প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে অবমানকর মন্তব্যের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছিল লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধীর বিরুদ্ধে। নিম্ন আদালতে ওই মামলার বিচারপ্রক্রিয়ার উপর সাময়িক স্থগিতাদেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে মহারাষ্ট্র সরকার এবং অভিযোগকারীকে নোটিস জারি করেছে শীর্ষ আদালত। চার সপ্তাহের মধ্যে সেই নোটিসের জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলাটি আট বছরের পুরনো। বিতর্কের সূত্রপাত ২০১৮ সালে। রাফাল চুক্তি বিতর্কের মাঝেই সেই বছরে সেপ্টেম্বরে রাজস্থানে এক জনসভায় রাহুলের করা কিছু মন্তব্যে আপত্তি তোলে বিজেপি। তাদের অভিযোগ, রাহুল প্রধানমন্ত্রীকে ‘চোরেদের সর্দার’ বলেছেন। অভিযোগকারী বিজেপি কর্মী শ্রীশ্রীমলের মতে, রাহুলের মন্তব্যগুলি মানহানিকর ছিল। এতে মোদীর সুনাম এবং ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে। তাঁর আরও দাবি, রাহুলের মন্তব্যের পর সমাজমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ‘ট্রোল’ বা মশকরা করা হয়, যা অনভিপ্রেত। অভিযোগকারী এ-ও দাবি করেন, রাহুলের ‘চোরেদের সর্দার’ মন্তব্য বিজেপি সদস্যদের ভাবাবেগে আঘাত করেছে। দল এবং দলীয় কর্মীদের সুনাম নষ্ট করেছে।
শ্রীশ্রীমল মুম্বইয়ের গিরগাঁওয়ের একটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। ২০১৯ সালের অগস্টে ওই আদালতের তৎকালীন ম্যাজিস্ট্রেট রাহুলকে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেন। ২০২১ সালে রাহুলকে সমন পাঠানো হয়েছিল। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে বম্বে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন কংগ্রেস নেতা। তাঁর যুক্তি ছিল, তিনি কোনও ভাবেই বিজেপির নাম উল্লেখ করেননি। কাউকে নিশানা করে কোনও মন্তব্য করেননি। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে যে মানহানির অভিযোগ উঠেছে তা ভিত্তিহীন। সেই মামলা খারিজের আবেদন করেছিলেন রাহুল।
দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পর হাই কোর্ট গত ৮ সেপ্টেম্বর রাহুলের আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালতের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিলেন রাহুল। সেই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট অন্তর্বর্তিকালীন নির্দেশ দিল। বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি অপরেশকুমার সিংহের বেঞ্চ মঙ্গলবার নিম্ন আদালতের কার্যক্রমের উপর সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করল।
