বাজেটের ব্যয় মেটাতে চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসেই অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে প্রায় ১৯ হাজার ৬৬৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে নেওয়া হয়েছে প্রায় সাড়ে ১৫ হাজার কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই মাসের তুলনায় ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ বেড়েছে প্রায় ছয় গুণ। তবে ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে সরকারের নিট ঋণ গ্রহণ কমেছে। এ সময়ে ৪ হাজার কোটি টাকার মতো এসেছে ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে। সবমিলে গত জুলাই শেষে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণের স্থিতি বেড়ে প্রায় পৌনে ১২ লাখ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে এ ঋণের স্থিতি বেড়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।
সাধারণত বাজেটের আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান বা ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণ নেয় সরকার। এ ঋণের প্রধান উৎস দুটি— ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও ব্যাংকবহির্ভূত খাত। ব্যাংকিং ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক ও তফসিলি ব্যাংক। অন্যদিকে ব্যাংকবহির্ভূত উৎসের মধ্যে রয়েছে জাতীয় সঞ্চয় প্রকল্প, ব্যাংকের বাইরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কাছে থাকা ট্রেজারি বিল ও বন্ড এবং বাংলাদেশ সরকারি বিনিয়োগ সুকুক।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকারের নিট অভ্যন্তরীণ ঋণ গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই শেষে সরকারের নিট অভ্যন্তরীণ ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৭৫ হাজার ৫৮২ কোটি ৬০ লাখ টাকা। গত বছরের একই সময়ে এ ঋণের
পরিমাণ ছিল ১০ লাখ ৩০ হাজার ২৫৭ কোটি ১০ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণের স্থিতি বেড়েছে প্রায় ১৪ দশমিক ১ শতাংশ। এর মধ্যে শুধু চলতি অর্থবছরের জুলাই মাসেই অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সরকারের নিট ঋণ গ্রহণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৬৬৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এদিকে, জুনের তুলনায় জুলাইয়ে সরকারের নিট অভ্যন্তরীণ ঋণের স্থিতি বেড়েছে ১ দশমিক ৭ শতাংশ। জুন শেষে এ ঋণের স্থিতি ছিল ১১ লাখ ৫৫ হাজার ৯১৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এক মাস পর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৭৫ হাজার ৫৮২ কোটি ৬০ লাখ টাকায়।
ব্যাংক থেকে ঋণ বেড়েছে ছয় গুণ : সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণের বড় অংশই এসেছে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই মাসে ব্যাংক থেকে সরকারের নিট ঋণ গ্রহণ হয়েছে ১৫ হাজার ৫৭৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা। গত অর্থবছরের একই মাসে এ পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৫৬৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংক থেকে সরকারের নিট ঋণ গ্রহণ বেড়েছে প্রায় ছয় গুণ। ২০২৬ সালের জুলাই শেষে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে সরকারের নিট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার ৫৯৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা। গত বছরের জুলাই শেষে এ স্থিতি ছিল ৫ লাখ ৪৮ হাজার ৫৯৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এক বছরে এ খাতে ঋণের স্থিতি বেড়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭০ কোটি ১০ লাখ টাকা।
ব্যাংকবহির্ভূত উৎসে ঋণ কমেছে : ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে থেকে চলতি অর্থবছরের জুলাই মাসে সরকার নিট ৪ হাজার ৯২ কোটি ৪০ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছে। গত অর্থবছরের একই মাসে এ পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ৯৫৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে সরকারের নিট ঋণ গ্রহণ কমেছে ১ হাজার ৮৬৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা। জুলাই শেষে ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে সরকারের নিট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৭৯ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে এ স্থিতি ছিল ৪ লাখ ৮১ হাজার ৬৫৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এ খাতের ঋণের অন্যতম উৎস জাতীয় সঞ্চয় প্রকল্প। চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে এসব প্রকল্পের বিক্রি থেকে সরকারের নিট ঋণ গ্রহণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এ ছাড়া ট্রেজারি বিল, ট্রেজারি বন্ড ও বাংলাদেশ সরকারি বিনিয়োগ সুকুকের মাধ্যমে ব্যাংকের বাইরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কাছ থেকে সরকার নিট ২ হাজার ৩২ কোটি ৯০ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছে।
