চট্টগ্রামে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ভিডিওর সূত্রে একটি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের তথ্য দিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ বলছে, যাত্রীবেশে ভাড়া নিয়ে নির্জন স্থানে পৌঁছার পর চালকের গলায় গামছা পেঁচিয়ে খুন করা হয়। এরপর লাশ বিলে ফেলে দিয়ে ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে পালিয়ে যায় খুনিরা।
কিন্তু ঘটনার পর কোনো সূত্র মিলছিল না। পরে যেখান থেকে রিকশাটি ভাড়া নেওয়া হয় সেখান থেকে ঘটনাস্থল পর্যন্ত দুইশ সিসি টিভি ক্যামেরার ভিডিও জোগাড় করে তারা।
পরে এসব ভিডিও বিশ্লেষণ করে জানতে পারে যাত্রীবেশে রিকশায় ওঠা দুজনই খুন করেছেন রিকশারচালক আব্দুল নুর তুষারকে।
পরে বৃহস্পতি ও শুক্রবার হাটহাজারীর চৌধুরীহাট, সন্দ্বীপ কলোনি ও ঠাণ্ডাছড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এরমধ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুজন হলে-২৩ বছর বয়সি ইমরান হোসেন আপন ও ২৫ বছর বয়সি মো. রাসেল।
এছাড়া ছিনিয়ে নেওয়া রিকশা কেনাবেচায় জড়িত গ্যারেজ মালিক ৩৬ বছর বয়সি আকতার হোসেন, ২৫ বছর বয়সি মো. বাবলু, ২৫ বছর বয়সি মো. মারুম. ৩৫ বছর বয়সি গোলাম মোস্তফা এবং ২৫ বছর বয়সি মো. আলাউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শনিবার চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।
খুন হওয়া রিকশারচালক ২২ বছর বয়সি তুষার নগরীর বায়েজীদ বোস্তামি এলাকার বাসিন্দা।
১ অক্টোবর বিকালে হাটহাজারী থানার চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের যোগীরহাট থেকে খন্দকিয়া বাজারগামী রাস্তার পাশের বিল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তুষারের গলায় রশি ও গামছা পেঁচানো ছিল। তবে সেদিন ঘটনাস্থলে তার রিকশাটি পাওয়া যায়নি। এর দুদিন আগে থেকে তার খোঁজ মিলছিল না।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, “বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন কুলগাঁওয়ের সাদ-মুছা গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির সামনে থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে যাত্রীবেশে দুজন ব্যক্তি তুষারের অটোরিকশাটি ভাড়া করে।
“এক পর্যায়ে যোগীরহাট থেকে খন্দকিয়া বাজারগামী ইটের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় নীরব একটি স্থানে অটোরিকশাটি থামায়। যাত্রীবেশি দুজন বাড়ি থেকে কিছু জিনিসপত্র নিয়ে আসার কথা বলে তারা গাড়ি থেকে নামে। তখন তারা দুজন পিছন থেকে গামছা দিয়ে তুষারের গলায় ফাঁস দেয়। হত্যার পর বিলের পানিতে তুষারের লাশ রেখে তারা অটোরিকশাটি নিয়ে চলে যায়।”
পরে পরিবার থেকে পুলিশকে জানায়, তুষারকে পাওয়া যাচ্ছে না। দুদিন পরে অর্ধগলিত অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়।
এরপর হাটহাজারী থানা পুলিশ ও হাটহাজারী সার্কেলের সমন্বয়ে একটি দল গঠন করা হয়।
পুলিশ সুপার বলেন, “ঘটনাস্থলে আমরা অটোরিকশাটি পাইনি। পরে বায়েজিদ বোস্তামি থেকে ঘটনাস্থল পর্যন্ত দুইশ সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। ফুটেজ দেখে জানা যায়, রাত ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে এই ঘটনাটা ঘটে। ঘটনার সাথে জড়িত দুজনকে আমরা চিহ্নিত করি।
“বৃহস্পতিবার এ ঘটনায় ইমরান হোসেন আপনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার সাথে ছিলেন সোহেল। যাত্রীবেশে এ দুজনই ছিলেন। মূল টার্গেট ছিল ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাটি। সেটি বিক্রি করলে নগদ কিছু টাকা পাবে।”
তিনি বলেন, “তারা অটোরিকশা একটি গ্যারেজে নিয়ে যায়। সেখানে রিকশার বডি কেটে ফেলে। কিছু অংশ আমরা উদ্ধার করে নিয়ে আসি। গ্যারেজ মালিক আকতার ও তার সাথে আছে বাবলু। এরা জানে, একজন অটোরিকশা চালককে মেরে এই গাড়িটি নেওয়া হয়েছে।
“অটোরিকশা কেনাবেচায় জড়িত হিসেবে মোট পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আপনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। সে আমাদের কাছে প্রাথমিকভাবে দোষ স্বীকার করেছে।”
পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, “অল্প কিছু টাকার জন্য একজন সাধারণ রিকশাচালক যে রাতদিন পরিশ্রম করে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করত, তাকে হত্যা করা হয়েছে। খু্বই দুঃখজনক ঘটনা। হয়ত সব মিলে এক লাখ টাকাও হবে না।”
হাটাহাজারীর ঠাণ্ডাছড়ি এলাকার একটি ওয়ার্কশপ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া রিকশার ব্যাটারি ও বডির অংশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
অপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং আইনগত সকল পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান পুলিশ সুপার।
