ভোটচুরি নিয়ে নিত্যদিন আন্দোলন করে যাচ্ছেন রাহুল গান্ধী। কখনও জেন জি’র মন পেতে ‘ছাত্রো কি গুঞ্জ’ করছেন। বিরোধী শিবির দাবি করছে, দেশজুড়ে মোদি বিরোধী হাওয়া বইছে। কিন্তু কোথায় কী? ভোটের ফলে অন্তত এসবের কোনও প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। অন্তত গুজরাটের পুরভোটের নির্বাচনে মোদি বিরোধী কোনও হাওয়া সেভাবে প্রভাব ফেলল না। একচ্ছত্রভাবে জিতল বিজেপি। কংগ্রেস যৎকিঞ্চিৎ আসন বাড়ালেও জয়ের ব্যবধান বিরাট।
দিন দুই আগে গুজরাটের রাজধানী গান্ধীনগর-সহ ৩ পুরসভার নির্বাচন হয়েছে। ৩ পুরসভাই প্রত্যাশিতভাবে বিজেপির দখলে গিয়েছে। গান্ধীনগর পুরসভার ৪৪ আসনের মধ্যে ৩৮ আসনই গিয়েছে গেরুয়া শিবিরের দখলে। কংগ্রেস জিতেছে মাত্র ৫ আসনে। অবশ্য ২০২১ সালের তুলনায় দুটি আসন বেড়েছে হাত শিবিরের। পাঁচ বছর আগে গান্ধীনগরের ৪৪ আসনের মধ্যে ৪১টি জিতেছিল বিজেপি। কংগ্রেস দু’টি এবং আপ একটি আসন জিতেছিল। এবার আপ খাতা খুলতে পারেনি। একটি আসনে জিতেছেন নির্দল প্রার্থী।
থারা পুরসভাতেও একই ধরনের দাপট অব্যাহত গেরুয়া শিবিরের। ওই পুরসভার ২৪ আসনের মধ্যে ১৯ আসন গিয়েছে গেরুয়া শিবিরের দখলে। কংগ্রেস জিতেছে বাকি পাঁচটি। ২০২১ সালে এই পুরসভায় বিজেপির দখলে গিয়েছিল ২০ আসন। কংগ্রেস জিতেছিল বাকি চারটি। ওকরা পুরসভায় ৩৬ আসনের মধ্যে ৩৩টি জিতেছে বিজেপি। কংগ্রেসের দখলে গিয়েছে ৩টি। ২০২১ সালে এই পুরসভায় বিজেপি জিতেছিল ৩৪ আসন। কংগ্রেসের দখলে গিয়েছিল ২টি আসন। অর্থাৎ পাঁচ বছরের প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা এত আন্দোলন, প্রতিবাদের পরও নামমাত্র আসন বৃদ্ধি ছাড়া কাজের কাজ কিছুই করতে পারেনি কংগ্রেস। এর আগে হিমাচল প্রদেশ, পাঞ্জাবের পুরভোটেও ভরাডুবি হয়েছে কংগ্রেসের।
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, রাহুলের এত আন্দোলন, এত বিক্ষোভে আদৌ কংগ্রেসের কোনও লাভ হচ্ছে কী? যদিও হাত শিবির বলছে, পুরসভা নির্বাচনের ফলে এত গুরুত্ব দেওয়ার কোনও অর্থ হয় না। কেন্দ্র ও রাজ্যে ক্ষমতায় থাকার দরুন উপনির্বাচনে বিজেপি অ্যাডভান্টেজ পাবে সেটাই স্বাভাবিক।
