রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলায় দীর্ঘ ১২ বছর আগে ঘর থেকে চুরি হওয়া সোনার গহনা চট্টগ্রাম থেকে উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। গহনা চুরির অমীমাংসিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে দম্পতির সংসার ভেঙে যাওয়ার পর অবশেষে বেরিয়ে এসেছে থলের বিড়াল। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে লংগদু থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয় ও পারিাবরিক সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালে বাঘাইছড়ি উপজেলার আমতলী ইউনিয়নের খেদারমারা এলাকার চান মিয়ার মেয়ে সাবিনা ইয়াসমিনের সঙ্গে লংগদুর মাইনীমুখ এলাকার মো. রমজানের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় সাবিনাকে দেনমোহরসহ মোট ৪ ভরি ৪ আনা ১ রতি সোনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ২০১২ সালে নিজ ঘর থেকেই সেই সোনা চুরি হয়ে যায়। ওই সময় অনেক খোঁজাখুঁজি করেও গহনার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
সোনা চুরির এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রতিনিয়ত পারিবারিক অসন্তোষ ও সন্দেহ দানা বাঁধতে থাকে। দীর্ঘ টানাপোড়েনের একপর্যায়ে ২০২৪ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ (ডিভোর্স) ঘটে।
তবে বিচ্ছেদের পর ২০২৪ সালেই সাবিনা ইয়াসমিন ও তাঁর সাবেক স্বামী জানতে পারেন, চুরির সঙ্গে রমজানের বড় ভাই আবু হানিফ (মাইনীমুখ বাজারের ‘ঢাকা বীজ ভাণ্ডার’-এর মালিক) ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা জড়িত। তাঁরা চুরিকৃত সোনা চট্টগ্রামের একটি জুয়েলার্সে বন্ধক রেখেছিলেন।
চট্টগ্রামের ‘উমা জুয়েলার্স’-এর মালিক অমল বাবু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ২০১২ সালের ১৫ মে এক ভরি তেরো আনা তিন রতি সোনা বিক্রির জন্য আনা হয়েছিল। মেমো না থাকায় ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে সেটি বন্ধক রাখা হয়। সে সময় আবু হানিফ, রাবেয়া ও মেহরাজ উপস্থিত ছিলেন এবং মেহরাজের নামে ও স্বাক্ষরে সোনাটি খাতায় এন্ট্রি করা হয়।
ভুক্তভোগী সাবিনা ইয়াসমিন সোনা চুরি ও মূল অপরাধীদের সন্ধান পেয়ে গত ১৬ সেপ্টেম্বর (২০২৬) লংগদু থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
এ ব্যাপারে লংগদু থানা পুলিশ জানায়, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব
