নিখোঁজ ছয় শিশুকে উদ্ধার, ৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকার সোনা জব্দ এবং হারানো ৮৬২টি মোবাইল ফোন উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)।
গত সেপ্টেম্বর মাসে দেশের বিভিন্ন ইউনিটের অভিযান, গোয়েন্দা তৎপরতা ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এসব সাফল্য পেয়েছে সংস্থাটি। একই সময়ে বিপুল পরিমাণ মাদক, অস্ত্র ও অন্যান্য মালামালও উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে এপিবিএন সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশনস অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স) নুরুল ইসলাম।
তিনি জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত সেপ্টেম্বরে ৮৬২টি হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনটি হ্যাকড ফেসবুক আইডি, দুটি হ্যাকড হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট, তিনটি হ্যাকড ই-মেইল অ্যাকাউন্ট এবং একটি হ্যাকড টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্ট উদ্ধার করা হয়। বিকাশ ও নগদে প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া ২ লাখ ২২ হাজার ২৮০ টাকাও উদ্ধার করেছে এপিবিএন।
এপিবিএনের বিভিন্ন ইউনিটের অভিযানে ৪ দশমিক ৩৪৪ কেজি স্বর্ণের বার ও অলংকার উদ্ধার করা হয়েছে। এসব সোনার আনুমানিক মূল্য ৮ কোটি ৫৩ লাখ ১৬ হাজার ১৭৫ টাকা। এ ঘটনায় ২২টি মামলা দায়েরের পাশাপাশি ২৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ ছাড়া ৪৪০ কেজি নিষিদ্ধ ঘোষিত সামুদ্রিক কাঁকড়া, ৮ কেজি ৫০০ গ্রাম তামার তার, ১ হাজার ৬২ কেজি প্রসাধনী, এলইডি মনিটরসহ জিপিএস ট্র্যাকার, ফ্যান ও সোলার প্যানেলের ব্যাটারিসহ তিনটি সামগ্রী, ৭৫০ ফুট বা ১৫ কেজি কারেন্ট জাল, তিনটি মোটরসাইকেল, ২৭৭টি শাড়ি ও থ্রি-পিস, ৩০৯ কেজি খাদ্যদ্রব্য, ২৬২ কেজি কাপড় এবং ২ কেজি ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ১০ কেজি ইমিটেশন জুয়েলারি, চোরাই মালামাল বিক্রির ৫ হাজার ২৫০ টাকা এবং ৩২ হাজার ৫৬০ টাকা বাংলাদেশি মুদ্রা।
নিখোঁজ শিশু ও ভুক্তভোগীদের উদ্ধারের বিষয়ে নুরুল ইসলাম জানান, সেপ্টেম্বর মাসে ছয়টি নিখোঁজ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া ২২ জন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় একটি মামলা দায়ের এবং ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এপিবিএনের অভিযানে একটি ওয়ান শুটার গান, এক রাউন্ড গুলি ও দুটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের পাশাপাশি একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মাদকবিরোধী অভিযানে ৩৩ হাজার ৪৬৮ পিস ইয়াবা, ৬ দশমিক ০৫৮ কেজি গাঁজা, ১৭ দশমিক ২৫ লিটার মদ, ৬৭৩ কার্টন সিগারেট এবং মাদক বিক্রির ৫ হাজার ৩৯০ টাকা উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনায় ১১টি মামলা দায়ের এবং ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অতিরিক্ত ডিআইজি জানান, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ৪১৮টি মামলার বিপরীতে ১২ লাখ ৪৬ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বিএসটিআই, কাস্টমস ও ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে ৪২ লাখ ৬৭ হাজার ৩৯৯ টাকা জরিমানা আদায় ও সাজা দেওয়া হয়েছে। এ কার্যক্রমে ৫২টি মামলা দায়ের এবং ৩৪৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
