ঢাকা: অকাট্য প্রমাণ ছাড়া শুধু পলাতক থাকার কারণে কাউকে সাজা দেওয়া যায় না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, নির্দোষ ব্যক্তিও পুলিশের হয়রানি এড়াতে আত্মগোপনে থাকতে পারেন। তাই কাউকে দোষী সাব্যস্ত করতে হলে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে হবে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে বিচারপতি মো. বশির উল্লাহর একক হাইকোর্ট বেঞ্চের এ রায় প্রকাশিত হয়।
ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগে নিম্ন আদালতে তিন বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসের সাবেক রেকর্ড কিপার নীল বরণ ত্রিপুরাকে খালাস দিয়ে এ রায় দেন হাইকোর্ট।
রায়ে আদালত বলেন, দাফতরিক নথিতে অনিয়ম কিংবা জাল নোটিশ ইস্যুর ঘটনা আসামির বিরুদ্ধে গুরুতর সন্দেহ তৈরি করতে পারে। তবে আইনের দৃষ্টিতে গুরুতর সন্দেহ কখনোই সন্দেহাতীত প্রমাণের বিকল্প হতে পারে না।
মামলার নথি অনুযায়ী, নীল বরণ ত্রিপুরা ১৯৯১ সালের ৯ অক্টোবর থেকে ২০০৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসে রেকর্ড কিপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তাকে বগুড়া জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে বদলি করা হয়।
দায়িত্ব পালনকালে কর্মকর্তা ও সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসারের স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া আপিল নম্বর, নোটিশ ও রসিদ ইস্যু এবং বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।
এসব অভিযোগে ২০১০ সালের ১৪ এপ্রিল ছাতক থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তদন্ত শেষে নীল বরণ ত্রিপুরার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
পরে ২০২২ সালের ৩০ মার্চ সিলেটের বিশেষ জজ আদালত তাকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৬৯ হাজার টাকা জরিমানা করেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন তিনি। গত ১৪ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট তাকে খালাস দেন।
হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়, রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীরা আসামির বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ করলেও অর্থ দেওয়ার নির্দিষ্ট তারিখ, সময়, স্থান ও সঠিক পরিমাণ আদালতে প্রমাণ করতে পারেননি।
এ ছাড়া এজাহারে উল্লেখ করা অভিযোগের সঙ্গে আদালতে দেওয়া মৌখিক সাক্ষ্যের অসংগতি ছিল। মামলার মূল সাক্ষীকেও আদালতে পরীক্ষা করা হয়নি।
আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, মূল সাক্ষীকে বাদ দিয়ে তদন্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে শোনা কথাকে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা যায় না। ফলে আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নীল বরণ ত্রিপুরাকে খালাস দেন হাইকোর্ট।
