান মাহমুদ। পরে ১৩৭তম ওভারে ইয়ামিন আহমেদজাইকে মিরাজ ফেরালেও ততক্ষণে কমে এসেছে ম্যাচের আয়ু। দিনের অবশিষ্ট সময় পার করে দেন কাইস ও জিয়া-উর-রহমান। ৮০ বলে ৪৯ রান করে অপরাজিত থাকেন কাইস। জিয়া শূন্য রানে অপরাজিত থাকলেও খেলেছেন ১২ বল।
টেস্টের শেষ দিনে আজ প্রথম উইকেটের জন্য বাংলাদেশকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ১৬৩ বল। দিনের শুরুতে ৩ উইকেটে ১৩২ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে আফগানিস্তান। দ্রুতই উইকেট পাওয়ার সুযোগ এসেছিল বাংলাদেশের সামনে। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে শর্ট লেগে আতালের ক্যাচ নিতে পারেননি তানজিদ তামিম। তখন আতালের রান ৩৭। সেই জীবন কাজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে বাংলাদেশের জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে ওঠেন তিনি।
এরপর চোটের কারণে মাঠ ছাড়েন আফগান অধিনায়ক হাশমাতউল্লাহ শাহিদি। তাঁর বদলে নামা ইকরাম আলী খিলকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন আতাল। দুজনের জুটি ভাঙতে বাংলাদেশকে বেশ লম্বা সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। ইকরাম ৩৩ রান করে আউট হলে ভাঙে তাঁদের ৬৬ রানের জুটি। ইবাদত হোসেনের শর্ট বল খেলতে গিয়ে ঠিকমতো হয়নি। বাজপাখির ক্ষীপ্রতায় বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন লিটন দাস। লাঞ্চের ঠিক আগে নেওয়া সেই ক্যাচে নতুন উদ্যম পায় বাংলাদেশ।
এই ক্যাচে একটা রেকর্ডও গড়েছেন লিটন। আবুধাবি টেস্টের দুই ইনিংসে ৫৩ ও ১০২ রান ও ৮ ডিসমিসাল নিয়ে আগের দিনই ছুঁয়ে ফেলেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার ডেনিস লিন্ডসের (৬৯ + ১৮২ রান+ ৮ ডিসমিসাল) কীর্তি। ইকরামের ক্যাচ নিয়ে লিন্ডসেকেও ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড গড়লেন লিটন।
লাঞ্চ বিরতির পরও আতালকে থামানো যায়নি। ব্যক্তিগত ৬৬ রানে একবার ব্যাট স্টাম্পে লাগতে লাগতেও বেঁচে যান। ৭০ রানে থাকতে লিটনের হাতে স্টাম্পিংয়ের সুযোগও তৈরি হয়েছিল, সেটিও কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। একের পর এক জীবন পেয়ে শেষ পর্যন্ত ২৭৭ বলে তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি। হাসান মাহমুদকে পুল করে চার মেরে তিন অঙ্ক ছোঁন তিনি।
আতালের সেঞ্চুরির পর অবশ্য পরপর দুই উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। ৬০ বলে ৪ রান করা ইসমাত আলমকে স্লিপে শান্তর ক্যাচ বানান মিরাজ। এরপর আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করা হাসমতউল্লাহও ফেরেন তাঁর বলে। মিড অনে হাসান মাহমুদকে ক্যাচ দিয়ে ৬৯ বলে ৩৬ রান করে ফেরেন তিনি। দ্বিতীয় সেশনে মিরাজের জোড়া আঘাতে আবারও জয়ের সম্ভাবনা জাগে বাংলাদেশের।
তবে তখনো উইকেটে কাঁটা হয়ে ছিলেন আতাল। ২৯৯ বলে ১০৫ রান নিয়ে যান চাবিরতিতে। বিরতি থেকে ফেরার ১১তম ওভারে বাংলাদেশ শিবিরকে স্বস্তি দিয়ে মাঠ ছাড়েন আফগান এই ওপেনার। তাঁকে ফেরান তাইজুল। তাঁর বলে শর্ট লেগে ফিল্ডারের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন আফগান এই ওপেনার। ফিল্ডারদের আবেদনে আম্পায়ার আউট দিয়ে দিলে রিভিউ নিয়েছিলেন। তবে রিপ্লেতে দেখা যায়, বল ব্যাটে লেগেছে। এর আগে বেশ কয়েকবার জীবন পাওয়া আতাল শেষ পর্যন্ত ৩৩২ বলে ১১১ রান করেন। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটাই তাঁর প্রথম সেঞ্চুরি। ৯টি চার ও ৩টি ছয়ে সাজানো তাঁর ইনিংস।
আতালকে ফেরানোর পর বাংলাদেশ শিবির উজ্জীবিত হলেও তা কাজে আসেনি। দিনের অবশিষ্ট সময় আর একটি উইকেট হারিয়ে পার করে দেন আফগান টেল এন্ডাররা।
বিষয়:

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন
পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

