শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরসহ প্রায় ১ হাজার ৮৪১টি পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা টিম মোতায়েন করেছে এসআরবি-১০। পাশাপাশি পিকআপ ও মোটরসাইকেল টহল, সাদা পোশাকে নজরদারি, কমান্ডো, বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট এবং ড্রোন টিমের মাধ্যমে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিদর্শন শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসআরবি-১০-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান এসব কথা বলেন।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপন নিশ্চিত করতে দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় একটি বিস্তৃত নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সার্বক্ষণিকভাবে ১৫টি পিকআপ পেট্রোল ও ২৮টি মোটরসাইকেল টহল দল দায়িত্ব পালন করছে। পাশাপাশি সাদা পোশাকে সদস্যরা নজরদারি করছেন।
নিরাপত্তা জোরদারে প্রশিক্ষিত কমান্ডো, বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট ও ড্রোন টিমও এলাকাভিত্তিক নজরদারি করছে। পূজামণ্ডপের আশপাশে টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের চলাচলের ওপর রাখা হচ্ছে বিশেষ নজরদারি। যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পূজামণ্ডপ-সংলগ্ন এলাকায় কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্ন করতে নৌ টহলের ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান আরও বলেন, সম্ভাব্য হুমকি চিহ্নিত করতে গোয়েন্দা শাখা স্থানীয় পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানো, সাম্প্রদায়িক উসকানি দেওয়া এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে এমন কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সাইবার মনিটরিং সেল সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে।
নিরাপত্তার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা ও জনসেবামূলক কার্যক্রমেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী দর্শনার্থীদের সহায়তায় পূজামণ্ডপে হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপগুলোতে জরুরি সেবা দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সংস্থাটির সদস্যরা নিয়মিত মণ্ডপ পরিদর্শন করে দর্শনার্থীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছেন।
বিজ্ঞাপন
পূজাকে কেন্দ্র করে যানজট ও অতিরিক্ত জনসমাগম সামাল দিতে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে এসআরবি-১০। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংস্থাটির ভ্রাম্যমাণ আদালত ও মোবাইল টিমও প্রস্তুত রয়েছে।
এসআরবি-১০-এর অধিনায়ক বলেন, ধর্মীয় উৎসব বাংলাদেশের বহুধর্মীয় সমাজের ঐক্য ও সম্প্রীতির প্রতীক। সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব, সততা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন সংস্থাটির সদস্যরা। সবার সহযোগিতা ও সচেতন অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ দুর্গাপূজা নিশ্চিত করা সম্ভব।
টিটি/ইএ
ফলো করুন
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন jagofeature@gmail.com ঠিকানায়।
