Published on
:
1 min read
প্রত্যুষ চক্রবর্তী, গুসকরা
বাংলার দুর্গাপুজো বলতেই সচরাচর চোখের সামনে ভেসে ওঠে সিংহবাহিনী দেবীদুর্গার সঙ্গে তাঁর চার সন্তান লক্ষ্মী, গণেশ, সরস্বতী ও কার্তিকের প্রতিমা। কিন্তু চেনা এই ছকের সম্পূর্ণ বাইরে এক অনন্য রূপের সন্ধান মেলে গুসকরার চার শতাধিক বছরেরও বেশি প্রাচীন ঘটক বাড়ির পুজোয়। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক পুজোয় দেবীর সঙ্গে থাকেন না তাঁর সন্তানরা। পরিবর্তে মহিষাসুরমর্দিনী দেবীর দু’পাশে অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে পূজিত হন তাঁর দুই প্রিয় সখী জয়া ও বিজয়া।
দেবী দুর্গার এই ব্যতিক্রমী রূপের নেপথ্যে রয়েছে গভীর পৌরাণিক প্রেক্ষাপট। কালিকাপুরাণ ও দেবীপুরাণ অনুসারে, মহাদেবের সঙ্গে বিবাহের পরে গিরিরাজ হিমালয় ও মেনকার কন্যা পার্বতী যখন কৈলাসে যাত্রা করেন, তখন তাঁর সঙ্গী হয়েছিলেন সখীরাই। তা ছাড়া প্রাচীন সমাজে স্বচ্ছল পরিবারের নববধূর সঙ্গে দাসী ও প্রিয় সখীদের শ্বশুরবাড়ি পাঠানোর যে সামাজিক রীতি প্রচলিত ছিল, তারই এক সুদৃশ্য প্রতিফলন দেখতে পাওয়া যায় এই পুজোয়।
অষ্টসখীর মধ্যে জয়া ও বিজয়া বিশেষ ভাবে পরিচিত। বাংলার পাশাপাশি ওডিশার দুর্গাপুজোয় এবং পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের বিমলা মন্দিরেও দেবীর দু’পাশে জয়া-বিজয়ার উপস্থিতির এমন নিদর্শন দেখা যায়।
ফলে গুসকরার ঘটক বাড়ির পুজো কেবল একটি পারিবারিক উৎসবই নয়, এটি দেবী দুর্গার আরাধনার এক ভিন্ন ধারার ঐতিহাসিক পরিচয় বহন করে। সন্তানহীন অথচ সখীবেষ্টিত দেবীর এই রূপ দেখতে এবং বাংলার প্রাচীন সংস্কৃতির বৈচিত্র্য উপভোগ করতে তাই পুজোর মরশুমে ভিড় জমান বহু দর্শনার্থী।
