আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতছবি:এক্স
Published on
:
2 min read
সুদেষ্ণা ঘোষাল, নয়াদিল্লি
ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলন নিয়ে এখনও প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেনি রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ (আরএসএস)৷ গোটা ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে সঙ্ঘ পরিবার কী অবস্থান নেয়, সে দিকে তাকিয়ে বিজেপি-ও৷ এই আবহে সঙ্ঘ-সমর্থিত মহিলা সংগঠন ‘রাষ্ট্র সেবিকা সমিতি’-র তরফে তীব্র নিশানা করা হয়েছে সিজেপি-কে। সমিতির প্রধান ভি শান্তাকুমারী সিজেপির আন্দোলনকে ‘দিমাগি নকশাল’দের আন্দোলন হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন৷ তাঁর অভিযোগ, এই ধরণের আন্দোলন ও বিক্ষোভ গোটা দেশে অস্থিরতা তৈরি করছে। যার জেরে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে৷
কেন তিনি এমন বলছেন, তার সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যায় ১৯৩৬-এ নাগপুরে প্রতিষ্ঠিত এই মহিলা সংগঠনের প্রধান শান্তাকুমারীর দাবি— দিমাগি নকশাল ব্যাপারটাই অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং অদৃশ্য এক বাস্তুতন্ত্র। যা তরুণ প্রজন্মের মগজধোলাই করার পাশাপাশি তাঁদের মনে একটা অস্থিরতার জন্ম দিচ্ছে এবং হিংসা উস্কানি দিচ্ছে। তাঁর কথায়, ‘আমরা যন্তর মন্তরে ধারাবাহিক প্রতিবাদ-বিক্ষোভ ঘটতে দেখেছি। এ সবকে অসাংবিধানিক প্রতিবাদ বলা যেতেই পারে। এই ধরণের অসাংবিধানিক প্রতিবাদের জেরে দেশ এক অভূতপূর্ব বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে।’ এই প্রতিবাদীদের আসল উদ্দেশ্য ভারতে অস্থিরতা তৈরি করে দেশের সংস্কৃতি ধ্বংস করা বলেও মন্তব্য করেন তিনি। শান্তাকুমারীর কথায়, ‘সমাজে গঠনমূলক পরিবর্তন আনার কোনও আকাঙ্ক্ষাই এদের মধ্যে নেই।’ এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রথমবারের মতো 'দিমাগি নকশালি' শব্দবন্ধটি ব্যবহার করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা জঙ্গল থেকে সশস্ত্র নকশালদের নির্মূল করে দেশকে সেই সঙ্কট থেকে মুক্ত করতে সফল হয়েছি। তবে দিমাগি নকশালরা এখনও আমাদের মধ্যে রয়ে গিয়েছে।’
তাত্পর্যপূর্ণ হলো, এমন একটা সময়ে শান্তাকুমারী সিজেপি সম্পর্কে এই মন্তব্য করেছেন যখন আরএসএস-র শীর্ষ স্তরের অবস্থান নিয়ে বিজেপির অন্দরেই প্রবল কৌতূহল তৈরি হয়েছে৷ আর ক’দিন পরেই সঙ্ঘ পরিবারের বিজয় দশমী উদ্যাপন সমারোহ আয়োজিত হবে নাগপুরে সংগঠনের সদর দপ্তরে৷ ৷ এই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি দেশের প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়৷ গোটা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সক্রিয় সঙ্ঘ পরিবারের শাখা সংগঠনগুলির শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে যুক্ত সমাজের সর্বস্তরের বিশিষ্টজনেরা এই অনুষ্ঠানে যোগদান করবেন৷ তাঁদের সামনে সঙ্ঘ-প্রধান মোহন ভাগবত সিজেপি সম্পর্কে কী বলেন, তা দেখার পরেই আগামীর রণনীতি তৈরি করবে বিজেপি, এমনই দাবি দলীয় সূত্রের৷
