দুর্গাপুজোর মণ্ডপে চরণামৃত খেয়েছিলেন বহু ভক্ত। কারও অসুস্থ হয়ে পড়ার খবরও পাওয়া যায়নি। তবে, আচমকাই আতঙ্ক ছড়ায় একটি গরুর মৃত্যুতে। রটে যায়, গরুটিকে নাকি একটি কুকুর কামড়ে দিয়েছিল। পরে তার মৃত্যু হয়। আতঙ্ক ছড়ায়, যদি গরুটির জলাতঙ্ক হয়ে থাকে, তা হলে তার দুধ দিয়ে তৈরি চরণামৃত যাঁরা খেয়েছেন, তাঁরাও আক্রান্ত হবেন না তো ? খবর, এর পরই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে প্রায় ৪৫০ জনকে দেওয়া হয় অ্যান্টি-রেবিস ভ্যাকসিন।
উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরের ঘটনায় দাদি খাস এবং পাশের গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। মৃত গরুটির মালিক নবমী যাদবের মতে, গত দু’এক দিন ধরে গরুটিকে অসুস্থ দেখাচ্ছিল। কিন্তু, মঙ্গলবার তার অবস্থার অবনতি ঘটে। তিনি অবশ্য দাবি করেছেন, কোনও পথকুকুর আদৌ গরুটিকে কামড়েছিল কিনা, তা তিনি জানেন না।
গোরক্ষপুর জেলার গোলা ব্লকের দাদি খাস গ্রামের ওই ঘটনার ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে। সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, মঙ্গলবার একটি কমিউনিটি হেল্থ সেন্টারে প্রায় ৫০ জনকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। বুধবার গ্রামেই একটি শিবির করে আরও প্রায় ৪০০ জনকে টিকা দেওয়া হয়। পশুচিকিৎসকদের সন্দেহ, কোনও কুকুর গরুটিকে কামড়ে থাকতে পারে। এর ফলেই ছড়ায় আতঙ্ক।
বুধবার ওই গ্রামে টিকাকরণ শিবির আয়োজন করা হয়। সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আধিকারিক অমরেন্দ্র ঠাকুর বলেন, “যাঁরা উদ্বিগ্ন, তাঁদের চিকিৎসকের পরামর্শ মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। টিকার প্রয়োজন হলে নির্ধারিত সময়সূচি মেনে নির্দিষ্ট টিকা নিতে হবে।” পশুচিকিৎসকদের দাবি, “গরুটির উপসর্গ দেখে জলাতঙ্ক বলে মনে হলেও, শুধু উপসর্গ দেখে রোগ নিশ্চিত করা যায় না। তার জন্য উপযুক্ত চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োজন।” গোরক্ষপুরের ডেপুটি চিফ মেডিক্যাল অফিসার রাজেশ কুমার বলেন, “গরুটি মারা যাওয়ায় লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। তাই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ৪৫০ জনকে জলাতঙ্কের টিকা দেওয়া হয়েছে। দই তৈরি এবং পরবর্তীতে চরণামৃতের সঙ্গে মেশানোর আগে দুধ সম্ভবত ফুটিয়ে নেওয়া হয়েছিল। আতঙ্কিত হওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। দুধ ফোটালে ভাইরাসটি ধ্বংস হয়ে যায়।” তিনি আরও জানান, বাসিন্দাদের ভয়ের কারণেই কর্তৃপক্ষ টিকার ব্যবস্থা করেছেন।
