ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) ৯ পয়েন্টের নিচে নেমে এসেছে গত সপ্তাহে। সেই হিসেবে পিই রেশিও হিসেবে ডিএসইতে বিনিয়োগ সম্পূর্ণ নিরাপদ বলে জানিয়েছেন পুঁজিবাজারের বিশ্লেষকেরা।
গত সপ্তাহে শনিবারসহ তিনদিন (রোববার ও সোমবার) পুঁজিবাজারে লেনদেন হয়েছিল। দুর্গাপূজার ছুটি সমন্বয়ের কারণে গত শনিবার পুঁজিবাজার খোলা ছিল। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পুঁজিবাজার গত ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত তিনদিন বন্ধ ছিল। এরপর দুইদিন শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে টানা পাঁচদিন ছুটি শেষে আগামী রোববার (২৫ অক্টোবর) পুঁজিবাজারে লেনদেন হবে।
ডিএসইতে খাতভিত্তিক হিসেবে ব্যাংক খাত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বেশি নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে। এই খাতের পর বিনিয়োগে নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে জ্বালানি শক্তি খাত। এই দুই খাতের পিই রেশিও ৬ পয়েন্টের মধ্যে অবস্থান করছে। সেই হিসেবে খাত দুটিতে বিনিয়োগ সবচেয়ে বেশি নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে। তবে খাতভিত্তিক হিসেবে বিনিয়োগ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে সিরামিক খাত।
এদিকে পুঁজিবাজারের কোনো কোম্পানির পিই রেশিও যদি সিঙ্গেল ডিজিটে থাকে, তাহলে সেখানে বিনিয়োগ সম্পূর্ণ নিরাপদ ধরে নেওয়া হয়। এ ছাড়া পিই রেশিও ডিজিট যদি ১৫ পয়েন্ট পর্যন্ত অবস্থান করে, তবে সেখানেও বিনিয়োগ নিরাপদ বলে ধরা হয়ে থাকে। তবে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনও (বিএসইসি) মার্জিন ঋণের যোগ্যতা হিসাবে সর্বোচ্চ ৪০ পিই রেশিও বেঁধে দিয়েছে। সেই হিসেবে ৪০ পর্যন্ত পিইধারীর শেয়ার বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ বলে জানায় বিএসইসি। গত সপ্তাহে ডিএসইর পিই রেশিও দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৬৬ পয়েন্ট। সেই হিসেবে ডিএসইতে বিনিয়োগ নিরাপদ অবস্থানে আছে। তেমনি বিনিয়োগ ক্ষেত্রে ডিএসইর বেশিরভাগ খাতই নিরাপদে রয়েছে।
গত সপ্তাহে ব্যাংক খাতটিতে পিই রেশিও অবস্থান করেছে পাঁচ দশমিক ২৭ পয়েন্টে। পিই রেশিও হিসেবে এই খাতের পরেই বিনিয়োগ নিরাপদে অবস্থান রয়েছে জ্বালানি শক্তি খাত। এই খাতের পিই রেশিও ছয় দশমিক ১০ পয়েন্টে অবস্থান করছিল। পিই রেশিও মিউচুয়াল ফান্ড খাতের সাত দশমিক ৮৮ পয়েন্টে অবস্থান করছিল। এরপর পিই রেশিও প্রকৌশল খাতের আট দশমিক ৫১ শতাংশ পয়েন্ট, ওষুধ ও রসায়ন খাতের ৯ দশমিক ৫১ পয়েন্ট এবং বিবিধ খাতের ১০ দশমিক ২৭ পয়েন্টে অবস্থান করছিল। অপরদিকে সিরামিক খাতের পিই রেশিও অবস্থান করছিল ২৬৯ দশমিক শূন্য এক পয়েন্টে। পিই রেশিও হিসেবে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সিরামিক খাতটি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে অবস্থান করেছে।
খাতভিত্তিক হিসেবে পিই রেশিও নন ব্যাংক আর্থিক খাতে ১০ দশমিক ৯৯ পয়েন্ট, টেলিকম খাতে ১২ দশমিক ৩৪ পয়েন্ট, সিমেন্ট খাতে ১৩ দশমিক ৫১ পয়েন্ট, বিমা খাতে ১৪ দশমিক ৮০ পয়েন্ট, চামড়া খাতে ১৫ দশমিক ৭৭ পয়েন্ট, বস্ত্র খাতে ১৬ দশমিক ৫৭ শতাংশ, খাদ্য আনুষঙ্গিক খাতে ১৭ দশমিক শূন্য এক পয়েন্ট, ভ্রমণ অবকাশ খাতে ১৭ দশমিক ২৫ পয়েন্ট, সেবা আবাসন খাতে ১৭ দশমিক ৫৫ পয়েন্ট, আইটি খাতে ২৩ দশমিক ১৭ পয়েন্ট, পেপার ও প্রিন্টিংয়ের ২৭ দশমিক ৪২ পয়েন্ট এবং পাট খাতে ৩০ দশমিক ২০ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
