ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) জগন্নাথ হল ট্র্যাজেডিতে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে জাতীয় ছাত্রশক্তি। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ আবাসিক হলগুলো অবিলম্বে সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি আবু বাকের মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক তাহমীদ আল মুদ্দাসসীর চৌধুরীর দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে নেতারা ১৯৮৫ সালের ১৫ অক্টোবর জগন্নাথ হলের তৎকালীন ‘অনুদ্বৈপায়ন ভবন’-এর ছাদ ধসে ৩৯ জনের প্রাণহানির মর্মান্তিক ঘটনা স্মরণ করেন।
তৎকালীন প্রশাসনের অবহেলার সমালোচনা করে তারা বলেন, ‘এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ছিল সে সময়ের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চরম অবহেলা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার ফল। ৬৪ বছরের পুরোনো, মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ একটি ভবনকে মেরামত না করে, উপরন্তু সেটিকে টিভিরুম হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়াই ডেকে এনেছিল এই নারকীয় ধ্বংসলীলা।’
অতীতের ওই ট্র্যাজেডি থেকে প্রশাসন কোনো শিক্ষা নেয়নি উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমানে সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল, সূর্যসেন হল এবং বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলসহ একাধিক হলের বহু ভবন চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এসব ভবনের পলেস্তারা খসে পড়ছে, রড বেরিয়ে এসেছে এবং দেয়ালে বড় ফাটল দেখা দিয়েছে, যা যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার জন্ম দিতে পারে।
বিবৃতিতে আরো অভিযোগ করা হয়, গত বছর ভূমিকম্পের পর শিক্ষার্থীরা নিরাপদ আবাসনের দাবিতে আন্দোলনে নামলে প্রশাসন হল সংস্কারের বাহানায় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে। কিন্তু এরপর কেবল রঙ করা ছাড়া হলের কোনো কার্যকর সংস্কার করা হয়নি। দিনের পর দিন শিক্ষার্থীদের জরাজীর্ণ ভবনে বসবাস করতে বাধ্য করা হচ্ছে।
অবিলম্বে ঝুঁকিপূর্ণ হলগুলো সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করে শিক্ষার্থীদের শতভাগ নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান ছাত্রশক্তির নেতারা। প্রশাসনকে হুঁশিয়ার করে তারা বলেন, জাতি আর কোনো ‘অক্টোবর ট্র্যাজেডি’ দেখতে চায় না।
এদিকে, দিবসটি উপলক্ষে এদিন সকালে জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সংসদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার পক্ষ থেকে জগন্নাথ হলের অক্টোবর স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে নিহতদের আত্মার শান্তি কামনায় এক বিশেষ প্রার্থনা সভার আয়োজন করে সংগঠনটি।
