সকালে খালিপেটে ‘ডিটক্স ওয়াটার’-এ চুমুক দেওয়ার চল বেড়েছে স্বাস্থ্যসচেতনদের মধ্যে। নানাবিধ সব্জি, ফল বা মশলাপাতি ভিজিয়ে রেখে সেই জল পান করেন অনেকে। সে রকমই ঢ্যাঁড়স ভেজানো জলের উপকারিতার কথা জানেন অনেকেই।
রাতভর ঢ্যাঁড়স ভেজানো জল সকালে খালি পেটে খেলেই নাকি হজম থেকে ত্বক, সবকিছুই থাকবে ঝকঝকে। সত্যিই কি তাই? পুষ্টিবিদ রুপালি দত্তের মতে, ‘‘ঢ্যাঁড়সের জল আজ সুপার ড্রিঙ্কের তকমা পাচ্ছে। শতাব্দীপ্রাচীন এই টোটকার উপকারিতা এখন বৈজ্ঞানিক গবেষণাতেও প্রমাণিত হচ্ছে।’’
১০০ গ্রাম ঢ্যাঁড়সে আছে মাত্র ৩৩ ক্যালোরি, ১.৯ গ্রাম প্রোটিন, ৩.২ গ্রাম ফাইবার, সঙ্গে ভিটামিন সি, ম্যাগনেশিয়াম ও পটাশিয়াম। এ ছাড়াও ঢ্যাঁড়সে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট আর প্রদাহরোধক উপাদানও আছে, যা অন্ত্রে প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ করে হজমশক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে রক্তে শর্করা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার যে সমস্যা আমাদের সারা দিনের খাওয়াদাওয়ার ইচ্ছেকে প্রভাবিত করে, তাতেও লাগাম টানতে পারে।
কী কী লাভ হয় ঢ্যাঁড়স ভেজানো জল খেলে?
১. হজম ভাল হয়
ঢ্যাঁড়স ভেজালে যে পিচ্ছিল আঠালো পদার্থটি বেরোয়, তার নাম মিউসিলেজ। এটি দ্রবণীয় ফাইবারে ভরপুর। এটি অন্ত্রকে পিচ্ছিল করে, মল নরম করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য ও পেট ফাঁপা কমায়। এ ছাড়া উপকারী ব্যাক্টেরিয়াকে পুষ্টির জোগান দিতে পারে বলে পাচনক্রিয়া ভাল হয়।
২. ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে
ঢ্যাঁড়সের ফাইবারগুলি পেট ভরিয়ে রাখে অনেকক্ষণ। তাই অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমিয়ে দিতে পারে। জলে ভিজে ফাইবার ফুলে জেলের মতো হয়ে যায়। সকালে খেলে সারা দিন আর ঘন ঘন খিদে পায় না, অহেতুক স্ন্যাকিং বন্ধ হয়। ওজন নিয়ন্ত্রণে পরোক্ষ ভাবে সাহায্য করে এই পানীয়।
৩. রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে
ঢ্যাঁড়সের দ্রবণীয় ফাইবারগুলি পাচনতন্ত্রে শর্করার শোষণের গতি কমিয়ে দিতে পারে। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে এই সব্জি। কারণ, ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতে পারে। ফলে ডায়াবিটিসের রোগীদের জন্য এই পানীয় স্বাস্থ্যকর হতে পারে।
৪. ত্বকে আসবে প্রাকৃতিক জেল্লা
এটি কোনও রূপচর্চার উপকরণ নয়, কিন্তু এই পানীয়ের পরোক্ষ প্রভাব ত্বকেও পড়ে। ভাল হজম, পর্যাপ্ত হাইড্রেশন এবং স্থিতিশীল ব্লাড সুগারের কারণে ব্রণ কমে, ত্বকের নিস্তেজ ভাব কেটে উজ্জ্বলতা আসে। এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট ও ভিটামিন সি ত্বকের জন্য বেশ উপকারী।
