খুলনাঞ্চল রিপোর্ট।।
পেশাগত স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সব বিভাজন ভুলে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রবিবার ( ১১ অক্টোবর) দুপুরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ঢাকাস্থ ঠাকুরগাঁও সাংবাদিক ফোরামের ৪৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।
সংগঠনটির সভাপতি মানিক মুনতাসির ও সাধারণ সম্পাদক দেলওয়ার হোসেন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, গণমাধ্যমকর্মীদের চাকরির নিরাপত্তা, ন্যায্য বেতনকাঠামো ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা না গেলে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিবেশ গড়ে তোলা কঠিন।
সাংবাদিকদের যথাযথ কল্যাণ ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে না পারাকে সমাজের জন্য দুর্ভাগ্যজনক উল্লেখ করে তিনি পেশাগত স্বার্থরক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজের কল্যাণে সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সত্য প্রকাশে সাংবাদিকদের নির্ভীক ও দায়িত্বশীল হতে হবে। পাশাপাশি অনিয়ম, দুর্নীতি ও অন্যায় জনসমক্ষে তুলে ধরতে হবে। অপসাংবাদিকতা, অপতথ্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার প্রতিরোধেও মূলধারার গণমাধ্যম এবং পেশাদার সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ঢাকায় কর্মরত ঠাকুরগাঁওয়ের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে রাষ্ট্রপতি জেলার প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও মমত্বের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমি যে শিকড় থেকে এসেছি, যে শিকড় থেকে আমার বেড়ে ওঠা, সেই শিকড়কে আমি ধরে রাখতে চাই।”
ঠাকুরগাঁওকে সাম্প্রদায়িকতা ও মাদকমুক্ত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে রাষ্ট্রপতি এ লক্ষ্য অর্জনে সাংবাদিকদের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন।
বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করায় ফোরামের সদস্যদের অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রপতি। দেশ ও ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা পালন এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে পাশে থাকার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ঠাকুরগাঁওয়ে গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের বিষয়ে সজাগ থাকার এবং জেলার সাফল্য ও অর্জন জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার জন্য সংগঠনটির সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।
সাক্ষাৎকালে ঠাকুরগাঁও সাংবাদিক ফোরামের নেতারা রাষ্ট্রপতিকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান। তাঁরা সাংবাদিকদের পেশাগত বিভিন্ন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করেন। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।
এ ছাড়া সংগঠনের স্থায়ী কার্যালয় স্থাপন এবং গুরুতর অসুস্থ সদস্যদের জরুরি চিকিৎসার বিষয়েও রাষ্ট্রপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তাঁরা।
রাষ্ট্রপতি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং সংগঠনটির সমৃদ্ধি ও সদস্যদের সার্বিক কল্যাণ কামনা করেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিবসহ বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
