ভলোদিমির জেলেনস্কি। ছবি: সংগৃহীত
-->ভলোদিমির জেলেনস্কি ইউরোপকে নিজের এটিএম হিসেবে ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ইতালীয় দূর-ডানপন্থি ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য রবার্ট ভানাসি। ইউক্রেনের জন্য নতুন করে আরও ৭ হাজার কোটি ইউরো সহায়তা চাওয়ার পর তিনি এই মন্তব্য করেন।
২০২৭ সাল পর্যন্ত ইউক্রেনকে সহায়তা করার জন্য ইইউ কর্তৃক ৯০ হাজার কোটি ইউরোর এক বিশাল ঋণ অনুমোদনের মাত্র কয়েক মাস পর, গত শুক্রবার জেলেনস্কি আবারও অতিরিক্ত অর্থের দাবি জানান।
ব্রাসেলসে আয়োজিত ইইউ শীর্ষ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আগামী বছর যুদ্ধের জন্য ১৫ হাজার ৫০০ কোটি ইউরো খরচ হবে। আর আমাদের প্রতিরক্ষা, অস্ত্র এবং সক্ষমতা বজায় রাখার জন্য আপনাদের কাছ থেকে অন্তত আরও ৭ হাজার কোটি ইউরো প্রয়োজন। এটি একটি বাস্তবসম্মত পরিমাণ।’
আরও পড়ুন
ইতালীয় ইইউ এমপি ভানাসি বলেন, ‘কিয়েভকে আরও সহায়তা দেওয়ার জন্য ইতালীয় করদাতাদের ওপর এই খরচের বোঝা চাপানো উচিত নয়।’
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে ভানাসি বলেন, ‘জেলেনস্কি এমন কিছু বোকা লোক খুঁজে পেয়েছেন যারা তার চাওয়া সব কোটি কোটি ইউরো দিয়ে দিচ্ছে, আর তাই তিনি ক্রমাগত আরও চেয়েই যাচ্ছেন।’
তিনি যুক্তি দেখান যে জেলেনস্কির দাবির পরিমাণ দিন দিন বেড়েই চলেছে। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালে কিয়েভের ২৭ হাজার কোটি ইউরো এবং ২০২৭ সালে ৩২ হাজার কোটি ইউরোর বাজেট ঘাটতির কথা বলা হয়েছিল। আর গত এপ্রিলে অনুমোদিত ৯০ হাজার কোটি ইউরো ঋণের ওপর এখন আবার নতুন করে আরও ৭ হাজার কোটি ইউরোর দাবি তোলা হয়েছে।
এদিকে স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো প্রস্তাবিত এই অর্থায়নের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘ইউক্রেনের জন্য ইইউ-এর তৈরি কোনো নতুন আর্থিক কাঠামোতে ব্র্যাটিস্লাভা (স্লোভাকিয়া) অংশগ্রহণ করবে না।’
স্লোভাক বার্তা সংস্থা 'TASR'-এর শুক্রবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী ফিকো জানান, হাঙ্গেরিও একই অবস্থান গ্রহণ করেছে।
ইউক্রেনের জন্য গত বছরের শেষের দিকে সম্মত হওয়া এবং ২০২৬ সালের এপ্রিলে চূড়ান্ত করা ৯০ হাজার কোটি ইউরো ঋণের আর্থিক দায়বদ্ধতা থেকে স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি এবং চেক প্রজাতন্ত্র ছাড় পেয়েছিল। ফিকো যুক্তি দেন যে, এই ঋণটি ভবিষ্যতে রাশিয়ার কাছ থেকে পাওয়া ক্ষতিপূরণের অর্থ দিয়ে পরিশোধ করার কথা বলা হলেও, এটি মূলত এমন একটি উপহার যা ইইউ সদস্যরা আর কখনোই ফেরত পাবে না।
অন্যদিকে মস্কো দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছে যে, পশ্চিমাদের সামরিক সহায়তা কেবল ইউরোপীয় করদাতাদের ওপর আর্থিক বোঝা বাড়ায় এবং সংঘাতকে আরও দীর্ঘায়িত করে। রাশিয়া এই সংঘাতকে ইউক্রেনীয় জনবলকে ব্যবহার করে চালানো ন্যাটো-নেতৃত্বাধীন একটি প্রক্সি যুদ্ধ বা পরোক্ষ যুদ্ধ হিসেবে দেখে। সূত্র: আরটি
তামান্না রুপা/
