ক্রাইস্টচার্চে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে হাই-স্কোরিং টি-টোয়েন্টি ম্যাচে চার উইকেটের দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়েছে ভারত। রানপাহাড় তাড়া করতে নেমে এই জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন ওপেনার সাঞ্জু স্যামসন। গতকাল সোমবারের এই ম্যাচে মাত্র ৩৩ বলে ৬৭ রানের ঝলক দেখিয়েছিলেন তিনি। তার এই ইনিংস এবং অভিষেক শর্মার সঙ্গে পাওয়ারপ্লের ভেতরে গড়ে ওঠা ৯৩ রানের উদ্বোধনী জুটি ২২৬ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়াকে দলের জন্য করে তুলেছিল সহজ।
ম্যাচ শেষে ভারতীয় দলের ব্যাটিং কোচ সিতাংশু কোটক প্রশংসা করেছেন শুধু সাঞ্জুর দক্ষতা বা প্রতিভারই নয়, বরং তার মানসিক দৃঢ়তার। তিনি উল্লেখ করেছেন, বর্তমান ক্রিকেট বিশ্বে যেভাবে রান বাড়ছে এবং পিচের আচরণ বদলাচ্ছে, তার চেয়েও বড় বিষয় হলো ব্যাটারদের নিজেদের ওপর অবিচল বিশ্বাস। মাত্র দুই ওভারে তিন থেকে চারটি ছক্কা মারার মানসিক চাপ পেরিয়ে এসে ভীতিহীন এক মানসিকতা প্রদর্শন করাটা সত্যিই অভাবনীয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। সাঞ্জু এবং অভিষেক যেভাবে ইনিংসের সূচনা করেছিলেন, তা কোচকে মুগ্ধ করেছে।
দলের তরুণ প্রতিভাবান ক্রিকেটার বৈভব সূর্যবংশীকে নিয়ে চলমান গুঞ্জন ও একাদশে সুযোগ না পাওয়া প্রসঙ্গেও কথা বলেছেন সিতাংশু কোটক। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে কোচ জানান, অতিরিক্ত হাইপ বা অতিমূল্যায়ন একজন ১৫-১৬ বছরের তরুণের ক্যারিয়ারের জন্য উল্টো ক্ষতিকর হতে পারে। সাঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মার মতো ব্যাটাররা যখন দুর্দান্ত ফর্মে আছেন, তখন কেবল পাবলিক বা সোশ্যাল মিডিয়ার দাবির মুখে একাদশে পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। তবে বৈভব পরিস্থিতি খুব পরিপক্বভাবে সামলে নিচ্ছেন এবং দলের সিনিয়র খেলোয়াড়দের কাছ থেকে শেখার চেষ্টা করছেন বলেও জানান তিনি।
আগামী টি-টোয়েন্টি ম্যাচেই একাদশে সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তরুণ বৈভবের সামনে। ঈশান কিষাণ ইনজুরিতে থাকায় এবং স্কোয়াডে একমাত্র টপ-অর্ডার ব্যাটার হিসেবে বৈভবের খেলার সম্ভাবনা বেশ জোরালো। তবে কোটক স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, বৈভবের নিজস্ব প্র্যাকটিস পদ্ধতি বা স্বাভাবিক খেলার ধরনে তিনি খুব বেশি হস্তক্ষেপ করতে চান না।
তরুণ এই ব্যাটারের ব্যাটিং শৈলী নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কোটক আরও যোগ করেন, বৈভবের বল হিট করার সহজাত ক্ষমতা রয়েছে এবং সে পরিস্থিতি বুঝে নিজের ইচ্ছামতো শট খেলতে পছন্দ করে। প্র্যাকটিস পিচের বাউন্স আর ম্যাচের উইচ বৈচিত্র্যময় হলেও, তার স্বভাবজাত আক্রমণাত্মক মানসিকতা বদলানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। দলের সাথে থেকে ফিল্ডিং, ফিটনেস ও ম্যাচ রিডিংয়ে বৈভব প্রতিনিয়ত উন্নতি করছে এবং সে একজন অত্যন্ত চটপটে ও প্রতিভাবান ক্রিকেটার বলে মত দেন কোচ।
