কুড়িগ্রামের রৌমারীতে চালবোঝাই ট্রাকের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার পাঁচ যাত্রী নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুই নারী ও দুই শিশুসহ একই পরিবারের চারজন রয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে আরও এক শিশু।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে রৌমারী-ঢাকা মহাসড়কের যাদুরচর ইউনিয়নের শিবেরডাঙি ও সায়েদাবাদ বাজারসংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত একই পরিবারের চারজন হলেন রৌমারী উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের চতলাকান্দা গ্রামের শিক্ষক শহিদুল ইসলামের স্ত্রী লিপি খাতুন (৩৫), তার ছেলে রিশাদ, মেয়ে তুবা এবং লিপির বোন শরীফা বেগম। দুর্ঘটনায় নিহত অপর ব্যক্তি অটোরিকশাচালক। তবে তার পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
আহত শিশু বৃষ্টিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে সায়েদাবাদ বাজার এলাকায় মহাসড়কের পাশে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় দ্রুতগতিতে আসা চালবোঝাই একটি ট্রাক অটোরিকশাটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই দুই নারী ও এক পুরুষ নিহত হন। পরে আহতদের হাসপাতালে নেয়ার পথে ও চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়।
রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুস সামাদ জানান, হাসপাতালে পাঁচজনের মরদেহ আনা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুই নারী ও দুই শিশু রয়েছেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহত এক শিশুকে ময়মনসিংহে পাঠানো হয়েছে।
রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওছার আলী বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে অংশ নেন। দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরানো ও ট্রাকটি জব্দের প্রক্রিয়া চলছে।
রাজিবপুর ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার মো. আবু হানিফ জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালান। পরে হতাহতদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
কুড়িগ্রামের সহকারী পুলিশ সুপার রাসেল কবীর দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
একই পরিবারের চারজনসহ পাঁচজনের প্রাণহানির ঘটনায় চতলাকান্দা গ্রামসহ রৌমারীজুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করছে। দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
