ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত অভিনেত্রী পরীমণির জন্মদিন মানেই ঝলমলে এলাহি আয়োজন। বিশেষ দিনে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করতেন। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এসবে অনেক বদল এসেছে। জমকালো আয়োজন না করলেও তাকে ছোট পরিসরে জন্মদিন উদযাপন করতে দেখা যায়।
১৯৯২ সালের ২৪ অক্টোবর সাতক্ষীরায় জন্মগ্রহণ করেন পরীমণি। আজ তার ৩৪তম জন্মদিন। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার পর দুই সন্তানকে নিয়ে কেক কাটেন। এই সময়ে নানা শামসুল হক গাজীকে তার অনেক বেশি মনে পড়েছে। পরীমণি বলেন—“নানা বেঁচে থাকতে আমাকে ঘুম থেকে তুলে কেক কাটতেন। এখন তো আমার সেই মানুষটা নেই, মনে পড়লে কান্না পায়।”
জন্মদিনের কেক কাটার সংক্ষিপ্ত একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন পরীমণি। এতে দেখা যায়, টকটকে লাল রঙের পোশাকে সেজেছেন পরীমণি। রং মিলিয়ে সাজানো হয়েছে জন্মদিনের কেক। তার এক কোলে পুত্র, অন্য কোলে কন্যা। দুই সন্তানের ভালোবাসামাখা চুম্বনে উচ্ছ্বসিত মা পরীমণি। এ ভিডিওর কমেন্ট বক্সে জমা পড়েছে প্রায় ১২ হাজার মন্তব্য। ভক্ত-অনুরাগীদের পাশাপাশি সহকর্মীরাও তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
এক দশকের বেশি সময়ের অভিনয় ক্যারিয়ারে পরীমণি পেয়েছেন—তারকাখ্যাতি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় দুই কোটি অনুসারী তার। নানা সময়ে নানা বিষয়ে আলোচনার কেন্দ্রে থাকার অভিজ্ঞতাও কম নেই তার
সাতক্ষীরায় জন্ম নেওয়া পরীমণির পুরো নাম—শামসুন্নাহার স্মৃতি। তবে পরীমণি নামেই পরিচিত। বাবা মনিরুল ইসলাম, মা সালমা সুলতানা। মাত্র তিন বছর বয়সে মাকে হারান তিনি। এরপর পিরোজপুরে নানাবাড়িতে বড় হন। নানা শামসুল হক গাজী ছিলেন তার জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি ও সাহসের নাম। শৈশবের সেই আশ্রয় পরবর্তীতে পরীমণির জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে ওঠে। তবে ২০২৩ সালে প্রিয় নানাকে হারান এই অভিনেত্রী।
অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ছোটবেলায় নাচ শিখেন পরীমণি। বুলবুল একাডেমি অব ফাইন আর্টসে (বাফা) ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু খুব বেশি দিন এখানে থাকেননি। অল্প দিনের নাচ শেখার অভিজ্ঞতা তার অভিনয়জীবনের পথ চলতে বেশ সহায়ক হয়। একটা সময় টেলিভিশন নাটকে অভিনয়ের সুযোগ পান। প্রথম নাটক ‘সেকেন্ড ইনিংস’। এরপর অভিনয় করেন—‘এক্সক্লুসিভ’, ‘এক্সট্রা ব্যাচেলর’–এর মতো নাটকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বড়পর্দার দিকে এগিয়ে যান এই অভিনেত্রী।
২০১৫ সালে শাহ আলম মণ্ডল পরিচালিত ‘ভালোবাসা সীমাহীন’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় পরীমণির। এ সিনেমায় তার সহশিল্পী ছিলেন জায়েদ খান। চলচ্চিত্রে নাম লেখানোর আগেই অনেকগুলো সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হয়ে আলোচনার জন্ম দেন তিনি। একই সময়ে নজরুল ইসলাম খানের ‘রানা প্লাজা’ সিনেমায় অভিনয়ের খবর ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। পরবর্তীতে সিনেমাটির মুক্তি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়।
ভালোবেসে অভিনেতা শরীফুল রাজের সঙ্গে ঘর বেঁধেছিলেন পরীমণি। এ সংসার আলো করে জন্ম নেয় পুত্র শাহীম মুহাম্মদ পুণ্য। যদিও রাজের সঙ্গে দাম্পত্য জীবনের ইতি টেনেছেন পরীমণি
পরীমণিকে ঘিরে সিনেমাপ্রেমীদের প্রত্যাশা অনেক ছিল। শরীরি সৌন্দর্য, পর্দার উপস্থিতি, নাচের দক্ষতা—এ প্রত্যাশার পারদ বাড়িয়েছিল। ডজন ডজন সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হলেই যে ক্যারিয়ার মজবুত হয় না, তা প্রমাণিত হতে খুব বেশি সময় লাগেনি।
মালেক আফসারি পরিচালিত ‘অন্তর জ্বালা’ সিনেমায় অভিনয় নিয়ে নিজের সন্তুষ্টির কথা বিভিন্ন সময়ে বলেছেন পরীমণি। তবে তার অভিনয়জীবনের উল্লেখযোগ্য সিনেমা—‘স্বপ্নজাল’। এতে ‘শুভ্রা’ চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়ান তিনি। এটি পরিচালনা করেন গিয়াস উদ্দিন সেলিম।
তাছাড়াও রয়েছে ওয়াজেদ আলী সুমনের ‘রক্ত’, চয়নিকা চৌধুরীর ‘বিশ্বসুন্দরী’, আবু রায়হান জুয়েলের ‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’, গিয়াস উদ্দিন সেলিমের ‘গুণিন’, অরন্য আনোয়ারের ‘মা’। এসব সিনেমায় একেক ধরনের চরিত্রে দর্শক তাকে দেখতে পেয়েছেন। বিশেষ করে অরণ্য আনোয়ার পরিচালিত ‘মা’ সিনেমায় সন্তান হারানো এক মায়ের চরিত্রে অভিনয় করা তার জন্য ভিন্ন ধরনের এক অভিজ্ঞতা ছিল।
শিশুদের প্রতি পরীমণির টান নতুন কিছু নয়। দুই বছর আগে কন্যা সাফিরা সুলতানা প্রিয়মকে দত্তক নেন পরীমণি। চলতি বছরে আরেকটি শিশু দত্তক নিয়েছেন এই অভিনেত্রী
চলচ্চিত্রের পাশাপাশি ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও কাজ করেছেন পরীমণি। ‘রঙিলা কিতাব’ ওয়েব সিরিজে অভিনয় করে নতুন মাধ্যমে নিজের উপস্থিতি জানান দেন। তাছাড়া কলকাতার ‘ফেলুবক্সী’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে টালিউডেও অভিষেক হয় তার। এসব কাজ পরীমণির অভিনয় ক্যারিয়ারের পরিধি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করেছে।
