বালাগঞ্জে ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাতায়াতের একমাত্র সড়কটি দীর্ঘ পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে সংস্কারের অভাবে বেহাল হয়ে পড়েছে। জিরো পয়েন্ট থেকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পর্যন্ত প্রায় ৪০০ মিটার সড়কজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ। কোথাও পিচ ঢালাই উঠে গেছে, কোথাও তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। বৃষ্টিতে সড়কটি পানি ও কাদায় একাকার। এতে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন রোগী, স্বজন, চিকিৎসক, নার্স ও স্থানীয় বাসিন্দারা। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন গর্ভবতী নারী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং জরুরি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যাতায়াতকারী রোগীরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে প্রায়ই যানবাহন উল্টে পড়ে ও যাত্রীরা আহত হন। এমনকি হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই সড়কে সন্তান প্রসবের মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এদিকে, গুরুত্বপূর্ণ এ প্রতিষ্ঠানে চলাচলের সড়কটির কোনো নথিপত্র বা আইডি নম্বর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নেই বলে জানা গেছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে ছয় লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটির মেরামতের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন ইউএনও। সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কটির বিভিন্ন স্থানে পিচ ঢালাই উঠে গেছে। ছোট-বড় অসংখ্য গর্তে ভরা সড়কটি দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে চালকদের প্রতিনিয়ত বেগ পেতে হচ্ছে। বৃষ্টির পানি জমে গর্তগুলো ঢেকে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। সড়কের বেহাল দশায় অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি রোগী পরিবহনকারী যানবাহন চলাচলেও বিঘœ ঘটছে। খানাখন্দে যানবাহন ঝাঁকুনি খাওয়ায় গুরুতর অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার সময় বাড়তি ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি। তাদের অভিযোগ, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের অভাবেই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। সড়কের দুই পাশে রয়েছে অসংখ্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।
পূর্ব বাজারের এ গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় সড়কের বেহাল অবস্থায় ক্রেতাদের যাতায়াত কমছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। ভাঙাচোরা সড়ক দিয়ে পণ্য পরিবহনে বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে। পাশাপাশি ক্রেতাদের ভোগান্তির কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মামুন আহমদ বলেন, সড়কের কারণে মারাত্মক কষ্ট হয়। চলাচলে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে শুনে আসছি সংস্কার করা হবে, কিন্তু অদৃশ্য কারণে তা হচ্ছে না।
উপজেলা প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, আইডির বাইরে থাকা সড়কটি উপজেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইউএনও মেরিনা দেবনাথ বলেন, উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে ছয় লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটি মেরামতের প্রস্তুতি চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হলেও কবে নাগাদ কাজ শুরু হবে, তা স্পষ্ট নয়। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শুধু সংস্কারের সিদ্ধান্ত ঘোষণা নয়, দ্রুত কাজ শুরু করে সড়কটিকে চলাচলের উপযোগী করা হবে।
