Published on
:
2 min read
ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) অন্যতম মুখ সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া দ্বিতীয় মামলার তদন্তভার ক্রাইম ব্রাঞ্চের হাতে তুলে দিল দিল্লি পুলিশ। শুনানির ঠিক আগে মঙ্গলবার এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। এর আগে যন্তর মন্তর চত্বরে জোরপূর্বক প্রবেশের অভিযোগে করা প্রথম মামলাটি বিশেষ এই তদন্তকারী শাখার হাতে দেওয়া হয়েছিল। ফলে ধৃত দুই সিজেপি নেতার বিরুদ্ধে হওয়া দুটি মামলারই তদন্ত চালাবে দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ।
দিল্লি পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১২ অক্টোবর বিক্ষোভের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছিল যন্তর মন্তর। ঠিক তার পরে গত মঙ্গলবার জোর করে যন্তর মন্তরে ঢোকার চেষ্টা করেন সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা, অজিঙ্ক শিন্ডে এবং দলের আরও ১১ জন সদস্য। সেখানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান তোলার অভিযোগ ওঠে তাঁদের বিরুদ্ধে। যন্তর মন্তরের তালাবন্ধ গেট টপকে ঢোকার সময় কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা বাধা দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। ঘটনাস্থল থেকেই মোট ১৪ জনকে আটক করে দুটি পৃথক এফআইআর দায়ের করা হয়।
এর আগে শান্তি বজায় রাখার বন্ডে সই করেছিলেন সৌরভ ও আশুতোষ। কিন্তু সেই শর্ত ভেঙে যন্তর মন্তরে যাওয়ায় স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তাঁদের পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠান। কিন্তু সোমবার সেই হেফাজতের মেয়াদ আরও দু’দিন বাড়ানো হয়। ফলে আপাতত জেলেই থাকতে হচ্ছে এই দুই নেতাকে। তবে CJP-র দুই নেতার মুক্তির দাবিতে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে দলের আইনজীবীরা। স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের তাঁদের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন করা হয়েছে। এমনকী, আদালতের ছুটির মধ্যে রাতেই শুনানির আর্জি জানানো হয়েছে।
এদিকে মামলার তদন্ত হস্তান্তরের দিনেই সিজেপি-র অন্দরের সমীকরণ নিয়ে মুখ খুলেছেন দলের প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে। মঙ্গলবার সমাজমাধ্যমে পোস্ট করা ১৬ মিনিটের এক ভিডিয়ো বার্তায় তিনি জানিয়েছেন, জেলবন্দি সৌরভ ও আশুতোষই তাঁদের আন্দোলনের আসল নীতিনির্ধারক। তাঁদের নিজের ভাই হিসেবে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, আন্দোলন এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনিই বরং এই দুজনের নির্দেশ মেনে চলেন। গত জুলাইয়ে যে বিক্ষোভের জেরে বিজেপি সাংসদ ধর্মেন্দ্র প্রধান কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ ছেড়েছিলেন, তাতেও সৌরভ ও আশুতোষের বড় ভূমিকা ছিল বলে স্পষ্ট করেন তিনি। একই সঙ্গে দশেরায় আবেগঘন বার্তা দিয়ে দীপকে জানিয়েছেন, দীপাবলি পর্যন্ত দল কোনও আন্দোলন কর্মসূচি রাখা হবে না। দলের সমস্ত সমর্থকদের আপাতত কিছুদিন লড়াই থামিয়ে পরিবারের সঙ্গে উৎসব কাটানোর আর্জি জানিয়েছেন তিনি।