আজকাল ওয়েবডেস্ক: উৎসবের মরসুমে যখন ঢাকের বাদ্যি, আলোর রোশনাই আর দেবী আরাধনায় মেতে উঠেছে বাংলা, ঠিক সেই আবহেই এক অভিনব বিয়ের সাক্ষী থাকল ডায়মন্ড হারবারের ‘আমরা কজন’ ব্যাঙ্কপাড়ার দুর্গাপুজো মণ্ডপ। আইনি প্রক্রিয়ায় রেজিস্ট্রি করে বিয়ে সেরে সোজা দুর্গামণ্ডপে হাজির নবদম্পতি। সেখানে মা দুর্গাকে সাক্ষী রেখে একে অপরের গলায় মালা পরিয়ে নতুন জীবনের পথচলা শুরু করলেন অজয় নস্কর ও সুমনা হালদার। ষষ্ঠীর পুণ্যলগ্নে তাঁদের এই অভিনব বিয়েকে ঘিরে পুজোমণ্ডপে ছড়িয়ে পড়ে উৎসাহ ও আনন্দ।
ডায়মন্ড হারবারের সরিষা নসা গ্রামের বাসিন্দা অজয় নস্কর। অন্যদিকে, সুমনা হালদারের বাড়ি মগরাহাটে। দুই পরিবারের সম্মতিতেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। সেই মতো নির্ধারিত দিনে সম্পন্ন হয় বিয়ের রেজিস্ট্রি। কিন্তু বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সেখানেই শেষ করতে চাননি নবদম্পতি। দুর্গাপুজোর আবহে মা দুর্গাকে সাক্ষী রেখে মালাবদলের মধ্য দিয়ে জীবনের এই বিশেষ মুহূর্তকে আরও স্মরণীয় করে রাখার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। সেই ভাবনা থেকেই রেজিস্ট্রি পর্ব শেষ করে তাঁরা পৌঁছে যান ডায়মন্ড হারবারের ‘আমরা কজন’ ব্যাঙ্কপাড়ার দুর্গাপুজো মণ্ডপে। ষষ্ঠীর বোধনের আবহে দুর্গামায়ের সামনে দাঁড়িয়ে একে অপরের গলায় মালা পরান অজয় ও সুমনা। উপস্থিত মানুষের সামনে তাঁদের এই মালাবদল হয়ে ওঠে উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ। পুজোর আনন্দের মাঝেই নবদম্পতির নতুন জীবনের সূচনাকে ঘিরে তৈরি হয় এক অন্যরকম পরিবেশ।

সাধারণত বিয়ের জন্য আলাদা করে মণ্ডপ সাজানো হয়। থাকে নানা আচার-অনুষ্ঠান, আত্মীয়স্বজনের ভিড় এবং দীর্ঘ প্রস্তুতি। কিন্তু অজয়-সুমনার বিয়ের মুহূর্তে দুর্গাপুজোর মণ্ডপই হয়ে উঠল তাঁদের জীবনের নতুন অধ্যায়ের সাক্ষী। দেবী দুর্গার আরাধনার আবহে মালাবদলের এই দৃশ্য উপস্থিত অনেকের কাছেই ছিল ব্যতিক্রমী। পুজোর আনন্দের সঙ্গে মিশে গেল একটি নতুন সংসার শুরুর আনন্দও। এই বিশেষ মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে উপস্থিত ছিলেন পুজোর উদ্যোক্তা এবং এলাকার বহু মানুষ। নবদম্পতিকে ঘিরে তাঁদের মধ্যে দেখা যায় উৎসাহ ও উচ্ছ্বাস। অনেকেই এগিয়ে এসে অজয় ও সুমনাকে শুভেচ্ছা জানান। তাঁদের সুখী দাম্পত্য জীবনের কামনা করে আশীর্বাদ করেন উপস্থিত সকলে। উৎসবের মরসুমে পুজোমণ্ডপে এমন এক বিয়ের আয়োজন স্থানীয়দের কাছেও হয়ে ওঠে স্মরণীয় ঘটনা।
নিজেদের বিয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে অজয় জানান, ষষ্ঠীর দিনেই যে বিয়ের রেজিস্ট্রির তারিখ পড়বে, তা নিয়ে আগে থেকে বিশেষ কোনও পরিকল্পনা ছিল না। তাঁর কথায়, “কোনও পরিকল্পনা ছিল না। ষষ্ঠীতে রেজিস্ট্রির ডেট পড়ে গেল, সোমনাথ মন্দিরেই মালাবদল হয়ে গেল।”
তিনি আরও জানান, এই বিয়ে কোনও পালিয়ে বিয়ে নয়। দুই পরিবারের সম্মতিতেই তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। ফলে তাঁদের কাছে এই দিনটি শুধু ব্যক্তিগত জীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা নয়, পরিবারের সম্মতিতে একসঙ্গে পথ চলার অঙ্গীকারও।
