ভারতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন ক্রমেই সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নিচ্ছে। বিরোধী দল ও আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকায় এমন কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপিকে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এ কারণে সাম্প্রতিক বিক্ষোভগুলোর মূল দাবি ছিল প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। তবে চলমান আন্দোলনে এখন সরকার পরিবর্তনের দাবিও জোরালো হয়ে উঠেছে।
প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের পুরো সময় মোদির শাসনামলে কাটিয়েছেন রুবি সিং। একসময় সরকারি কর্মকর্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখা এই নারী এখন পুরোপুরি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়েছেন। এক সাক্ষাৎকারে রুবি দাবি করেন, সরকার তরুণ ভারতীয়দের জন্য কর্মসংস্থান ও শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টিতে ব্যর্থ হয়েছে।
রুবি বলেন, ''আজ যদি আমরা ঐক্যবদ্ধ না হই তাহলে আগামীকাল হয়তো আমরা ভারতকে পুরোপুরি একটি ‘পুলিশি রাষ্ট্র’ হিসেবে দেখব। অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, এই জাতির গণতন্ত্র বাঁচানোর এটাই হয়তো আমাদের শেষ সুযোগ। আজ যদি আমাদের স্তব্ধ করে দেওয়া হয়, তবে এমন একটি সরকার ক্ষমতায় চলে আসতে পারে, যা আমরা কখনোই চাইনি। যদি কোটি কোটি মানুষকে চুপ করিয়ে দেওয়া হয়, তবে কী নিশ্চয়তা আছে যে আগামীকাল আমিও তাদের একজন হয়ে উঠব না?''
আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্র যন্তর মন্তরে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে রুবি আরও বলেন, ''আমরা চাই মোদি যেন ফিরে যান। আমরা মোদির শাসন থেকে মুক্তি চাই। এরা যেভাবে মানুষের ভোট চুরি করেছে এবং আমাদের সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নিয়েছে, তা মেনে নেওয়া যায় না। আমাদের ওপর ব্যাপক কড়াকড়ি চালানো হচ্ছে। কিন্তু আমরা স্লোগান দিতেই থাকব, কারণ লড়াই তো সবে মাত্র শুরু হয়েছে।''
সরকার পরিবর্তনের দাবি শুধু আন্দোলনকারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের বক্তব্যেও এমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ১৫ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে সিজেপি নেতাদের সঙ্গে অংশ নেন ভারতের প্রখ্যাত আইনজীবী ও সমাজকর্মী প্রশান্ত ভূষণ। সরকারের দমন-পীড়নের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ''সরকার বলছে যে এটি নাকি তাদের ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্র। বিরোধীদল নাকি সরকার পরিবর্তন করতে চাইছে। আমরা তো কেবল নির্বাচন ব্যবস্থা ঠিক করার চেষ্টা করছিলাম। তাদের কাছে বারবার আকুতি জানাচ্ছিলাম যেন দেশে আবার নির্বাচনী গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা হয়। কিন্তু সরকার যদি এভাবে বর্বরতা চালিয়ে যেতেই থাকে, তবে সরকার তো পরিবর্তন হবেই। হ্যাঁ, আমরা সরকার পরিবর্তনই চাই। আমরা সবাই মিলে এই সরকারের পতন চাই।"
ভারতে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটানোর পরিকল্পনা করছে বিরোধীরা এমন অভিযোগ তুলেছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দলটির মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি এ দাবি করেন। এ সময় তিনি অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নেত্রী নেহা বোরার একটি মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, বাংলাদেশের তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্দোলন থেকে অনুপ্রাণিত হওয়ার কথা বলেছেন নেহা বোরা।
ভান্ডারি অভিযোগ করেন, নেহা বোরার বক্তব্য এবং রাহুল গান্ধীর সাম্প্রতিক প্রতিবাদ মিছিলে তাঁর উপস্থিতি প্রমাণ করে, ভারতে অস্থিরতা সৃষ্টি করে কেন্দ্রীয় সরকারের পরিবর্তন আনার চেষ্টা চলছে।
চলতি সপ্তাহে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে কংগ্রেস ও সিজেপির আন্দোলন একসঙ্গে চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া ইনডিয়া জোট থেকে দূরে থাকা আম আদমি পার্টিও সিজেপির বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
এমএমটি
-20261016095004.jpg&w=1440&q=75)