সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, বর্তমান সরকারের মূল ভাবনা হচ্ছে শিক্ষা ও সংস্কৃতি অঙ্গনে নতুনভাবে কাজ করা। কবি নজরুলের নামে নজরুল বর্ষের আয়োজন করা হয়েছে। একইভাবে লালনের স্মৃতি ও দর্শনকে ধারণ করে কুষ্টিয়াকে লালননগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। পর্যটন ও শিল্পনগরী হিসেবে কুষ্টিয়ার উন্নয়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়ায় বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের ১৩৬ তম স্মরণোৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
লালনের মানবতাবাদী দর্শন তুলে ধরে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, ‘সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই’ লালনের এই অমীয় বাণী মানবধর্মের গুরুত্ব তুলে ধরে। জাতীয় জীবনে মানুষের মর্যাদা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি মনীষীদের স্মৃতি সংরক্ষণে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, আমরা জয়লাভ করব। আমরা আকাশ থেকে আসিনি, মাটি ফুঁড়ে বের হইনি। জনগণের ভোটে আমরা সরকার গঠন করেছি।’
বক্তব্যে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, গত ১৮ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার বিশেষ করে আর্থিক ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করেছে। দেশীয় সম্পদের ক্ষতিসাধন করে দেশকে শ্মশানে পরিণত করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
লালন শাহের দর্শন ও সৃষ্টিকর্মকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়ার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করা এবং পর্যটন বিকাশের মাধ্যমে এ অঞ্চলের সম্ভাবনা কাজে লাগানোই সরকারের লক্ষ্য বলেও জানান তিনি।
সংস্কৃতি ও শিক্ষা অঙ্গনে নতুন উদ্যোগ গ্রহণের প্রত্যয় ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং মনীষীদের স্মৃতি ধরে রাখার পাশাপাশি পর্যটন ও শিল্পের বিকাশে সরকার কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য দেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। লালন শাহের জীবন ও দর্শন নিয়ে মুখ্য আলোচনা করেন প্রাবন্ধিক অধ্যাপক ড. রশিদুল নবী।
কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদ বিন-হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মোসা. ফরিদা ইয়াসমিন, কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলাম এবং কুষ্টিয়া-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, জাসসাস কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হেলাল খান প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন লালন সাধক হৃদয় শাহ ও মিজ আসমা খানম।
