মৃত্যুর পর মানুষ যেভাবে অনুশোচনায় ভুগবে
-
মুফতি ওমর বিন নাছির - আপডেট সময় ০৮:২৮:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
মানুষ দুনিয়ায় বেঁচে থাকতে কত কিছু নিয়েই ব্যস্ত থাকে—অর্থ, সম্পদ, ব্যবসা, চাকরি, বাড়ি-গাড়ি, পরিবার, সম্মান আর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। অথচ জীবনের সবচেয়ে নিশ্চিত সত্য—মৃত্যু—নিয়ে ভাবার সময় যেন তার নেই।
মানুষ মনে করে, ‘আরো সময় আছে’, ‘পরে তাওবা করব’, ‘বুড়ো হলে ইবাদত করব’, ‘এখন একটু জীবন উপভোগ করি’। কিন্তু একদিন সেই ‘পরে’ আর আসে না।
মৃত্যুর পর যখন মানুষের সামনে আখিরাতের বাস্তবতা উন্মোচিত হবে, তখন সে দুনিয়ার জীবনের কথা ভেবে আফসোস করতে থাকবে। আল্লাহ বলেন, ‘অবশেষে যখন তাদের কারও মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন সে বলে, হে আমার রব! আমাকে ফিরিয়ে দিন।
যাতে আমি যা ছেড়ে এসেছি, সেখানে সৎকাজ করতে পারি। কখনোই নয়! এটা তো তার একটি কথামাত্র। তাদের সামনে রয়েছে বারযাখ, পুনরুত্থানের দিন পর্যন্ত।’ (সুরা : মুমিনুন, আয়াত : ৯৯–১০০)
মৃত্যুর পর মানুষের ৭ অনুশোচনা
১. ‘হায়! আমি যদি মাটি হয়ে যেতাম!’
কিয়ামতের ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করে অবিশ্বাসী ব্যক্তি এমন আফসোস করবে যে, সে যদি মাটিই হয়ে যেত! আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর কাফির বলবে, হায়! আমি যদি মাটি হয়ে যেতাম!’ (সুরা : নাবা, আয়াত : ৪০)
২. ‘হায়! আমি যদি আখিরাতের জন্য কিছু করতাম!’
মৃত্যুর পর মানুষ সবচেয়ে বড় যে সত্যটি উপলব্ধি করবে, তা হলো—দুনিয়ার জীবন ছিল আখিরাতের প্রস্তুতির সময়।
আল্লাহ বলেন, ‘সে বলবে, হায়! আমি যদি আমার জীবনের জন্য কিছু আগে পাঠাতাম!’ (সুরা : ফাজর, আয়াত : ২৪)
৩. ‘হায়! আমাকে যদি আরেকবার সুযোগ দেওয়া হতো!’
মৃত্যুর মুহূর্তে মানুষ ফিরে আসার আকুতি জানাবে। কোরআনের ভাষায়, ‘হে আমার রব! আমাকে ফিরিয়ে দিন, যাতে আমি সৎকাজ করতে পারি।’ (সুরা : মুমিনুন, আয়াত : ৯৯–১০০)
৪. ‘হায়! আমি যদি অমুককে বন্ধু না বানাতাম!’
মানুষের জীবনে বন্ধুত্বের প্রভাব অত্যন্ত গভীর। ভালো বন্ধু মানুষকে আল্লাহর দিকে নিয়ে যায়, আর অসৎ সঙ্গী তাকে ধীরে ধীরে গুনাহের পথে ঠেলে দিতে পারে। কিয়ামতের দিন একজন আফসোস করে বলবে, ‘হায় আমার দুর্ভাগ্য! আমি যদি অমুককে অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ না করতাম!’ (সুরা : ফুরকান, আয়াত : ২৮)
পরের আয়াতে তার আফসোসের কারণও বলা হয়েছে, ‘আমার কাছে উপদেশ আসার পর সে আমাকে তা থেকে বিচ্যুত করে দিয়েছিল।
’ (সুরা : ফুরকান, আয়াত : ২৯)
৫. ‘হায়! আমরা যদি আল্লাহর আনুগত্য করতাম!’
কিয়ামতের দিন অবাধ্য মানুষ উপলব্ধি করবে—আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করার মধ্যে কোনো প্রকৃত স্বাধীনতা ছিল না; বরং সেটিই ছিল তার ধ্বংসের কারণ। আল্লাহ বলেন, ‘যেদিন আগুনে তাদের মুখমণ্ডল উল্টেপাল্টে দেওয়া হবে, সেদিন তারা বলবে, হায়! আমরা যদি আল্লাহর আনুগত্য করতাম এবং রাসুলের আনুগত্য করতাম!’ (সুরা : আহজাব, আয়াত : ৬৬)
৬. ‘হায়! আমি যদি রাসুলের পথ অনুসরণ করতাম!’
কিয়ামতের দিন শুধু আল্লাহর আনুগত্য না করার জন্যই নয়, রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর দেখানো পথ থেকে দূরে থাকার জন্যও মানুষ আফসোস করবে। আল্লাহ বলেন, ‘হায়! আমি যদি রাসুলের সঙ্গে একটি পথ অবলম্বন করতাম!’ (সুরা : ফুরকান, আয়াত : ২৭)
৭. ‘হায়! আমি যদি আমার রবের সঙ্গে কাউকে শরিক না করতাম!’
মানুষের সবচেয়ে ভয়াবহ অপরাধ হলো আল্লাহর সঙ্গে শরিক করা। দুনিয়ায় কেউ যদি শিরকের ভয়াবহতা উপলব্ধি না করে, আখিরাতে তার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই শিরক মহা জুলুম।’ (সুরা লুকমান, ৩১:১৩)
আর আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তুমি যদি শিরক করো, তবে অবশ্যই তোমার আমল নিষ্ফল হয়ে যাবে।’ (সুরা : জুমার, আয়াত : ৬৫)
ট্যাগস :
