বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দিবাগত রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে পরিচালনা কমিটির সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে কথা বলেন ওসি। এ সময় তিনি মণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা, প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ এবং আলোকসজ্জা পর্যবেক্ষণ করেন।
পরিদর্শনকালে ওসি জানান, আগামী ১৭ অক্টোবর থেকে প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত তিন শিফটে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করতে হবে। প্রতিটি শিফটের মেয়াদ হবে আট ঘণ্টা। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা, বিকেল ৪টা থেকে রাত ১২টা এবং রাত ১২টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত তিন ভাগে দায়িত্ব বণ্টন করতে হবে। প্রতি শিফটে পাঁচজন করে মোট ১৫ জন স্বেচ্ছাসেবক ও পাহারাদার রাখতে হবে।
তিনি আরও নির্দেশ দেন, প্রতিটি পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে এবং সেগুলো সার্বক্ষণিক সচল আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নিজস্ব লোকবল দিয়ে প্রবেশপথে পাহারার ব্যবস্থা এবং অপরিচিত ব্যক্তিদের প্রবেশের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। নিরাপত্তা জোরদারে আনসার সদস্যদের পাশাপাশি পুলিশ নিয়মিত টহল দেবে।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে ওসি বলেন, কোনো ধরনের গুজবে কান দেওয়া যাবে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক পোস্ট কিংবা সন্দেহজনক কোনো বিষয় চোখে পড়লে দ্রুত পুলিশকে অবহিত করতে হবে। প্রতিটি মণ্ডপে পুলিশের মোবাইল টিমের পাশাপাশি সাদাপোশাকের পুলিশ সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন। পূজার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চন্দনাইশ থানায় একটি নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা হয়েছে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে। সব ধর্মের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন নিশ্চিত করাই পুলিশের লক্ষ্য।
থানা সূত্রে জানা গেছে, এ বছর চন্দনাইশ উপজেলার আটটি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় মোট ৯৪টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া ৪১টি ঘটপূজার আয়োজন করা হয়েছে। রাত্রিকালীন পরিদর্শনকালে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ চলতে দেখা যায়। এ সময় চন্দনাইশ থানার সেকেন্ড অফিসার রূপক কর্মকারসহ থানার অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
The post চন্দনাইশে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় তিন শিফটে পাহারা, প্রতিটি মণ্ডপে সিসিটিভি স্থাপনের নির্দেশ ওসির appeared first on ভোরের চেতনা.
