Published on
:
1 min read
এই সময়, মেদিনীপুর: স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম পীঠস্থান পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দাসপুর থানার অন্তর্গত চেঁচুয়া গোবিন্দনগর। ১৪ জন শহিদের রক্তে রাঙা পবিত্র এই পূণ্যভূমিতেই বিশ্ব সেবাশ্রম সংঘের প্রতিষ্ঠাতা ঠাকুর শ্রীশ্রী সমীর ব্রহ্মচারীর ভাবদর্শনে বিভিন্ন সময়ে একান্ন সতীপীঠ, নবদুর্গা, দশমহাবিদ্যা, ৬৪ যোগিনী, বৌদ্ধ তন্ত্রানুসারে দুর্গা, অকালবোধন–সহ নানা রূপে দুর্গা বন্দনার আয়োজন করা হয়েছে।
১৯৫২য় শ্রদ্ধেয় গোপালচন্দ্র নন্দী মহাশয়ের হাত ধরে যে মাতৃবন্দনার সূচনা হয়েছিল, আজ ২০২৬–এ তা চুয়াত্তর বছরের ঐতিহ্য বহন করছে। এই বছর চেঁচুয়াহাট সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটি তাদের ভাবনায় বেছে নিয়েছে এক অভিনব ও সময়োপযোগী থিম, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সহজ পাঠ’। পুজো কমিটির অন্যতম সম্পাদক সুপ্রিয় পাত্র জানালেন, যে সহজপাঠ হাতে নিয়ে প্রজন্মের পর প্রজন্ম বাঙালির শৈশব কেটেছে, সেই বই আজ বিস্তৃতির পথে। তাই দুর্গাপুজো, বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবের মঞ্চ থেকেই নতুন প্রজন্মকে তার শিকড় চেনানোর প্রয়াস হিসাবে ‘সহজ পাঠ’–কে বেছে নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি শিশুর জীবনে মা–ই তার প্রথম শিক্ষিকা। যাঁর মুখ থেকে অ-আ-ক-খ শেখে শিশু। পুজোর মণ্ডপ সহজপাঠের পাতা, শ্লেট, দোয়াত কলম, বর্ণমালার আদলে তৈরি।
মণ্ডপের মধ্যে রয়েছে সহজপাঠের চিরপরিচিত ছবিগুলির ত্রিমাত্রিক রূপায়ণ। এই পুজো শুধু একটি উৎসব নয়, চেঁচুয়াহাট অঞ্চলের মানুষের আবেগ, ঐতিহ্য ও মিলনের প্রতীক। ‘সহজপাঠ’ থিম নতুন প্রজন্মকে তার মাতৃভাষার প্রতি আরও যত্নশীল করে তুলবে, এটাই আমাদের আশা।
