Published on
:
2 min read
দার্জিলিং মানেই কাঞ্চনজঙ্ঘা দর্শন, মলরোডের ভিড় আর চেনা বাতাসিয়া লুপ-টাইগার হিল। পাহাড়ের নির্জনতা স্বাদ পাওয়া যায় না শৈলশহর। তবে এই জেলাতে এমন কিছু জনপদ রয়েছে, যা শৈলশহর দূরে নয় অথচ যেখানে প্রকৃতির কাছাকাছি থাকা যায়। এই স্বল্পপরিচিত পাহাড়ি জনপদে রয়েছে ঘন পাইন-ওকের জঙ্গল, সবুজ চা বাগান, মেঘে ঢাকা পাহাড়ের ঢাল আর ব্রিটিশ আমলের পুরোনো সাহেব বাংলো। আর এই জনপদের নাম হলো ছোট পুবং।
কুয়াশার চাদরে মোড়া পাহাড়ি পথ
ঘুমের বাঁ দিক দিয়ে সুখিয়াপোখরির পথে এগোলে দেখা মিলবে ছোট পুবংয়ের। পথে মিলবে দু’পাশে ঘন জঙ্গল, পাইন গাছের সারি আর পাহাড়ের গায়ে ছড়িয়ে থাকা ছোট ছোট গ্রাম— ছেত্রি গাঁও, বাঙ্গারগাঁও, লিম্বুগাঁও, তামাংগাঁও ও আলুবাড়ি ইত্যাদি। এই জায়গাগুলোও দার্জিলিংয়ের এক একটা হিডেন জেম। তামাং, লিম্বু ও ছেত্রি সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস এই অঞ্চলে। কখনও নীল আকাশ, কখনও ঘন কুয়াশা, লুকোচুরি খেলছে জঙ্গলের মধ্যে — এই সব দেখতে দেখতেই পৌঁছে যাবেন ছোট পুবং।
চা বাগানের মাঝে সাহেব বাংলো
প্রায় ৫,৮২০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত পুবংয়ের নামডাক চা বাগানের জন্য। সেই চা বাগান আর সবুজ পাহাড়ের মাঝে নজর কাড়ে লাল রঙের একটি পুরোনো বাংলো। ১৯২১ সালে ক্যাম্পবেল সাহেব এই বাংলো তৈরি করেন। স্থানীয়দের কাছে এটি সাহেব কুঠি নামে পরিচিত। বাংলোর সামনে মখমলের মতো সবুজ ঘাসের প্রান্তর, তার পরেই পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নেমে গিয়েছে বিস্তীর্ণ চা বাগান। দূর থেকে চোখে পড়ে চা শ্রমিকদের ব্যস্ততা। কখনও কুয়াশায় ঢেকে যায় গোটা উপত্যকা, আবার মেঘ সরে গেলে দেখা মেলে দূরের ছোট ছোট গ্রামের।
ছোট পুবংয়ের বাংলোছবি: সংগৃহীত
সূর্যোদয় থেকে তারায় ভরা রাত
সকালে পাইন ও ওক গাছের ফাঁক দিয়ে সূর্যের আলো এসে পড়ে পাহাড়ের ঢালে। তবে ছোট পুবংয়ে সূর্যাস্তের দৃশ্য সবচেয়ে বেশি মনোমুগ্ধকর। পাহাড়ের আড়ালে সূর্য ডুব দেওয়ার সময়ের শেষ আলো ছড়িয়ে পড়ে আকাশজুড়ে। সন্ধের পর হিমেল বাতাস আর নির্জন পরিবেশ পাহাড়ি ছুটির আমেজ বাড়িয়ে দেয়। রাতের আকাশ ভরে ওঠে অসংখ্য তারায়। পূর্ণিমার রাতে পাহাড়ের সৌন্দর্য আরও মায়াবী হয়ে ওঠে।
কী কী দেখবেন?
ছোট পুবংয়ে বেড়াতে গেলে চা বাগানের মধ্যে দিয়ে হেঁটে ঘুরে দেখতে পারেন। বাংলো থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে রয়েছে চা কারখানা। সেখানেও যাওয়া যায়। কাছেই রয়েছে খালমপাখা গ্রাম ও একটি সুন্দর গির্জা। এ ছাড়া লেপচাজগৎ, সুখিয়াপোখরি থেকে শুরু করে ঘুম, দার্জিলিং সবই যেতে পারেন ছোট পুবং থেকে।
কী ভাবে যাবেন, কোথায় থাকবেন?
নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে ছোট পুবংয়ের দূরত্ব প্রায় ৭৫ কিলোমিটার। গাড়িতে ঘুম স্টেশন পেরিয়ে সুখিয়াপোখরির রাস্তা ধরে পুবং ফটকে পৌঁছতে হবে। সেখান থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার পাহাড়ি পথ পেরিয়ে ছোট পুবং। থাকার জন্য রয়েছে পুবং টি এস্টেট রিসর্ট এবং স্থানীয় হোমস্টে।
FAQ
১. ছোট পুবং কোথায় অবস্থিত?
ছোট পুবং পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলার একটি নিরিবিলি পাহাড়ি জনপদ।
২. ছোট পুবং কেন বিখ্যাত?
সবুজ চা বাগান, ঘন জঙ্গল, কুয়াশায় ঢাকা পাহাড় এবং ঐতিহাসিক সাহেব কুঠির জন্য ছোট পুবং পরিচিত।
৩. ছোট পুবংয়ের সাহেব কুঠি কবে তৈরি হয়েছিল?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯২১ সালে ক্যাম্পবেল সাহেব এই বাংলো তৈরি করেন।
৪. ছোট পুবংয়ে কী কী ঘুরে দেখতে পারেন?
চা বাগান, চা কারখানা, খালমপাখা গ্রাম ও স্থানীয় গির্জা ঘুরে দেখতে পারেন।
৫. ছোট পুবংয়ে কোথায় থাকবেন?
পুবং টি এস্টেট রিসর্ট এবং স্থানীয় হোমস্টেতে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।
