চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভবনের মূল ফটকে তালা দেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত উপাচার্যসহ ভেতরে থাকা ১০ থেকে ১২ জন বের হতে পারেননি।
এর আগে সোমবার সকালে চুয়েট শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে প্রশাসনিক ভবনের ফটকের তালা ভেঙে নিজের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম। খবর পেয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাঁকে দুপুর ১২টার মধ্যে ভবন ছাড়ার সময় বেঁধে দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি বের না হওয়ায় আধা ঘণ্টা পর ফটকে তালা দেন তাঁরা।
ভবনের ভেতরে উপাচার্যের সঙ্গে চুয়েট শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ, কয়েকজন নেতা-কর্মী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাবেক শিক্ষার্থী রয়েছেন। অবরুদ্ধ অবস্থায় ভবনটির পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগও বন্ধ করে দেওয়া হয়।
সোমবার সন্ধ্যায় ভবনের নিচে নেমে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন উপাচার্য। তবে শিক্ষার্থীরা তাতে সাড়া দেননি। উল্টো তাঁর বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। পরে তিনি আবার ভবনের ওপরের তলায় চলে যান।
ভবনের পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ থাকার কথা জানিয়ে উপাচার্য গণমাধ্যমকে বলেন, “আমাদের এই ভবনে যে ইউটিলিটি সার্ভিস বন্ধ। পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস—এগুলো চালু করে তারা তাদের আন্দোলন চলমান রাখুক।”
চুয়েট শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ সোমবার সন্ধ্যায় বলেন, উপাচার্যের সঙ্গে ভবনের ভেতরে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও অ্যালামনাই সদস্যসহ ১০ থেকে ১২ জন রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চার-পাঁচজন শিক্ষার্থী।
তিনি বলেন, “উপাচার্য স্যার কার্যালয়ে ওভাবেই আছেন। এখানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, অ্যালামনাইসহ আমরা ১০-১২ জন আছি। উপাচার্য ভবনের পানি-বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। এই অবস্থাতেই আমরা ভেতরে আছি।”
ভবনের ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের জন্য সোমবার সন্ধ্যায় কলা, পাউরুটি, বিস্কুট ও পানির বোতল পাঠান আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। তবে খাবার দেওয়ার বিষয়ে তাঁরা জানেন না বলে জানান ওয়াসিফ রাশেদ।
রাত দেড়টার দিকে ভবনের ভেতরে একজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে চুয়েটের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক মো. আবদুল্লাহ সেখানে যান। তাঁর সঙ্গে সাংবাদিকেরাও ভবনে প্রবেশ করেন। চিকিৎসক প্রকৌশলী শাহরিয়ারের রক্তচাপ পরীক্ষা করে সিস্টোলিক চাপ ১৭০ ও ডায়াস্টোলিক চাপ ১০০ মিলিমিটার পারদ পান। পরে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ভবনের ভেতরে আরও একজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানান চিকিৎসক। উপাচার্য শেখ শরীফুল আলমও বলেন, ভেতরে থাকা দুজন অ্যালামনাই সদস্য উচ্চ রক্তচাপের জটিলতায় ভুগছেন। তাঁদের জন্য তিনি অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসক ডেকেছেন।
সোমবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন করে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। রাতভর প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান করার পর মঙ্গলবার সকালেও তাঁদের কর্মসূচি চলছিল।
গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে এবং সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে পরদিন থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এতে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
এদিকে, শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শাটডাউন কর্মসূচির মধ্যে ক্যাম্পাসে আসার সময় শিক্ষার্থীদের বহনকারী দুটি বাসে হামলা হয়েছে। সোমবার মদুনাঘাট ও চান্দগাঁও এলাকায় পৃথকভাবে এসব হামলার ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেন এক শিক্ষার্থী।
The post তালাবদ্ধ ভবনে ২১ ঘণ্টা অবরুদ্ধ চুয়েট উপাচার্য appeared first on সুপ্রভাত বাংলাদেশ.
