সারাদেশের মতো সীমান্তবর্তী জেলা শেরপুরেও আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু ও হামের সংক্রমণ। শেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে ইতোমধ্যে হামে আক্রান্ত হয়ে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের ধারণক্ষমতার চেয়ে বহুগুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে ডেঙ্গুর জন্য ২৬টি এবং হামের জন্য ১৫টি বেড নির্ধারিত থাকলেও প্রতিদিন ভর্তি থাকছেন শতাধিক রোগী। বর্তমানে ৪৬ জনেরও বেশি ডেঙ্গু পজিটিভ রোগী এবং উপসর্গ নিয়ে আরও প্রায় ৬৫ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন। বেড না পেয়ে অনেকেই হাসপাতালের মেঝোজুড়ে গাদাগাদি করে ও বারান্দায় অবস্থান করছেন।
রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ডাক্তার ও ওষুধ। বাধ্য হয়ে অধিকাংশ ওষুধ বাইর থেকে কিনতে হচ্ছে। এছাড়া ডেঙ্গু রোগীদের জন্য মশারি ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা থাকলেও বারান্দায় মশারি ছাড়াই ঝুঁকি নিয়ে দিন পার করছেন অনেকে। শতাধিক রোগীর চিকিৎসায় নিয়োজিত রয়েছেন মাত্র দুজন নার্স, যা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল।
শহরের দিঘারপাড় এলাকার এক গৃহিণী জানান, তার বাচ্চাকে নিয়ে চারদিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি। কিন্তু সব ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়।
শেরপুরের কাজিরচর এলাকা থেকে আসা এক ডেঙ্গু রোগী অভিযোগ করেন সব ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়। নার্সরাও ঠিক মতো আসে না।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. সাজ্জাৎ হাসান জানান, আক্রান্তদের বড় একটি অংশ ঢাকা বা বাইরের জেলা থেকে সংক্রমণ নিয়ে শেরপুরে এসেছেন, তবে স্থানীয়ভাবেও সংক্রমণ বাড়ছে। জনবল সংকট সত্ত্বেও সাধ্যমতো প্রয়োজনীয় সেবা ও ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
দ্রুত পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ এবং ডেঙ্গু ও হাম প্রতিরোধে জরুরি ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
