পুজোয় রং মিলিয়ে শাড়ি পরবেন মা মধুমন্তী মৈত্র ও মেয়ে অনুষা বিশ্বনাথন। তিন দিনের সাজে থাকবে আধুনিকতা আর ঐতিহ্যের মেলবন্ধন। আবার উৎসবের মরসুমেও যে তাঁরা মনে রাখবেন সামাজিক দায়িত্ব, সে কথা বলবে তাঁদের সাজ। রইল মা-মেয়ের পুজোর সাজের তেমন কিছু ছবি।
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:০৫
০১ / ১৫
ক্যামেরা প্রস্তুত। মা ও মেয়ে দু’জনেই ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে। মুখে হাসি। কিন্তু ক্রমাগত একে অপরের সাজ ঠিক করে চলেছেন। নিজেদের নিয়ে তত বেশি সচেতন নন, যত বেশি একে অপরকে নিয়ে। মধুমন্তী মৈত্রের মন মেয়ের গয়না, ও শাড়ির আঁচলের দিকে। অনুষা বিশ্বনাথনের মন মায়ের শাড়ি আর চুলের দিকে। এমন ভাবে পোজ় দিচ্ছেন, যাতে কোনও ভাবে কারও সাজ নষ্ট না হয়। মাতৃপক্ষ শুরু হতেই মা-মেয়ের রসায়ন ফ্রেমবন্দি হল আনন্দবাজার ডট কম-এর ক্যামেরায়।
০২ / ১৫
পুজোর আগে দু’জনে হাজির হলেন মানসিক স্বাস্থ্য অধিকার সংগঠন ‘অঞ্জলি’র কর্মশালায়। যেখানে আবাসিকেরা নিজে হাতে ব্লক প্রিন্ট করে শাড়ি বানিয়েছেন। আর পুজোর সাজের জন্য সেখান থেকেই শাড়ি পছন্দ করে নিলেন মধুমন্তী এবং অনুষা। একে অপরকে শাড়ি বেছেও দিলেন তাঁরা।
০৩ / ১৫
মধুমন্তীর কথায়, ‘‘অনুষার উপরে এখন আগের তিন প্রজন্মের শাড়ির ভার।’’ তাই নানা অনুষ্ঠানে মা, দিদিমা, তাঁর মা এবং ঠাকুরমার শাড়িও বেছে নেন সাজের জন্য। এমনকি, তার মধ্যে কিছু শাড়ির বয়স প্রায় ১০০-১২৫ বছর। সুতো খুলে আসতে শুরু করেছে, কিন্তু তবু অভিজ্ঞতার জৌলুস হারায়নি। এখনও অনুষ্ঠানে গায়ে চড়ানো যায় এমন ‘ঐতিহাসিক’ শাড়িগুলি।
০৪ / ১৫
মধুমন্তীর প্রথম শাড়িটি নরম, হালকা রঙের। সুতির শাড়ির গা জুড়ে সোনালি-কমলা রঙের বাঘের মোটিফ। আর তার সঙ্গে সবুজ ডোরাকাটা পাড়। মানসিক রোগ থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা কয়েক জনের হাতে আঁকা ছবি বেছে নেওয়া হয়েছে কর্মশালায়। সে সব ছবিই শাড়িতে ছাপা হয়েছে। এই শাড়ির বাঘ তার মধ্যে একটি।
০৫ / ১৫
অনুষার শাড়িতে বাঘের মাসি, অর্থাৎ, বিড়ালের মোটিফ। সাদাটে শাড়ি জুড়ে উজ্জ্বল হলুদ পোলকা ডট আর রেখাচিত্রে আঁকা বিড়ালের দল, যার চারপাশ ঘিরে রয়েছে কালো ডুড়ে পাড়। এখন এমন সব মোটিফ বেশ জনপ্রিয়। কিছু কিছু মোটিফ হয়ে উঠেছে শিল্পী বা সংস্থার পরিচিতি-প্রায়। আধুনিক ভাবনা ঐতিহ্যের সুতির শাড়িতে। তাতেই এ বার পুজোয় সাজবেন এই শিল্পী মা-মেয়ে।
০৬ / ১৫
‘‘কম বয়সে অনুষার মতো আমিও ‘বুড়ো’দের শাড়ি পরতেই ভালবাসতাম। যত হালকা, ফ্যাকাসে রং হবে, ততই আমার পছন্দ। আর এখন সমস্ত রংচঙে শাড়ি আমার নজর কাড়ে। অনুষার পছন্দ হালকা রং, প্যাস্টেলের শেড। এখন বরং আমিই ওকে বলি, একটু রং থাকুক সাজে,’’ বলছিলেন কয়েক দশক ধরে বাংলা সংস্কৃতি জগতে গুরুত্বপূর্ণ নানা অনুষ্ঠানের প্রস্ততকারক ও ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক মধুমন্তী। আর তাই তো জমকালো শাড়িটি বেছে নিলেন মা আর সাদার ছোঁয়া লাগা শাড়িতে সাজলেন তাঁর অভিনেত্রী কন্যা।
০৭ / ১৫
সুতির ইন্ডিগো শাড়ির মাঝে এবং পাড়ে বড় বড় বুটি। ইংরেজিতে পোলকা ডট বলে পরিচিত। কাপড়ে এই ধারার ছাপা পশ্চিমেই বেশি প্রচলিত ছিল এক সময়ে। সুশৃঙ্খল সারিতে সোনালি বৃত্তের সেই নকশাই এই শাড়িটির বৈশিষ্ট্য। প্রতিটি পোলকা ডট অত্যন্ত যত্ন নিয়ে হাতে ব্লক প্রিন্ট করা হয়েছে। হালকা নীল রঙের স্ট্রাইপ আর চওড়া সোনালি পাড় শাড়িটির আভিজাত্যের কারণ যেন। পছন্দের শাড়ি পেয়ে নিজের ইন্ডিগো ব্লাউজ় আর রং মিলিয়ে ‘পিকু’র গয়নায় সাজলেন মধুমন্তী।
০৮ / ১৫
অন্য দিকে অনুষার সাজ-সরঞ্জামে ছিল বুলিয়ন স্টিচের ফুলেল নকশা করা গাঢ় সবুজ সুতির ব্লাউজ় আর অঞ্জলির সাদা নীল হালকা শাড়ি। তাতে প্রাধান্য পাচ্ছে শাড়িতে আঁকা সোনালি ফুলের নকশাগুলি। আঁচল জুড়ে আবার হালকা নীল রঙের ডোরাকাটা। পুজোর ভিড়ভাট্টায় এমন শাড়ি খুবই আরামদায়ক। সঙ্গে ঝোলা কানের দুল, একখানি ব্রেসলেট আর নাকছাবি।
০৯ / ১৫
ছোট থেকেই মায়ের সাজ দেখে অনুপ্রাণিত হতেন অনুষা। মধুমন্তী যখন টেলিভিশনের পর্দায় খবর পড়তেন, সেই সময়ে যে ভাবে চোখ আঁকতেন, যে ভাবে মাথায় কাপড়ের ফুল বাঁধতেন, যে ভাবে শাড়িটা পরতেন, সে সব দেখে সাজ নিয়ে উৎসাহ বাড়তে থাকে অনুষার। মা এবং দিদিমার থেকে গয়না উপহার পেয়েই অভ্যস্ত তিনি। তাই মায়ের থেকে সাজের বিষয়ে উপদেশ নিতে অসুবিধা নেই মেয়ের। মা মেয়েকে শাড়ি বেছে দিতে পছন্দ করেন। ঠিক যেমন ভাবে অষ্টমীর জন্য একটি সাবেক মেজাজের শাড়ি বেছে দিয়েছেন তিনি।
১০ / ১৫
লাল-সাদা ছাড়া পুজোর সাজ সম্পূর্ণ হয় না বলে লোকে। মধুমন্তীরও তাই বক্তব্য। তাঁর কথায়, ‘‘লাল-সাদা পরে নিলে আর কিছু নিয়ে ভাবতে হয় না। সবচেয়ে সহজ এবং সবচেয়ে সুন্দর সাজ এটা বাঙালিদের। এমন শাড়ির সঙ্গে অনেক সময়ে গয়না পরারও দরকার পড়ে না। এই দুই রং এতটাই জাঁকজমকপূর্ণ।’’ সাবেক সাজই তাই মধুমন্তীর বেশি পছন্দ।
১১ / ১৫
অনুষার অবশ্য সাবেক ও সাম্প্রতিকের অনুষঙ্গ পছন্দ সাজে। তাই সাজশিল্পী কোনিল সরকার অনুষার আঁচল নিয়ে খানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলেন। পিঠে ছেড়ে না রেখে হাতের কব্জিতে বেঁধে দিলেন। অন্য হাত ভরে অবশ্য লাল চুড়ি পরালেন আর সাবেক লাল-সাদা শাড়ির সঙ্গে হাতাকাটা ব্লাউজ় বেছে দিলেন। কানে পদ্ম গুঁজে সাজ যেন সম্পূর্ণ হল।
১২ / ১৫
মায়ের সাজে কনুই পেরোনো ব্লাউজ় আর ফিতে লাল পাড়ের উপর কল্কার নকশা করা সাদা শাড়ি। সিঁদুরের টিপ এবং লাল লিপস্টিক। সঙ্গে শাখা-পলা। ঠিক যে সাবেক সাজ পছন্দ মধুমন্তীর, তেমন ভাবেই সাজানো হল তাঁকে।
১৩ / ১৫
দু’জনের পুজোর সাজ একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। যেন একে অপরের পরিপূরক। দুই ভিন্ন প্রজন্ম, কিন্তু শাড়িতে যে কত বয়স মিশে যায়, তার প্রমাণ মধুমন্তী-অনুষার সাজ। তাই তো প্রতিটি শাড়ির জোড়ায় কিছু না কিছু মিল রয়েই গিয়েছে। ঠিক যে ভাবে মায়ের শাড়ি মেয়ে পরেন, মেয়ের শাড়িও মা পরেন। একে অপরকে সেজে উঠতে সাহায্য করেন।
১৪ / ১৫
ও দিকে মলমলের এই শাড়িগুলি কেবল সাজ-সরঞ্জাম নয়, বরং মানসিক হাসপাতালের আবাসিক এবং সুস্থ হয়ে ওঠা মানুষদের ভালবাসা ও মেধার প্রকাশ। তীব্র গরমের জন্য আদর্শ, অত্যন্ত নরম ও আরামদায়ক এই কাপড়ের প্রতিটি শাড়িতে শিল্পীরা পরম যত্ন, নিখুঁত দক্ষতা ও অসাধারণ ধৈর্যে এক একটি ব্লক বসিয়ে নকশা ফুটিয়ে তুলেছেন। সেখান থেকেই মা-মেয়ে পুজোর শাড়ি বেছে নিয়েছেন।
১৫ / ১৫
সব মিলিয়ে এ বারের পুজোর সাজ যেমন বয়সের ভেদাভেদ ভেঙেছে, ভেঙেছে সমাজের নানা বেড়াজাল। এক হয়ে গিয়েছে শিল্প, শিল্পী এবং শিল্পের পৃষ্ঠপোষকেরা।
পরবর্তী গ্যালারি
নয়াদিল্লির আর্মেনিয়া নীতির পাল্টা, পাক ফৌজকে ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ড্রোন ‘উপহার’ দিচ্ছে প্রাক্তন সোভিয়েত দেশ
পাকিস্তানকে জোড়া ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম সামরিক ড্রোন সরবরাহ করছে আজ়ারবাইজান। নয়াদিল্লির আর্মেনিয়া নীতিতে চাপে পড়েই কি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাকু? উঠল সেই প্রশ্নও।
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০২৬ ১০:০৩
০১ / ২০
কাশ্মীর ইস্যুতে আর শুধু মৌখিক সমর্থন নয়। পাকিস্তানি ফৌজকে হাতিয়ার সরবরাহের মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে শত্রুতা বাড়াচ্ছে আজ়ারবাইজান। তুরস্কের কায়দায় ইসলামাবাদের হাতে দূরপাল্লার ‘ফিদায়েঁ’ ড্রোন তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাকু। এতে নয়াদিল্লির কপালে চিন্তার ভাঁজ কিছুটা চওড়া হল বলেই মনে করছে অভিজ্ঞ মহলের একাংশ। সেই সঙ্গে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে আর্মেনিয়াকে ঘিরে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিদেশনীতিও।
০২ / ২০
পশ্চিমি গণমাধ্যমগুলির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজ়ারি প্রতিরক্ষা সংস্থা ‘ডেফটেক’-কে বিপুল সংখ্যায় সামরিক ড্রোনের বরাত দিয়েছে পাক ফৌজ। হাতিয়ারগুলির পোশাকি নাম ডিটি-০০১, এফ-১৫০০ এবং এফ-৫০০০। শুধু তা-ই নয়, ইসলামাবাদকে এই পাইলটবিহীন যানের সরবরাহও নাকি শুরু করে দিয়েছে বাকু। যদিও তার সংখ্যা এবং প্রতিরক্ষা চুক্তির টাকার অঙ্ক নিয়ে কোনও তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
০৩ / ২০
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ‘আজ়ারবাইজান আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা প্রদর্শনী’তে প্রথমবার প্রকাশ্যে আসে ডিটি-০০১ নামের সামরিক ড্রোন। হাতিয়ারটির নির্মাণকারী সংস্থা ডেফটেক-কে আবার সবাই চেনে ‘ব্ল্যাকইয়ার্ড’ নামে। বাকুর দাবি, সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে সংশ্লিষ্ট পাইলটবিহীন যানগুলিকে তৈরি করেছে তারা। নিখুঁত নিশানায় হামলা চালিয়ে নিমেষে যুদ্ধের রং বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে তাদের।
০৪ / ২০
আজ়ারি প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে খবর, প্রদর্শনীতে হইচই ফেললেও এখনও পর্যন্ত ড্রোনের বরাত দিয়েছে শুধুমাত্র পাকিস্তান। বাকুর দাবি, সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে ডিটি-০০১ তৈরি করেছে তারা। দুই স্থির ডানাযুক্ত (পড়ুন, ফিক্সড উইং) এই পাইলটবিহীন যান হামলার পাশাপাশি গুপ্তচরবৃত্তিতেও সমান সক্ষম। ওড়ার সময় এর ওজন দাঁড়ায় ৭৫ থেকে ১২০ কেজি। সর্বোচ্চ ৪০ কেজি বিস্ফোরক বা সরঞ্জাম বহন করতে পারে এই ড্রোন।
০৫ / ২০
ডিটি-০০১এ রয়েছে ৩৬০ সিসির পেট্রল ইঞ্জিন। প্রপেলার বা পাখা থাকার কারণে টানা ৫ থেকে ১০ ঘণ্টা উড়তে পারে এই আজ়ারি ড্রোন। এর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১২০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার। আক্রমণের সময় এতে সংযুক্ত করা হয় এফ-১৫০০ এবং এফ-৫০০০ শ্রেণির ভ্রাম্যমান (পড়ুন, লয়টারিং) ক্ষেপণাস্ত্র। অর্থাৎ, সব মিলিয়ে ডিটি-০০১কে তিন অস্ত্রের সমাহার বা বিশেষ প্যাকেজ বললে অত্যুক্তি হবে না।
০৬ / ২০
সর্বশেষ প্রদর্শনীতে হাতিয়ার সংযুক্ত অবস্থায় সংশ্লিষ্ট ড্রোনটির একটি ছবি প্রকাশ্যে আনে আজ়ারবাইজান। সামরিক বিশ্লেষকদের দাবি, হামলার সময় একসঙ্গে দু’টি এফ-১৫০০ বা একটি এফ-৫০০০ ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে উড়তে পারে ডিটি-০০১। ডেফটেকের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, আকারের নিরিখে এফ-১৫০০ তুলনামূলক ভাবে কিছুটা ছোট। এতে ইলেক্ট্র-অপটিক্যাল সেন্সর ব্যবহার করেছে নির্মাণকারী সংস্থা।
০৭ / ২০
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, যুদ্ধের সময় কৃত্রিম মেধা বা এআইয়ের (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) সাহায্য শত্রুকে চিনে নেয় এফ-১৫০০। তার পর নিখুঁত নিশানায় ‘ফিদায়েঁ’ হামলা চালিয়ে থাকে ওই ক্ষেপণাস্ত্র। স্থল এবং আকাশ দু’টি জায়গা থেকেই একে ছোড়া যেতে পারে। প্রথমটির ক্ষেত্রে দেড় কেজি বিস্ফোরক নিয়ে আক্রমণ শানাতে পারে এফ-১৫০০। আকাশপথে হামলা হলে এর ধ্বংস ক্ষমতা আরও বেশি।
০৮ / ২০
অন্য দিকে, এফ-৫০০০র ওজন কমবেশি ১৫ কেজি। আনুমানিক পাঁচ কেজি বিস্ফোরক বহনে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্র। এর আবার একাধিক শ্রেণিবিভাগ রয়েছে। সংঘাত পরিস্থিতিতে ছোট সেনাদল এবং সাঁজোয়া গাড়ি ধ্বংস করতে অত্যন্ত কার্যকর সংশ্লিষ্ট আজ়ারি হাতিয়ার। বিস্ফোরণের সময় ভ্যাকুয়াম বোমার মতো প্রচুর তাপ ও চাপ তৈরি করে থাকে এফ-৫০০০। বিজ্ঞানের পরিভাষায় যাকে বলা হয় থার্মোবারিক।
০৯ / ২০
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের দাবি, বাকুর এ-হেন ইসলামাবাদ প্রেম একেবারেই অস্বাভাবিক নয়। এর নেপথ্যে একাধিক কারণ খুঁজে পেয়েছেন তাঁরা। প্রথমত, পাকিস্তান ও আজ়ারবাইজানের মধ্যে একটা ধর্মীয় ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। দু’টি দেশই ইসলাম ধর্মাবলম্বী। তা ছাড়া দু’জনের কাছেই আছে মুসলিম রাষ্ট্রগুলির সংগঠন ‘অর্গানাইজ়েশন অফ ইসলামিক স্টেট্স’-এর (ওআইসি) সদস্যপদ।
১০ / ২০
১৯৯১ সালে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন হলে মস্কোর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মধ্য এশিয়ায় জন্ম নেয় দু’টি স্বাধীন রাষ্ট্র। তারা হল, আর্মেনিয়া ও আজ়ারবাইজান। এই ঘটনার কিছুদিনের মধ্যেই নানা ইস্যুতে সংঘাত জড়িয়ে পড়ে তারা। সেই লড়াইয়ের গোড়া থেকেই ইয়েরেভানের পাশে গিয়ে দাঁড়ায় নয়াদিল্লি। এর জেরে ভারতের ‘চিরশত্রু’ পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে বাকুর ঘনিষ্ঠতা গড়ে উঠতে বেশি সময় লাগেনি।
১১ / ২০
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ঝটিতি আক্রমণে আর্মেনিয়া নিয়ন্ত্রিত নাগোর্নো-কারাবাখ এলাকাটিকে পুরোপুরি কব্জা করে আজ়ারি ফৌজ। ওই ঘটনার পর ভারতের থেকে হাতিয়ার আমদানি বৃদ্ধিতে জোর দেয় ইয়েরেভান। পরবর্তী বছরগুলিতে সোভিয়েতের গর্ভ থেকে জন্ম হওয়া দেশটির হাতে আকাশ প্রতিরক্ষা (এয়ার ডিফেন্স) ব্যবস্থা, ট্যাঙ্ক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, দূরপাল্লার কামান ও রেডার তুলে দেয় নয়াদিল্লি।
১২ / ২০
বর্তমানে ভারতীয় অস্ত্রের অন্যতম বড় ক্রেতা হিসেবে উঠে এসেছে আর্মেনিয়া। ইয়েরেভান ফৌজের বহরে রয়েছে নয়াদিল্লির তৈরি আকাশ-১এস এয়ার ডিফেন্স, কনকোর্স অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক ক্ষেপণাস্ত্র, পিনাকা মাল্টি ব্যারেল রকেট লঞ্চার, ১৫৫ মিলিমিটারের অ্যাডভান্স টোয়েড আর্টিলারি গান (পড়ুন, কামান), মার্গ সেলফ প্রপেলড হাউৎজ়ার (কামান), স্বাতী রেডার এবং জ়েন অ্যান্টি ড্রোন সিস্টেম।
১৩ / ২০
এ ছাড়াও গত কয়েক বছরে বিপুল পরিমাণে মর্টার, ছোট আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলা-বারুদ লাগাতার ভারতের থেকে আমদানি করেছে আর্মেনীয় বাহিনী। পাশাপাশি, রুশ লড়াকু জেট সু-৩০এমকেআই কিনতে নয়াদিল্লির সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি করতে পারে তারা। সংশ্লিষ্ট যুদ্ধবিমানটির উৎপাদনের লাইসেন্স এ দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড বা হ্যালকে দিয়ে রেখেছে মস্কো।
১৪ / ২০
সূত্রের খবর, আগামী দিনে ভারতের থেকে ব্রহ্মস সুপারসনিক ক্রুজ় ক্ষেপণাস্ত্র পেতে পারে আর্মেনিয়া। রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট হাতিয়ারটি তৈরি করেছে নয়াদিল্লির প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ডিআরডিও (ডিফেন্স রিসার্চ ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজ়েশন)। গত বছর (পড়ুন, ২০২৫ সাল) ‘অপারেশন সিঁদুরে’ নিজের জাত চেনায় ব্রহ্মস। এর সাহায্যেই পাকিস্তানের ১১টি বায়ুসেনা ঘাঁটি উড়িয়ে দেয় এ দেশের ফৌজ।
১৫ / ২০
সূত্রের খবর, কৌশলগত প্রলয় ক্ষেপণাস্ত্র কেনার ব্যাপারেও ভারতের সঙ্গে চূড়ান্ত পর্যায়ে আলোচনা চালাচ্ছে আর্মেনিয়া। সামরিক বিশ্লেষকদের দাবি, ২৯০ কিলোমিটার পাল্লার ভূমি থেকে ভূমি আক্রমণে সক্ষম এই হাতিয়ার হাতে পেলে বাকুকে অনায়াসে নিশানা করতে পারবে ইয়েরেভানের ফৌজ। তা ছাড়া, কৃত্রিম মেধা চালিত ‘আত্মঘাতী’ দিব্যাস্ত্র এমকে-১ ড্রোনও তাদের সরবরাহ করতে পারে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার।
১৬ / ২০
সাবেক সেনাকর্তাদের কথায়, ভারত-আর্মেনিয়ার এ-হেন প্রতিরক্ষা সম্পর্কে আজ়ারবাইজানের যে রাতের ঘুম উড়েছে তাতে কোনও সন্দেহ নেই। আর তাই পাল্টা চাপ বাড়ানোর কৌশল হিসেবে পাকিস্তানকে অস্ত্র সরবরাহ করছে তারা। এর নেপথ্যে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রেজ়েপ তাইয়িপ এরদোয়ানের হাত থাকা একেবারেই অস্বাভাবিক নয়। ইসলামাবাদ ও বাকু, দু’পক্ষকেই উস্কানি দেওয়ার ঝুড়ি ঝুড়ি অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
১৭ / ২০
তবে, আজ়ারবাইজানের ড্রোন সরবরাহের সিদ্ধান্তে আখেরে লাভ হচ্ছে পাকিস্তানের। কারণ, বর্তমানে চিন থেকে সিংহভাগ অস্ত্র আমদানি করছে ইসলামাবাদ। বেজিংকে বাদ দিলে রাওয়ালপিন্ডির হাতে রয়েছে তুরস্কের কিছু শক্তিশালী ড্রোন। ‘অপারেশন সিঁদুরে’ সেগুলির কোনওটাই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছে এমনটা নয়।
১৮ / ২০
পাশাপাশি, আর্মেনিয়াকে মাত্রাতিরিক্ত সামরিক সহযোগিতা নিয়ে কেন্দ্রের সমালোচনায় প্রবল আপত্তি জানিয়েছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক মঞ্চে বার বার কাশ্মীরের ব্যাপারে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছে আজ়ারবাইজান। অন্য দিকে, রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসাবে নয়াদিল্লিকে চাইছে আর্মেনিয়া। এর জেরে ইয়েরেভানকে অস্ত্র বিক্রি কখনওই কেন্দ্রের ভুল সিদ্ধান্ত নয়।
১৯ / ২০
অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্তাদের অনেকে আবার মনে করেন আজ়ারি ডিটি-০০১ ড্রোনকে নিয়ে ভারতের চিন্তার কিছু নেই। কারণ, পাইলটবিহীন যানটির বেশ কিছু জটিল সমস্যা রয়েছে। এর পাল্লা মাত্র ৪০ কিলোমিটার। তা ছাড়া, সরাসরি আক্রমণ করতে পারে না এই ড্রোন। নয়াদিল্লির শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বর্ম আদৌ এটি ভাঙতে পারবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।
২০ / ২০
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সাল থেকে ডিটি-০০১ ড্রোনটি ব্যবহার করছে আজ়ারি ফৌজ। অর্থাৎ এর কোনও যুদ্ধের অভিজ্ঞতা নেই। ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহারের ক্ষেত্রে সেটাই পাক সেনার জন্য বড় সমস্যা হতে পারে। মোদী প্রশাসন অবশ্য বিদেশি নির্ভরশীলতা কাটিয়ে উঠতে ঘরের মাটিতেই সামরিক ড্রোন তৈরিতে জোর দিয়েছে। আগামী দিনে সেটা ‘খেলা ঘোরাতে’ পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
