ধর্ম, বর্ণ ও গোত্র নির্বিশেষে একটি ঐক্যবদ্ধ, সাম্য ও অধিকারভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেছেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ হাবিব। তিনি বলেছেন, আজকের এই স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে তথাকথিত সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু নিয়ে চিন্তার কোনো অবকাশ নেই। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—সবাই মিলে আমাদের এই বাংলাদেশ।
সোমবার রাজধানীর রাজারবাগে শ্রী শ্রী বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির পরিদর্শনকালে এক সুধী সমাবেশে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। মন্দির কমিটির সভাপতি শ্রী শ্রী পবন দাসের সভাপতিত্বে এবং গুরুদাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাবু যদু চন্দ্র দাস, পঞ্চায়েত সভাপতি বাবু ঠাকুর দাস, সাধারণ সম্পাদক খোকন চন্দ্র দাসসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
বিজ্ঞাপন
প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ তার বক্তব্যে বলেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফার দ্বিতীয় দফায় ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সকল নাগরিকের পূর্ণ অধিকার সংরক্ষণের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করার কথা বলা হয়েছে। একইভাবে তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফার দ্বিতীয় দফায় ‘রেইনবো নেশন’ বা সম্প্রীতিমূলক জাতিসত্তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এক রঙের ফুল দিয়ে যেমন সুন্দর মালা হয় না, তেমনি নানা রঙের ও নানা গন্ধের ফুল একত্র করলেই একটি সুন্দর মালা তৈরি হয়। আমাদের দেশে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সব ধর্মের মানুষ মিলেই বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের সৌন্দর্য। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বিশ্বাস করে, ধর্ম যার যার, কিন্তু রাষ্ট্র সবার। আর নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকারও সবার।
পূজার সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তার প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এ বছর শারদীয় দুর্গোৎসবে জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে একদিন ছুটি বাড়িয়ে টানা তিন দিন করা হয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটিসহ দেশবাসী এবার পাঁচদিনের ধারাবাহিক ছুটি উপভোগ করছেন। পাশাপাশি পূজামণ্ডপে সরকারি অনুদান বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বত্র কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।
তিনি জানান, দেশজুড়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা পূজা মণ্ডপগুলোতে ধর্মীয় সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। যার ফলে এ বছর রেকর্ডসংখ্যক—প্রায় ৩৪ হাজার মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১,৫০০টি বেশি। ঢাকা-০৯ নির্বাচনি এলাকার ৯৯টি পূজা মণ্ডপে খিলগাঁও, মুগদা ও সবুজবাগ থানার ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করছেন।
সবশেষে প্রতিমন্ত্রী সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো ধরনের বিদ্বেষ, উসকানি বা বৈষম্য আমাদের কাম্য নয়। আসুন, সবাই মিলে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলি—যেখানে রাষ্ট্র, অধিকার ও ভবিষ্যৎ হবে সবার।
