প্রবাসীদের পাঠানো আয় (রেমিট্যান্স) ও রফতানি আয় বৃদ্ধির ইতিবাচক ধারায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ আবারও বৃদ্ধি পেয়ে ৩৬ দশমিক ৩০ বিলিয়ন (৩ হাজার ৬৩০ কোটি ৮২ লাখ) ডলারে পৌঁছেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দিনশেষে গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুসরণ অনুযায়ী বর্তমানে রিজার্ভের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৫০ বিলিয়ন (৩ হাজার ১৫০ কোটি ১৫ লাখ) ডলারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিবন্ধিত মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান রিজার্ভের এ হালনাগাদ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এর আগের দিন গত ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে রিজার্ভ ছিল ৩৬ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ছিল ৩১ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার। তার আগে গত ১১ অক্টোবর নিজস্ব হিসাবে ৩৬ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ৩১ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার ছিল।
চলতি অক্টোবর মাসের গোড়ার দিক থেকেই রিজার্ভে টানা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। গত ৮ অক্টোবর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে রিজার্ভ ছিল ৩৬ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার (বিপিএম-৬ অনুযায়ী ৩১.৩৪ বিলিয়ন), ৭ অক্টোবর ছিল ৩৬ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার (বিপিএম-৬ অনুযায়ী ৩১.৩১ বিলিয়ন) এবং গত ২৯ সেপ্টেম্বর ছিল ৩৬ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার (বিপিএম-৬ অনুযায়ী ৩১.২৯ বিলিয়ন)।
এর আগে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে গত ২০ সেপ্টেম্বর নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ৩৬ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ছিল ৩১ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার। ১৬ সেপ্টেম্বর নিজস্ব হিসাবে রিজার্ভ ছিল ৩৬ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার (বিপিএম-৬ অনুযায়ী ৩১.৪৬ বিলিয়ন), ১০ সেপ্টেম্বর ছিল ৩৬ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলার (বিপিএম-৬ অনুযায়ী ৩১.৩৬ বিলিয়ন) এবং ৮ সেপ্টেম্বর রিজার্ভ দাঁড়িয়েছিল ৩৬ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার (বিপিএম-৬ অনুযায়ী ৩১.৫২ বিলিয়ন)।
উল্লেখ্য, এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) চলতি বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসের ১ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলারের আমদানি বিল পরিশোধের ফলে গত ৬ সেপ্টেম্বর গ্রস রিজার্ভ কমে ৩৬ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলারে এবং বিপিএম-৬ হিসাবে ৩১ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছিল। আকুর বিল শোধের আগে গত ১ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৩৭ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ গণনা অনুযায়ী ৩২ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলারে অবস্থান করছিল।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আকুর দেনা শোধের ধকল কাটিয়ে উঠে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের উচ্চ প্রবাহ রিজার্ভ পুনর্গঠনে বড় ভূমিকা রাখছে, যা বৈশ্বিক মন্দার এ সময়ে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করছে।
