একই দিনে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক অভিযানে প্রায় ৫ কোটি টাকা মূল্যের স্বর্ণ ও স্বর্ণপেস্টের বস্তু উদ্ধার করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। এর মধ্যে চট্টগ্রামে ফ্রাইপ্যান ও সবজি গ্রেটারের ভেতরে লুকানো ৪টি স্বর্ণবার এবং ঢাকায় দুই যাত্রীর রেক্টামে লুকানো ডিম্বাকৃতির ৬টি স্বর্ণপেস্টের বস্তু উদ্ধার করা হয়।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৭টায় আবুধাবি থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের বিএস৩৫০ ফ্লাইটে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন যাত্রী কামরুল ইসলাম। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা আগে থেকেই গ্রিন চ্যানেলে সতর্ক অবস্থানে ছিলেন।
ওই যাত্রী ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার বহনের ঘোষণা দিলেও অতিরিক্ত স্বর্ণ থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে অন্যান্য সংস্থার উপস্থিতিতে তাঁর ব্যাগেজ তল্লাশি করা হয়। এ সময় ফ্রাইপ্যান ও সবজি গ্রেটারের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকানো ৪টি খণ্ডিত স্বর্ণবার উদ্ধার করা হয়, যেগুলোর মোট ওজন ৪৬৬ গ্রাম। ঘোষিত ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকারসহ মোট ৫৬৬ গ্রাম স্বর্ণ আটক করা হয়। উদ্ধার করা স্বর্ণের শুল্ক-করসহ আনুমানিক মূল্য ৯৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
এদিকে একই দিন সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে মালদ্বীপ থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের বিএস৩৩৮ ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন দুই যাত্রী মোহাম্মদ সোলাইমান ও জোবায়েদ আহমদ। তাঁদের প্রত্যেকের রেক্টামে লুকানো অবস্থায় ৩টি করে মোট ৬টি ডিম্বাকৃতির স্বর্ণপেস্টের বস্তু উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার করা ছয়টি বস্তুর মোট প্রাথমিক ওজন ২ কেজি ৭৩৪ গ্রাম। এগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা। তবে এসব বস্তুতে প্রকৃত স্বর্ণের পরিমাণ ও মূল্য এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ ঘটনায় যাত্রীদের আটক করে মামলা করা হয়েছে। আলামতের যথাযথতা সংরক্ষণের স্বার্থে উদ্ধার করা স্বর্ণপেস্টের বস্তুগুলো অবিকৃত রাখা হয়েছে। উপযুক্ত পরীক্ষার পর এগুলোতে বিশুদ্ধ স্বর্ণের পরিমাণ ও প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর গোপন তথ্য, নিবিড় নজরদারি ও ঝুঁকিভিত্তিক যাত্রী তল্লাশির মাধ্যমে স্বর্ণ চোরাচালান প্রতিরোধে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
এমএম/
