The Sangbad · সাধারণ
ঢাকা মেট্রোরেলের ঝুঁকি বাড়ছে: দায় কার?
১৩/১০/২০২৬

ডক্টর মোহাম্মদ শামসুল হক, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক। তিনি মেট্রো রেল, ঢাকার যানজট, সড়ক ও মহাসড়ক সহ বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞ। মেগা প্রকল্প মেট্রোরেল নিয়ে কি হয়েছে এবং রাজধানী ঢাকার শৃঙ্খলা কীভাবে আনা যায় সেসব বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে আলাপ করেছেন সংবাদ ডিজিটাল এর বার্তা প্রধান রাশেদ আহমেদ। আলাপচারিতা হুবহু তুলে ধরা হলো।রাশেদ আহমেদ: মেট্রো রেল দিয়ে শুরু করি, এটি তো ঢাকা শহরের যাত্রীদের একটি বড় চাহিদা পূরণ করছে অন্যদিকে এটি বিশ্বের এক্সপোর্ট দেশ জাপানের টিম নির্মাণ করেছে। তো নির্মাণের পরপরই এর নানা ত্রুটিবিচ্যুতি ধরা পড়েছে; আপনাদের কমিটির রিপোর্টে আছে। এর বিয়ারিং প্যাড খসে পড়ে মানুষ মারা যায়। ইদানিং দেখা যায় বিভিন্ন সময় যান্ত্রিক ত্রুটিতে বন্ধ হয়ে যায়। সেটি নিয়ে আপনাদের একটি অবজার্ভেশন আছে, একটু ডিটেইল বলবেন যে ঘটনাটা কি হয়েছে?ড. মো. শামসুল হক: ২০০৫ সালে আমাদের কৌশলগত পরিকল্পনাপত্রে মেট্রোর প্রথম পরিকল্পনা আসে। এবং একটা মহাপরিকল্পনা করা হয় যেখানে তিনটা মেট্রো এবং তিনটা বিআরটি বাস র্যাপিড ট্রানজিট হওয়ার কথা। তো সেই হিসেবে অনেকদিন ধরে স্থবির ছিল, গত সরকারের সময়ে হঠাৎ এসে মেট্রো সিক্স, উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত এই সেকশনটা সবচেয়ে প্রফিটেবল হওয়ার কথা। কারণ একদিকে হলো সব রেসিডেন্সিয়াল এরিয়া। উত্তরা, পল্লবী, মিরপুর, কাজীপাড়া, শ্যাওড়াপাড়া, সেনপাড়া, পর্বতা, এই যে আগারগাঁও পর্যন্ত, প্রচুর মানুষের বসতি। তারা আবার জব সেন্টারে আসে কারওয়ান বাজার থেকে অনওয়ার্ড। তো এত ভেরি লুক্রেটিভ একটা মেট্রো, জাপানিজরাই সাজেস্ট করল যে এটা যদি করা যায়, তাহলে পরিবহন চাহিদাটা বিশেষ করে অফিস টাইমে বেশ একটা সুন্দর ফ্যাসিলিটি দিবে। পুরো পৃথিবীতেই কিন্তু মেট্রো অফিস টাইমে যেটাকে পিক আওয়ার বলে, এটার একটা সমাধান দেয়, টেকসই সমাধান দেয়। গাড়ি নিজের থাকলেও বাসায় রেখে মেট্রোয় চলে। কারণ নির্ভরযোগ্যতা পাওয়া যায় দ্রুতগতিতে যাওয়া যায়। তো সেই হিসাবে এই মেট্রো করা হয় কিন্তু সামহাউ আমাদের এখানে যারা মেট্রোটা স্টিয়ার করেছেন, এই জায়গায় কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন বিশ বছরের জ্ঞানসম্পন্ন ইঞ্জিনিয়ার থাকার কথা, কিন্তু অতি উৎসাহী কিছু আমলা, গত সরকারের সময়ে যে দেশের বিশৃঙ্খলাটা হয়েছে এটা ওয়ান অফ দ্যা বেস্ট এক্সাম্পল। কাজ করার কথা ইঞ্জিনিয়ারদের, সেখানে এই সচিবরা রিটায়ারমেন্টের আগে আগেই এই অর্গানোগ্রামটাকে চেঞ্জ করে। এটাকে কিউটি বলা হয়, কিউটি মানে হচ্ছে কী ধরণের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তি হবে, সেখানে দিয়ে দিয়েছে আমলা। রিটায়ারি আমলা। একজন না, উপরের দিকে সবগুলোতে। ওনারা বসে এই মেট্রো প্রজেক্টটাকে যখন স্টিয়ার করছিল, জাপানিজ এই যে অর্থায়নটা আছে, তারাই কিন্তু ফিজিবিলিটি স্টাডি করে, তারাই বানানোর জন্য অর্থায়ন করে এবং তাদের স্পেসিফিকেশনে ডিজাইনে কনট্রাক্ট তৈরি হয় এবং সেইভাবেই কিন্তু কাজগুলি হয়। তো সেই হিসাবে ওরা যখন দেখল যে তাদের কাউন্টারপার্ট যারা বসে আছেন তারা অন্ধ। কিছুই জানেনা। মেট্রো সিস্টেম একটা টেকনোলজিক্যাল ড্রিভেন একটা অবকাঠামো উন্নয়ন। এখানে শুধু জ্ঞান থাকলে হয় না অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। অন্যান্য দেশ যখন প্রথম মেট্রো হয় তারা জ্ঞান আছে তাদেরকে নিয়ে এসে পিডি বানায়। কিন্তু আমাদের পিডি এমডি সব আমলা হওয়াতে আমরা কিন্তু যেই মেট্রোটা পেয়েছি তাতে অর্থ বেশি দিয়েছি পার কিলোমিটারে। আমাদের সমসাময়িক পাকিস্তান বানিয়েছে, ইন্দোনেশিয়া বানিয়েছে, কলকাতায় একটা বানিয়েছে এবং জাইকাই কিন্তু অর্থায়ন করেছে। আমাদের এখানে প্রায় দুই থেকে আড়াই গুণ বেশি খরচ করে ফেলেছি। আবার যারা কনসালটেন্ট ছিল তারাও কিন্তু জাপানিজ কনসালটেন্ট। ভেরি ভেরি এক্সপেন্সিভ। আমরা বলব যে এত পারিশ্রমিক অন্য কোথাও কোন দেশ দেয় না। আমরা দিয়েছি। কিন্তু দেওয়ার পরেই আমরা যেই জিনিসটা দেখতে পেলাম যেই মেট্রোটা পেয়েছি, সেটি তুলনামূলক ভালো নয়। মেট্রো অনেক ধরণের হয়। এটা একটা বেসিক মেট্রো পেয়েছি। তাতেই কিন্তু অনেক খরচ হয়ে গেছে। অন্যদের, যেমন ইন্দোনেশিয়ার মেট্রোটা অনেক উঁচু দিয়ে গিয়েছে। পাঁচ কিলোমিটার আন্ডারগ্রাউন্ডে গিয়েছে, সেই উঁচু মেট্রোর তলা দিয়ে অন্য ফ্লাইওভারও কিন্তু যাওয়ার মতো উচ্চতাটা দিয়েছে। পাশাপাশি তারা স্টেশনের আশেপাশে শুধু যাত্রীর থেকে ইনকাম না করে কমার্শিয়াল ডেভেলপমেন্টের মাধ্যমে ট্রানজিট অরিয়েন্টেড ডেভেলপমেন্ট যেটা আধুনিক সুযোগ তৈরি করে, সেইটা করে নন ফেয়ার রেভিনিউ কালেকশন করেছে। যাত্রীর শুধু ফেয়ার না, কমার্শিয়াল স্পেসের ভাড়ার থেকে এইটা, ইনকামটা করে এবং অপারেশন খরচ কমানোর জন্য স্টেশন ডিপোতে সোলার প্যানেল লাগিয়েছে। যার ফলে এনার্জিটাও কম হয়। আমাদের এখানে না আছে সোলার প্যানেল, না আছে ট্রানজিট অরিয়েন্টেড ডেভেলপমেন্ট। বামন হাইটে করে গেছে তার তলা দিয়ে কোনো ফ্লাইওভার এখন যায় না। খাটো একটা জিনিস বেসিক একটা জিনিস কিন্তু খরচের দিকে গিনেস বুকে রেকর্ড করে ফেলেছি।রাশেদ আহমেদ: তাহলে কি এটি সাধারণ মানুষের সুবিধা হয়নি এটি বলতে চাইছেন? ড. মো. শামসুল হক: সোজা কথা এই মেট্রোটা আমজনতার মেট্রো হয় নাই। যারা অফিসে যায় যাদের কাছে সময়ের মূল্য আছে, তারাই শুধু এফোর্ড করতে পারছে। কিন্তু একটা লো ইনকাম পিপল আমি সাক্ষাৎকার নিয়েছি তাদের পোষায় না। বিশ পঁচিশ টাকা প্রতি সাইডেই বেশি লেগে যায়। সেটার মধ্যে আবার ফিডার কানেকশনও দেয় নাই। বাইরে কিন্তু মেট্রো সিস্টেম ড্রিভেন হয়। আমরা করেছি স্টেশন টু স্টেশন কানেক্টিভিটি দিয়েছি, উত্তরা থেকে মতিঝিল। উত্তরা স্টেশনে কীভাবে আসবে? মতিঝিলে নামার পর গন্তব্য অনেক জায়গায় কীভাবে যাবে? কিভাবের উত্তরটা আমরা দেই নাই। ইভেন পাকিস্তানেও কিন্তু ফিডার দিয়েছে। রাশেদ আহমেদ: তাহলে বলতে চাইছেন, আমাদের চিন্তা ভাবনা সীমাবদ্ধ ছিলো?ড. মো. শামসুল হক: সবাই একবিংশ শতাব্দীর মেট্রো কেমন হবে, সেটি ভাবছে আর আমরা গেছি পেছনে। আমি আমেরিকায় যাচ্ছি না, আমি জাপানে যাচ্ছি না, সিঙ্গাপুরে যাচ্ছি না, আমাদের আশেপাশের যারা প্রথম মেট্রো করল, তারা যদি সেই ভুলটা না করে আমরা এই আমলাদের আন্ডারে পড়ে বেসিক একটা মেট্রো, পার কিলোমিটারে খরচ দিয়েছি বেশি। সবচেয়ে বেশি আমার কাছে এখন লাগে দেড় হাজার কোটি টাকার মতো কনসালটেন্সি ফি দিয়েছি জাপানিজদেরকে। এখন দেখতে পাচ্ছি, পৃথিবীতে মেট্রো তৈরি হওয়ার পর কমার্শিয়াল লাইফে বিশ ত্রিশ বছর এটা থেকে খালি আপনি ইনকাম করবেন কারণ আপনি বিনিয়োগ করেছেন। আপনার পরবর্তীতে মেন্টেনেন্স করতে হবে। সুতরাং আপনার ইনকাম লেভেলটা অনেক হতে হবে, রেভিনিউ জেনারেশনটা। আমাদের এখানে দেড় দুই বছরের মাথায় পরপর দুইটা বিয়ারিং পড়ে যায়। এবং এই বিয়ারিং একজন মারাও যায়।রাশেদ আহমেদ: এটার নির্মাণ নকশায় ত্রুটি আছে কিনা ?ড. মো. শামসুল হক: আমি সেই প্রশ্নতেই আসছি। এবং এই ঘটনাটা পৃথিবীতে ইউনিক ঘটনা। যে বিয়ারিং প্যাড ওজন নিয়ে জায়গা মতো থাকার কথা। ও কখনো ডিসপ্লেস হওয়ার কথা না। কারণ তার কাজটাই হলো উপরের যে ভাইয়াডাক্টের ওজনটা আছে, পিয়ার হেডের উপরে বসে সেই ওজনে আটকে থাকবে। সে সরে যাবে কেন? রাশেদ আহমেদ: এই দায় তাহলে কাদের? ড. মো. শামসুল হক: জাপানি কনসালটেন্টরা এই দায় কি এড়াতে পারে? তাদের দেশে যদি এরকম কোনো ঘটনা ঘটত জাপান তো অত্যন্ত কমপ্লায়েন্ট সোসাইটি, কত দায়ী করত। কারণ একটা লোক মারা গেছে তার মানে অবহেলা জনিত কারণে ডিজাইন ঠিক ছিল না। ডিজাইন ঠিক থাকলে তো পড়ে যায় না। পাশাপাশি আমরা এখন হাই কোর্টের নির্দেশনায় যখন এটার সেফটি অডিটটা করি, যেটা ওদের করার কথা ছিল। কারণ মেট্রো পাবলিক অপারেশনে গেলে পরে টেন্ডারেই ছিল, এর সেফটি একটা অডিট করে নিতে হবে যাতে করে এটা নিরাপদ কিনা। করেনি। এটা করেনি। পয়সা খরচ হয়েছে দেখেন, কিন্তু অনেক কিছু স্কিপ করে চলে গেছে। ডায়নামিক টেস্ট করা হয়নি। চলার অবস্থায় ইনফ্রাস্ট্রাকচারের ডায়নামিক পারফরম্যান্সটা কেমন সেটাও আমরা দেখিনি। তো যার ফলে হইছে কী আমি বলব এই প্রজেক্টটা জাপানিরা ফিজিবিলিটি স্টাডি করেছে, জাপানিদের ডিজাইনে এবং স্পেসিফিকেশনে নির্মাণ হয়েছে, জাপানিদের কনসালটেন্ট ছিল, এবং প্রতিটা জায়গায় আমরা বেশি বেশি দিয়েও যা পেয়েছি দুর্বল একটা অবকাঠামো।রাশেদ আহমেদ: আপনাদের রিপোর্টে আরও কিছু শংকার কথা বলেছেন।ড. মো. শামসুল হক: আমরা দেখেছি বিয়ারিং প্যাড মুভ করছে। তার মানে সেগুলিও কিন্তু জায়গা মতো নাই। তাদেরকে ঠেকানোর জন্য এখন সরকার আবার বিনিয়োগ করছে। ফ্রেশ একটা প্রজেক্ট, যেখান থেকে আপনি রিটার্ন পাওয়ার কথা । এখনই একটা কী বলব শ্বেত হস্তী পেয়ে গেছেন। আপনাকে এখন মেন্টেনেন্স নিয়ে চলতে হবে। মেট্রোর মেন্টেনেন্স কিন্তু অনেক কঠিন জিনিস। সো আমি বলব জাপান এখানে দায় এড়াতে পারে না। কনসালটেন্ট এখানে দায় এড়াতে পারে না।রাশেদ আহমেদ: বর্তমান সরকার এটি নিয়ে কি ভাবছে? ড. মো. শামসুল হক: এই সরকার কেন জানি অত্যন্ত দুর্বল। টু থার্ড মেজরিটির সরকার দুর্বলতার কোন লক্ষণ দেখানোর কথা না। আমি তোমাকে পয়সা দিয়েছি, অতিমূল্যায়িত কনসালটেন্সি ফি দিয়েছি। বিয়ারিং প্যাড পড়ে একজন মারা গেল, তাহলে কে ডিজাইনার ছিল, কে নির্মাণে ছিল, সংগত কারণেই কিন্তু এই জিনিসগুলি চলে আসে। কিন্তু আনছে না। কেন আনছে না? মন্ত্রণালয়গুলি চুপ। তাদের বসই এখানে বসে ছিলেন। গুড গভর্ন্যান্সের কোন লক্ষণ এই সরকার দেখাতে পারছে না। এত বড় ঘটনা ঘটল। গিনেস বুক অফ রেকর্ডে উঠেছে। আর কোথাও কিন্তু এরকম বিয়ারিং প্যাড পড়ে পৃথিবীতে প্রায় নব্বই থেকে একশটার উপরে সিটিতে মেট্রো আছে। কারও কিন্তু এরকম ঘটনা ঘটেনি। এবং ঘটার কোনো সম্ভাবনাই নাই। বিয়ারিং প্যাড জায়গা মতো থেকে ওজন নিবে সে সেই জায়গায় না থেকে পড়ে গেছে। পড়ে গিয়ে মারা গেছে কোনো দায়বদ্ধতা নাই। আমি বলব সুশাসনের যথেষ্ট অভাব দেখা যাচ্ছে।রাশেদ আহমেদ: বিষয়টা কি এইরকম যে জাইকার কাছ থেকে যেহেতু ঋণ নেয়া হয়েছে, সেটা জাপানেরই তো একটি প্রতিষ্ঠান, তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে এখানে?ড. মো. শামসুল হক: না এদেশটাকে দুর্বল ভেবেছে। ও যখন দেখেছে তার কাউন্টারপার্ট হচ্ছে একটা আমলা। টেকনিক্যালি নলেজের তার ধারে কাছে নাই। তা যেকোনো একজন কনট্রাক্টার এবং কনসালটেন্ট তার একটা কমার্শিয়াল এন্টিটি। যেই লোকগুলিকে এনে কাজ উদ্ধার করার কথা ছিল। যাকে আপনি ঝাঁকুনি দিবেন যে ঝাঁকুনি দেওয়ার লোক তো ব্লাইন্ড পিপল। কাউন্টারপার্ট তো ব্লাইন্ড পিপল। জাপান নিজেও কিন্তু বলেছিল তোমাদের এখানে যে টপ হবে এই লাইনের কিন্তু এক্সপেরিয়েন্সড লোক থাকতে হবে। তখন আপনি ধরতে পারতেন এই লোক তো আমি চাই নাই আমি তো তার থেকে আরো বেটার লোক চেয়েছিলাম। আমি তো এই ধরণের কাজ চাইনি। কাজের কোয়ালিটি কন্ট্রোল তো আমি করব। তুমি আমাকে রিপোর্ট দাও রিপোর্ট তো ঠিক আসেনি। তার মানে আপনি যখন ইন্টারন্যাশনাল প্রটোকলে একটা কাজ নিবেন আপনি প্রথম মিটিং এ দেখবেন আপনার কাউন্টারপার্ট কে। আপনি যদি জানেন সে টেকনিক্যাল পার্সন না, সে ইঞ্জিনিয়ার না এবং সে কোনোদিন এই এক্সপেরিয়েন্সও গেইন করেনি। তো আপনি কি করবেন জাপানে যাদের চাকরি হয় না তাদেরকে বাংলাদেশে নিয়ে আসো। কারণ তাকে জিজ্ঞাসা করতে পারবে না, সে কি বিশেষজ্ঞ নাকি বিশেষজ্ঞ না। সো আমি বলব এই সরকার যদি কোনো ইনভেস্টিগেশন না করে, সেফটি অডিটের পরে যদি দেখা যায় পিয়ার হেডে দুই বছরের মাথায় বড় বড় ক্র্যাক দেখা দিচ্ছে। এটা কিন্তু অশনিসংকেত। প্রতিদিন ট্রেন চলে একটা বড় গাড়ি চলে ভাইব্রেশন দেয়। দুই বছরের মাথায় যদি ক্র্যাক আসে, একটা বিয়ারিং না, প্রায় থার্টি পারসেন্টের মতো বিয়ারিং সরে যাচ্ছে, তাদেরকে ঠেকায় রাখার জন্য সরকারকে এখন পয়সা দিতে হচ্ছে। উপরে যেই ক্যাটেনারি সিস্টেম আছে দুর্বল ম্যাটেরিয়াল হয়তো দিয়েছে অডিট তো হয় নাই বলতে পারছি না, সেই জায়গায় স্পার্ক হয়। স্পার্ক হওয়া মানে হলো ম্যাটেরিয়ালের ক্ষয় হয় ঘন ঘন। ট্রেন স্টেশনের নির্ধারিত জায়গায় থামে না ওভারশুট করে আন্ডারশুট করে সেফটির প্রবলেম আছে। দেন বেশ কিছু সেকশনে চলার সময় কাঁপে। স্থাপনা কাঁপে। স্পিড কমিয়ে দিচ্ছে। সরকার তো ব্লাইন্ড থাকার কথা না এই জায়গায়।আমরা থ্রি বিলিয়ন ডলার দিয়ে থ্রি পয়েন্ট টু বিলিয়ন ডলার দিয়ে ইনভেস্ট করেছি। আশেপাশের সবার থেকে টাকা বেশি দিয়েছি কনসালটেন্টও বেশি দিয়েছি। আমি তো আউটকাম দেখেই এখন বলতে পারি কাজ তো ঠিক হয়নি। কারা কারা ছিল। টু শব্দটা নেই সরকারের। সরকার অনেক জায়গায় অনেক দুর্নীতি অসচ্ছতার জন্য জবাবদিহিতা এস্টাবলিশ করছে কিন্তু এখানে করছে না। সামথিং রং।রাশেদ আহমেদ: যে অডিট কমিটি করা হয়েছিলে সেই কমিটির সদস্য তো আপনি। আপনারা রিপোর্টও দিয়েছেন। ড. মো. শামসুল হক: হ্যাঁ রিপোর্ট দিয়েছি। তো অডিট কমিটির রিপোর্ট এসেছে তার কনসিকোয়েন্সটা কি? এটার আউটকামটা কি? এবং একটা আউটকাম তো একটা লোক মারা গেছে। এটার দায়বদ্ধ কাউকে না কাউকে তো হতে হবে না। ধরে নেন জাপানে এই ঘটনাটা ঘটল, দুই বছরের মাথায় বিয়ারিং প্যাড একটানা দুইটা পড়ে মারা গেছে। পিয়ার হেডে ক্র্যাক দেখা দিয়েছে। ট্রেন যে স্পিডে চলার কথা সেই স্পিডে চলছে না। কি ইন্ডিকেট করে। দুর্বল মানের একটা অবকাঠামো হয়েছে। আপনি দেখলেন এভিডেন্স আছে আপনার। এবার তো একাউন্টিবিলিটি এস্টাবলিশ করতে হবে। তার নামই তো হলো সুশাসন। নাহলে পরবর্তীগুলিতে কিন্তু এই একই সেটের লোক আছে । চেঞ্জ হয়নি। আগের সরকার স্বৈরাচারী ছিল। যে যেইভাবে পারছে তাকে বসিয়েছে তার ঠেকা দেওয়ার জন্য। তার টেনিউরশিপ রক্ষা করার জন্য। এই সরকার তো টু থার্ড মেজরিটির সরকার। ন্যাচারালি কোন সোসাইটিতে যদি এরকম একটা অবকাঠামো হয়, হাইকোর্ট যেখানে দিকনির্দেশনা দিচ্ছে। হাইকোর্ট কেন দিকনির্দেশনা দিবে? যেহেতু সরকার কাজ করছে না। যেহেতু মন্ত্রণালয় কাজ করছে না। সেই কারণেই হাইকোর্টে কেউ হয়তো জনস্বার্থে রিট করেছে। এটা হলো রিঅ্যাকটিভ। সরকারের সিস্টেমেই থাকা উচিত।রাশেদ আহমেদ: আপনি যে ফাটল ধরার কথা বললেন, এটার স্থায়িত্ব নিয়ে কোনো সমস্যা হবে কিনা? ড. মো. শামসুল হক: অবশ্যই এটা কি ইন্ডিকেট করে? আপনি জোরে যেই ডিজাইন স্পিডে ট্রেন চালানোর কথা চালাতে পারতেছেন না। কোন স্ট্রাকচার কাপাকাপি করে? দুর্বল স্ট্রাকচার। বানিয়েছেন কত বছরের জন্য, শত বছরের জন্য। কয় বছর গেছে তিন বছরও একটু বেশি। কাঁপবে কেন? ক্র্যাক হবে কেন এত স্ট্রাকচারাল ক্র্যাক নরমাল ক্র্যাক না। বিয়ারিং প্যাড লোড নিচ্ছে না তার মানে সামথিং রং। ডিজাইনে ফল্ট আছে। আপনার ট্রেন জায়গা মতো থাকে না রোলিং স্টকের ডেফিনেটলি কোনো ঝামেলা আছে। সিংক্রোনাইজড হচ্ছে না। আপনি প্রতিটা স্টেশনের নিচে ইলেকট্রিক সাবস্টেশন করেছেন। এই দেশে বৃষ্টিপাত হয় সেই চিন্তা করেনি। এখন বৃষ্টির পানি সাবস্টেশনে ঢুকে কত বড় বিপর্যয়ের। এরকম প্রচুর ফাইন্ডিংস পেয়েছি। প্রতিটা জায়গায় গাফিলতি। প্রতিটা জায়গায় কম্প্রোমাইজের উন্নয়ন।রাশেদ আহমেদ: আরো কয়েকটি তো করা হচ্ছে বিমানবন্দর টু কমলাপুর স্টেশন, তারপর পূর্বাচল থেকে আরেকটি শুরু হচ্ছে। যেই জাপানি কোম্পানির কাজ নিয়ে এই সংশয় দেখা দিয়েছে। পরবর্তী কি তাদেরকে দিয়ে প্রকল্পের কাজ করানো ঠিক হবে?ড. মো. শামসুল হক: আগের সেটআপেই আছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো একটা জিনিস খেয়াল রাখবেন। জাপান তো কমার্শিয়াল এনটিটি। কিন্তু আপনি যদি অভিজ্ঞতা সম্পন্ন লোক না হন, এখন যদি অভিজ্ঞতা সম্পন্ন লোক আসেও জাপান থেকে আপনি তো কাজ আদায় করতে পারবেন না। প্রথম ফল্টটা হলো আপনার ঘরে। কারণ কম্পিটেন্ট লোক আপনার কাছে থেকে আদায় করে নিবে। আপনি পে মাস্টার। পে মাস্টারের অনেক ক্ষমতা আছে। কিন্তু আপনার যোগ্যতা থাকতে হবে। সেই যোগ্যতা তো নাই। সেম সেটআপ কিন্তু এই আমলানির্ভর উন্নয়ন হচ্ছে। আবার আমরা ঢুকতে যাচ্ছি। আবার ঢুকতে যাব কারণ কাউন্টারপার্ট যখন বুঝবে এই ব্লাইন্ড পিপল আমার কাউন্টারপার্ট। ও তো ভালো লোক নিয়ে আসবে না ।রাশেদ আহমেদ: আপনারা কি অবজার্ভেশন দিয়েছেন আপনাদের অডিট কমিটির রিপোর্টে?ড. মো. শামসুল হক: অবশ্যই। সেইটাই তো বললাম সারপ্রাইজিং। সরকার নিশ্চুপ মন্ত্রণালয় নিশ্চুপ।রাশেদ আহমেদ: কবে দিয়েছেন এই রিপোর্টটি?ড. মো. শামসুল হক: গত জুন জুলাইতে দিয়েছি আমরা।রাশেদ আহমেদ: আপনারা কোনো ফিডব্যাক পান নাই এখনো পর্যন্ত।ড. মো. শামসুল হক: আরে ভাই এটা তো ফিডব্যাক পাওয়ার কথা না। আমার কথা হলো বিয়ারিং প্যাড পড়ে মানুষ মরে গেছে। কেন মরলো কেন'র উত্তরটা তো জনগণ চাইবে। জনগণ কার মাধ্যমে চাইবে? রাজনীতির মাধ্যমে। এখন তো এমপি আসছে তো জিজ্ঞাসা করা উচিত। টাকা কি কম দিয়েছ? দেই নাই। কনসালটেন্ট কি ছিল? ছিল। তাহলে এটা পড়ে মানুষ মরে গেল কেন? হতে পারে এটা মরার জন্য হয়তো কোন ল্যাপস এন্ড গ্যাপস হইছে। কিন্তু সোসাইটির কাজ কি? ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে। তাহলে ফ্যাক্ট ফাইন্ড করতে হবে না? করেছে মন্ত্রণালয়? কারণ তাদেরই বস বসে ছিল এই জায়গার মধ্যে। আমি সেই কারণেই বলব সুশাসনটা যে দেশ থেকে চলে গেছে। এই ঘটনার থেকেই টের পাবেন। সব এলিমেন্ট আছে এখানে দায়ী করার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের জন্য। টু শব্দটা করছে না। অন্যায়ের ফলে আজকে জনগণ সাফার করছে। ভবিষ্যতে আরো সাফার করবে।রাশেদ আহমেদ: ইন্দোনেশিয়ায় মেট্রোরেল কিভাবে হয়েছে বলতে পারবেন?ড. মো. শামসুল হক: ইন্দোনেশিয়াকে যখন জাপানিজরা করতে দিয়েছে তারা বলছে কম্পার্টমেন্ট আমরা বানাবো। চুক্তির মধ্যে থাকলে অসুবিধা কি এটা তো রকেট সায়েন্স না। আদায় করেছে লোন নেগোসিয়েশন তো এটাকেই বলে। আমাদের তো অনেকেই লোন নেগোসিয়েশন করেছে। তারা খালি দেখেছে সফট লোন। গ্রেস পিরিয়ড বিশ বছরের। দ্যাটস অল। কিন্তু আমার এই সিস্টেম একটানা সামনে আরো হবে। এটা কি রেলভিত্তিক? রেল তো আমার আছে। তাহলে আমি এই সুযোগে কম্পার্টমেন্টগুলি দেশীয় হোক। অনেক কিছু আছে দেশীয় কনটেন্ট করলে পরে সাপ্লাই চেইনে আপনি স্বনির্ভর হয়ে যেতে পারতেন।রাশেদ আহমেদ: অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এই জাইকার কাছ থেকে ঋণ নেয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছিল এবং বলা হচ্ছিল যে অন্য কোথাও থেকে ঋণ এনে এই মেট্রো রেলের সহায়তা পাওয়া যায় কিনা। এই সরকার কি চাইলে কি সেটি পারেন?ড. মো. শামসুল হক: অবশ্যই পারে। অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের স্বার্থে কিছু কথা বলেছিল। যখন দেখেছে সব জায়গায় বেশি বেশি টাকা নিয়ে গেছে কিন্তু পারফরমেন্স খুব পুওর এটাকে বলা হয় তখন জনগণের পক্ষে রিয়্যাক্ট করতে হয়। যে কথাগুলি বলেছে আশেপাশে তুমি তো অনেকেই লোন দিয়েছ সেখানে তো এই শর্তগুলি নাই। সেখানে তো এতো অতি মূল্যায়িত নাই সো আমরা ইন্টারন্যাশনাল বিডিং এ যাব। আমরা জি টু জি ফ্রেমওয়ার্কে থাকবো না। জাপান ফিজিবিলিটি করেছে জাপানি অর্থায়ন করছে। তো এই অর্থায়নের অতিমূল্যায়নের জন্য ফিজিবিলিটি এমন একটা দলিল সেখানেই কিন্তু কন্সপিরেসিগুলি জাপানরা করে গেছে। যে এই জিনিস সনির থেকে আনতে হবে। এটা আনএথিক্যাল জিনিস ইকিউভেলেন্স ও দেয় নাই কিন্তু। সাধারণত নিয়ম হলো স্বচ্ছতা মানে হলো ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লায়েন্ট কনসালটেন্ট যদি হয় অথবা এমপ্লয়ার যদি যোগ্য হয় সে বলে দিবে তুমি কিন্তু ইকিউভেলেন্স দিবা। জাপান তা করে নাই। নির্মাণের জন্য এমনভাবে শর্ত দিয়েছে যাতে করে জাপানি কন্টাক্টারের এখানে ঢোকার একটা ফেভারটা পায়। সো এই জিনিসগুলি যারা যারা বসে দেখেছে চোখের সামনে দেখার যোগ্যতা অর্জন করেনি। ইন্টারিম গভমেন্ট এগুলিকে দেখে ইন্টারিম গভমেন্টই কিন্তু পৃথিবী বিখ্যাত এক বাংলাদেশীকে এখানে এমডিকে স্যাক করেছিল। কারণ তার রিক্রুটমেন্টটাই হলো সে নিজের যোগ্যতা নিজে লিখেছে। যে একজন রিটায়ারি আমলা হবে এটার এমডি। হয় কোনো দিন? তো ইন্টারিম গভর্নমেন্ট এসে এনাকে সরিয়েছে।সরিয়ে বাংলাদেশী একজন বিখ্যাত লোককে এখানে আনার পর টেন্ডারের আমার কাছে যা আছে। এই জাপানিজ গভমেন্ট টেন্ডারগুলিকে আনহোলি একটিভিটি করে যেইভাবে আমাদেরকে অতি মূল্যায়িত করেছে। টেন্ডারগুলি সিগন্যালিংয়ের একটা টেন্ডার পাঁচশ সত্তর কোটি টাকা ছিল এই আমলারা দিয়ে গিয়েছিল। সেটাকে সেই যে লোক আসছিল বাংলাদেশি লোক এমডি। সে দুই দফায় প্রায় দেড়শো কোটি টাকা কমিয়েছে। গুড গভর্ন্যান্সের যথেষ্ট আমার মনে হয় এই জায়গায় শর্টফল আছে এবং এইটা একটা প্রজেক্ট না। একই অবস্থা ঢাকা বিমানবন্দর থার্ড টারমিনালের।রাশেদ আহমেদ: বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল নিয়ে আমি আসছিলাম আপনি তো পরামর্শক কমিটিতে ওখানে আছেন। সেটার ত্রুটি বিচ্যুতিও অনেকটা ধরা পড়েছে এখন কি অবস্থা হবে তাহলে ওটার?ড. মো. শামসুল হক: সেম জিনিসই আমি বলব থার্ড টার্মিনালও এত বেশি অতিমূল্যায়িত কারণ ফিজিবিলিটি স্টাডি তারাই করেছে। ফিজিবিলিটিতে এমনভাবে শর্তগুলি দিয়েছে জাপানি কনট্রাক্টর কনসালটেন্ট ছাড়া আর কেউ থাকবে না। তো যার ফলে তারা এসে এত বড় মাপের ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপ, সিভিল এভিয়েশন কিন্তু কখনো করার অভিজ্ঞতা নাই। তাদের প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্টেশন ইউনিটটা অনেক ছোট ছিল। তাদের ধারণা ছিল জাপানি কনসালটেন্ট যদি রাখি তারা আমাদের পক্ষে কাজ করবে। সেম জিনিস। যোগ্যতাহীন কতগুলি লোককে পাঠিয়ে দিয়েছে। যেই কাজ করার কথা একটা ইঞ্জিনিয়ার সেখানে একটা ডিপ্লোমা আর্কিটেক্টকে পাঠিয়ে দিয়েছে। দেখেছে যে এই জায়গায় তো বাংলাদেশের কেউ জানে না বোঝে না। আর জাপানকে আমরা যে কমপ্লায়েন্ট সোসাইটি বলি দেশ হিসেবে কিন্তু কমপ্লায়েন্ট। কিন্তু একটা কমার্শিয়াল এনটিটি যখন আসে সে কিন্তু আর কমপ্লায়েন্ট থাকে না। তার ক্যারেক্টার একটাই প্রফিট মোটিভ। প্রফিটটা কত মার্জিনে করবে সে কাউন্টারপার্টের দিকে তাকায়। পে মাস্টারের দিকে তাকায় আমাকে কি ঝাঁকুনি দেওয়ার ক্ষমতা আছে? নাই। আরেকটা বিষয় নিয়ে।রাশেদ আহমেদ: যানজট নিরসন আপনার সাবজেক্ট এবং এটি নিয়ে আপনি পড়ালেখা করেছেন। লন্ডনে থেকে এসব পড়াশোনা করেছেন। এত বছরও বাংলাদেশে কোনো সিস্টেমের মধ্যে আসল না।ড. মো. শামসুল হক: সিগন্যাল প্যানাসিয়া না তো। সিগন্যাল হলো নিয়ন্ত্রণের একটা ব্যবস্থাপনা বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা। কিন্তু আপনার যেকোনো দাওয়াই কাজ করবে বডিটা তো এনেবলড হইতে হবে তো। দেখবেন ডাক্তারের কাছে গেলে ওষুধ দেওয়ার আগে কিন্তু কয়েকটা পূর্বশর্ত জিজ্ঞাসা করে। আপনার প্রেশার আছে? আছে। তাহলে একটা ওষুধ দেয় না। আপনার ডায়াবেটিস আছে? আছে। তাহলে একটা ওষুধ দিবে না। একইভাবে আপনি ভাববেন সিগন্যাল এসে আপনাকে সব সুন্দর করে ফেলবে তা না। এআই সিগন্যাল বসানোর আগে বলতে হবে গাড়িগুলি কি সুশৃঙ্খল? সবাই কি রেজিস্টার্ড গাড়ি? সবাই কি যে বাঁয়ে থাকার কথা সে বাঁয়ে থাকে? যে ডানে থাকার কথা সে ডানে থাকে? নাই কিছু নাই। রেজিস্টার্ড আন এখন আনরেজিস্টার্ড গাড়িই কিন্তু সবচেয়ে বেশি। তো আপনি এই সরকার আবার এআইটি নিয়ে আসছে। আমি জানিনা ওনাদেরকে ডুবানোর জন্য যারা যারা এআই নিয়ে কাজ করতেছে এআই কিন্তু আরেকটা উন্নতমানের কৃত্রিম প্রযুক্তি। তা খেয়াল রাখবেন এই সিস্টেমগুলি কাজ করবে আপনার যদি পরিবহন ব্যবস্থা বিশুদ্ধ হয়। বিশুদ্ধ মানে ডেটাবেস যদি থাকে। যেকোনো গাড়ি আপনার ডেটাবেসের মধ্যে আছে। তো পুলিশ সেটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে ম্যানুয়ালি খুব কঠিন হয় সময় লাগে হ্যাসেল হয় গাড়ি দাঁড় করাতে হয়।রাশেদ আহমেদ: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় এসে তখন বলে এই কাজটা ডেটাবেস আছে। সেকেন্ডের মধ্যে আমি ডিসিশন নিতে পারব। আরেকটু ডিটেইল বলবেন।ড. মো. শামসুল হক: আপনি গুলিস্তান যান কয়টা গাড়ির রেজিস্ট্রেশন বলেন তো দেখি? গুলিস্তানে যদি বলেন এআই বসাবো পাগল ছাড়া তো কিছু হবে না তো। আপনি আগে সিস্টেমটা দাঁড় করান। এআই সবই পারবে কিন্তু সিস্টেমটা সেরকম হইতে হবে তো। পূর্বশর্তটা হলো রেজিস্টার্ড গাড়ি হইতে হবে। যাকে আপনি দায়বদ্ধ করতে পারবেন। আপনার ফুটপাতটা ক্লিয়ার থাকতে হবে। বাসে বাসে পাল্টাপাল্টি করে তিনটা নাক ঢুকাইয়া আপনার সিগন্যালে বসে গেলো আর কেউ ডিসচার্জ হতে পারল না কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি বলবে? এই বাস সরেন আপনি। অথবা ইজিবাইক যানজটের মধ্যে মোড়টার মধ্যে বসে আছে। পার্কিং করে আছে। একটা লেন নাই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি বলবে ভাই আপনারা সরে যান? ওকে যার ডেটাবেস দিবেন ডিসিশনটা কুইক নিবে সিমলেস নিয়ে নিবে। আমরা একটা শিখেছি একটা সুন্দর জামা দেখেছি। জামার কোনো সাইজ না দেখে পড়ে ফেলছি। স্বপ্ন দেখাচ্ছি ভিআইপি রোডে সবাই সিগন্যাল দেখে মানে। অতীতে আরো তিনবার এইরকম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা জাপান করেছিল হংকং করেছিল একবার। কাজ করেনি।রাশেদ আহমেদ: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অনেক উন্নতি করেছে কোথায় করেছে?ড. মো. শামসুল হক: ঐ পরিবেশ আপনি সব রাস্তার মধ্যে করে নিয়ে আসেন। তারপর অটোমেটিক ভাবেই কিন্তু আপনার যেকোনো সিগন্যাল কাজ করবে। কিন্তু আমাদের এখানে ঐযে বললাম প্রজেক্ট নিয়ে সবাই বেশি উৎসাহী। এই উৎসাহের কারণেই কিন্তু আমাদের এখানে অযথা আমি যদি বলি এই সরকার এসে যদি দেখতো আচ্ছা তোমরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাজ করতে চাও তার আগে কে করেছে? করেছে তিনজনে ফেইল করেছে কেন ফেইল করেছে আগে বল। আমি যদি কনভিন্স হই তারপরে আমি সারা বাংলাদেশের জন্য পয়সা দিব। কিন্তু এখানকার কেউ অতীত ঘাটতে চায় না। ওরা নিয়েছে আমি আরেকটা প্রজেক্ট নেই। নেরা কয়বার বেলতলায় যায়? বারবার যাব অসুবিধা কি? আমাকে তো কেউ জিজ্ঞাসা করবে না। কিন্তু পুরা সোসাইটি যখন জনগণের পয়সায় কিছু প্রজেক্ট নেয়। তখন কিন্তু পার্লামেন্টারি স্ট্যান্ডিং কমিটিতে হিয়ারিং হয়। আচ্ছা এই কাজ কি নতুন কাজ নাকি অতীতেও হয়েছে? অতীতে হয়েছে তা অতীতের গুলির সফলতা কোথায়? পাইনি। কেন পাইনি? এই কেনর উত্তরটা জানলে পরে ওয়ে ফরোয়ার্ডটা পাওয়া যায়।তখন বলা হবে ভাই এত রিকশা থাকলে এত ইজি বাইক থাকলে এত বাসে পাল্টাপাল্টি থাকলে এত ভেন্ডর এক্টিভিটি যদি থাকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও নিজে কিছু ফিজিক্যালি করতে পারে না। বর্তমান সরকারের একটি পরিকল্পনায় আছে মনোরেল করা যেটার মাধ্যমে যাত্রীদের সুবিধা হবে। সেটি নিয়ে সম্ভবত প্রধানমন্ত্রীর সাথে আপনার আলাপ আলোচনা হয়েছে। সেটি কি পর্যায়ে আছে এবং সেটি ফিজিবল কিনা ঢাকা শহরের জন্য।রাশেদ আহমেদ: গণপরিবহন তাহলে শৃংখলায় আসবে কিভাবে? ড. মো. শামসুল হক: গণপরিবহনের সংজ্ঞাটা কি? ইনক্লুসিভ ডেভেলপমেন্ট। অন্তর্ভুক্তি মূলক ডেভেলপমেন্ট। কেউ পিছিয়ে থাকবে না। মেট্রো সোজা সোজা রাস্তা। কারণ ভারী মেট্রো ভারী একটা ট্রেন ভিত্তিক গণপরিবহন। কিন্তু আনপ্ল্যানড এরিয়াতে রাস্তা নাই কিন্তু আঁকাবাঁকা করে কোনো কি ট্রেন ভিত্তিক নাই? আছে। জাপানেও কিন্তু আছে মনোরেল আছে। ওদের ঝুলন্ত ট্রেনও আছে। যেখানে যেটা ফিট করে। আমি একটাই চিনেছি মেট্রো। এইটাই তো একটা মডেল ইকো না তো। একটা ইকোসিস্টেম আছে বিন্যাস আছে। যেখানে যেটা ফিট করবে মেট্রো ব্রডব্যান্ড কানেকশন। ভালো এলাইনমেন্ট যদি পাও তার ক্যাপাসিটি অনেক বেশি। তো যেই জায়গায় এলাইনমেন্ট পাচ্ছ না সেই জায়গায় লেফট আউট কেন থাকে? তুমি তো গণপরিবহনের রূপরেখা তৈরি করছ। তুমি মেট্রোর রূপরেখা করছ না। সো আমাদের এখানে আনপ্ল্যানড এরিয়া যেখানে ঘনবসতি যাদের বাস নাই। সেখানেও আমি যদি কষ্ট করে একটা ট্রেন নিতে পারি। তাহলে বিকল্প তৈরি হবে। বিকল্প তৈরি হলে নিচ থেকে চাহিদাটা উপরে চলে যাবে। এখন ইজিবাইকের উপরে নির্ভরশীল। ইজিবাইক আপনি দূর করতে গেলে অপরিকল্পিত এলাকা থেকে পারবেন না। কারণ বিকল্প তো নাই। সো তাহলে আপনি ছোট ছোট গাড়িকে নিয়ন্ত্রণ করতে চান? বিকল্প একটা দিতে হবে।রাশেদ আহমেদ: সেই বিকল্পটা কি?ড. মো. শামসুল হক: যেখানে মেট্রো হয় না সেখানে মনোরেল করেন। মেট্রো ভারী মনোরেল হলো হালকা। মেট্রো চায় সোজা সোজা লাইন। মনোরেল হলো আপনারা দেখছেন কিনা ইন্টারনেটে বিল্ডিং এর ভিতরে ঢুকে যায়। ফ্লাইওভারের নিচ দিক দিয়ে চলে যায়। তার মানে সে স্টিপ ভার্টিকেলেও যেতে পারে শার্প টাইট রেডিয়াসের মধ্যেও যেতে পারে। ক্যাপাসিটি কম কিন্তু পরিবহন ব্যবস্থাটা সুন্দর রিলায়েবল দিয়ে দেয়। আপনি ঢাকায় যদি আমি বলি পঁচিশ কিলোমিটারেও নিরবচ্ছিন্ন ভাবে চলতে পারেন ঢাকা তো বিশ কিলোমিটারের একটা রাজধানী। আপনার তো এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় দশ মিনিট যাওয়ার লাগার কথা না। খুব কম্প্যাক্ট সিটি কিন্তু। দেখান গুলিস্তান থেকে উত্তরা শেষ মাথা পর্যন্ত কতটুকু আঠারো কিলোমিটার। আমরা এটা যাতায়াতেই দুই ঘন্টা সময় চলে যায়। কিন্তু ঐ জায়গায় যদি ঝুলন্ত একটা ট্রেন করে দেওয়া যায়, আপনি যদি বিশ কিলোমিটার গতিতে চলেন আঁকা বাঁকা চলেন বেশি গতি দিতে পারছেন না কিন্তু নিরবচ্ছিন্ন ভাবে চলতেছেন। দেখেন কত মানুষ উপরে চলে যায়। কারণ নির্ভরযোগ্যতা চলে আসবে।রাশেদ আহমেদ: মনোরেল করা নিয়ে সরকার ভাবছে? আপনি জানেন? ড. মো. শামসুল হক: প্রধানমন্ত্রী বিদেশে থাকা অবস্থায় ভেবেছেন যে গণপরিবহনের যদি আমি সুন্দর একটা বিন্যাস দিতে পারি, মেট্রো, মনোরেল, বিআরটি দেন বাস রুট ফ্রেঞ্চাইজ যদি করতে পারি তাহলে এই যে ছোট ছোট গাড়ির উপরে নির্ভরশীলতা এটাকে তখন মানে ডিমান্ড অনুযায়ী কিন্তু সে ওয়াশ আউট হয়ে যাবে। উনি তো নিজেই বললেন যে আমাদের এখানে ট্যানারি তো চলে গেছে উনি জানতেন। তো ওখানে যদি আমরা কোনো ভাবে একটা মনোরেল হালকা পাতলা নিতে পারি। পুরান টাউনে তো বাসও ঢুকে না। তাহলে এরা যদি আশেপাশের কোনো মেট্রো স্টেশনের সাথে সমন্বয় করে, এইযে দেখেন ভাবনাটা কনসালটেন্টের ভাবা উচিত ছিল। কারণ সে জানে মনোরেল করবে না। সে করবে সব ভারী রেল। এইযে বললাম আমাদের দেশে যারা যারা বুঝে নেই আমরা আমাদের দেশটা অত্যন্ত জায়গা মতো লোক নাই। এখন অন্যান্য দেশেও কিন্তু জায়গা মতো লোক না থাকলে তখন বলে কোন ইন্দোনেশিয়ান অথবা কোন এনআরবি বলে নন রেসিডেন্ট বাংলাদেশি আছো পৃথিবীতে সুন্দর করে কাজ করছ দেশপ্রেমের ভিত্তিতে তুমি যদি আমাদের এখানে আসো আমি তোমাকে দিয়ে উন্নয়ন করতে চাই। জানা লোক বসান দেখেন টোটালি ডিফারেন্ট হয়ে যাবে। প্রতিটা সরকারের প্রত্যেকটা সংশ্লিষ্ট জায়গার মধ্যে না জানা লোক বসা। শুনে শুনে শেখে ট্রান্সফার অফ টেকনোলজি দিয়ে যখন চলমান তখন শেখে প্লেজার ট্রিপের মাধ্যমে এইভাবে কিন্তু জ্ঞানভিত্তিক উন্নয়ন হয় না।রাশেদ আহমেদ: মনোরেল কোন কোন এলাকায় করা যায় এই মুহূর্তে?ড. মো. শামসুল হক: সেটারই মাস্টার প্ল্যান একটা হইছে আপনি নিজেই বলবেন পুরান টাউনে মেট্রো দিছে, দেয় নাই। তাহলে মনোরেল পুরান টাউনে যাইতে হবে। মেট্রোরেল বাসাবো, গোড়ান, মাদারটেক দিয়েছে, দেয় নাই। অর্থাৎ পূর্বাঞ্চল এবং পশ্চিমাঞ্চলে আপনিই গিয়ে দেখেন ঢাকার বিস্তীর্ণ জনপদ আছে কিন্তু বাসাবো গোড়ান মাদারটেক বিরাট একটা এরিয়া উত্তরখান দক্ষিণখান কি পরিমাণ মানুষ যে বাস করে। কিন্তু বাসেরই রাস্তা নাই কারণ মানুষ ব্যক্তিগত উন্নয়ন করলে পরে রাস্তাটা আঁকা বাঁকা হয়। আঁকাবাঁকা পথে কিন্তু ভারী মেট্রো যেতে পারে না।রাশেদ আহমেদ: আমাদের দেশের বাড়িগুলি অপরিকল্পিত ভাবে হয়েছে তার ফাউন্ডেশনের অবস্থা কি এগুলি তো অনেক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়। সেইজন্য হালকা পাতলা মনোরেল যেইটা আপনি করবেন সেই জায়গায় কনস্ট্রাকশন না করে যদি সাইটে কনস্ট্রাক্ট করে এনে ইনস্টল করে দেন সেটি কেমন হয়, যেটি জাপানে করে।ড. মো. শামসুল হক: টাইট একটা করিডোরে আপনি কনস্ট্রাকশন করতে পারছেন না, জায়গা লাগে অনেক। জায়গা নিয়ে নিলে মানুষ চলবে কীভাবে? তাহলে আপনি বলবেন আমি স্টিলের পাইপের মধ্যে ট্রেনটাকে চালাবো। উপরে একটা বিম নিয়ে। তো স্টিলের এটা বানাব কোথায়? ওয়ার্কশপে বানাবো। এনে এখানে বসায় দিব। খণ্ড খণ্ড করে নিয়ে আইসা আমি জোড়া লাগায় দিব। সো চ্যালেঞ্জ অনুযায়ী কিন্তু দাওয়াই দিতে হয়। আমরা যেহেতু মেট্রোটাকে প্রধান সড়ক বরাবর দিয়েছি মেট্রোর দরকার আছে কারণ ব্রডব্যান্ড কানেকশন দরকার আছে। ব্রডব্যান্ডের সাথে ফিডার কানেকশনগুলি তো লাগবে। তো সেই হিসাবে যেসব জায়গাগুলি এখনো এড্রেস করেনি আমি কিছু কিছু জায়গা বললাম পূর্বাঞ্চলে যেমন আছে পশ্চিমাঞ্চলেও কিন্তু অনেক জায়গা আছে। অলরেডি দশটা মনোরেলের একটা পরিকল্পনা হয়েছে।রাশেদ আহমেদ: ঢাকা শহরে এখন ইজিবাইকে সয়লাব হয়ে গেছে। সেটির কোনো রেজিস্ট্রেশন নাই। যে যার মত করেই চলছে। এতো বড় একটা ঝুঁকির জায়গা। আপনার সম্ভবত প্রধানমন্ত্রীর সাথে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আসলে কী করা যায়? উঠিয়ে দেয়া নাকি কোনো সিস্টেমের মধ্যে আনা?ড. মো. শামসুল হক: কাদের দায়িত্ব ছিল এটাকে না ঢুকতে দেওয়া। আপনি যদি রুট কজে যান মহামারী পর্যন্ত ডাক্তাররা ঠেকায় দিছে। আগে মহামারীতে জনপদ কি জনপদ শেষ হয়ে যেত। ও কি হইছে ম্যালেরিয়া? কোথায় আছে মশার মাধ্যমে আসে। আপনি যখন রুট কজটা পেয়ে গেলেন আপনার ভ্যাকসিন হয়ে গেল। সো আপনি এই জায়গায় ছোট ছোট গাড়িগুলি আজকে যদি বলে দশ লক্ষ ইজিবাইক চলছে। কোনোদিন তো একটা ছিল। তারপরে দুইটা হইছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান যদি পেশাদারী হতো। এটা যে বড় একটা ক্যান্সার হতে যাচ্ছে তার বুঝা উচিত ছিল নাহলে প্রতিষ্ঠান হলো কেন? প্রতিষ্ঠানগুলিকে তো তৈরি করা হয় সরকার আসবে সরকার যাবে কিন্তু প্রতিষ্ঠান তার দায়িত্বগুলি পালন করবে। ইজিবাইক কয়টা হইছে একটা এখনই তুমি অ্যারেস্ট কর। আগুন ধরার সময় সিগারেট থেকে কিন্তু বড় আগুনটা ধরে দশটা ইউনিটে এসে কিন্তু এটাকে নিভাতে পারেনা কিন্তু সিগারেটের আগুন নিভানো কোনো ব্যাপারই না। পেশাদারী কাজ করে পেশাদারী লোক। পেশাদারী লোককে দূরদর্শী লোক বলে। কোনটা সমস্যা হতে যাচ্ছে সেটাকে এই সংখ্যা যখন কম ছিল তখনই অ্যারেস্ট করে। আজকে কেন পারবে না?রাশেদ আহমেদ: এখনতো হয়ে গেছে, উপায় কি?ড. মো. শামসুল হক: ইজিবাইক দেখে কনক্লুশন ড্র করতে পারেন প্রফিট মার্জিন অনেক বেশি। প্রফিট মার্জিন যেখানে বেশি দুর্নীতিও বেশি। হয় ব্যাটারির মধ্যে দুর্নীতি আছে। বলে কৃষির জন্য নিয়ে আসতেছি সাবসিডিতে ব্যবহার করতেছে অন্য মার্কেটে। জ্বালানি ট্রান্সপোর্টেশনের একটা বিরাট খরচ। হুক দিয়ে জ্বালানি নিয়ে নিচ্ছে ফ্রিতে। তাহলে এর সাথে যারা জড়িত হয়ে গেছে দশ বছরে তারা মনস্টার হয়ে গেছে। কিভাবে সামাল দিবেন আপনি? তারা তো আগে সংখ্যায় কম ছিল এখন সংখ্যায় বেশি হইছে। ইনকাম হতে হতে তার এমন হয়ে গেছে যে দেখেন এলাকার পুলিশকেও তারা পালে। এলাকার রাজনীতিবিদকেও পালে। আমি চোখের সামনে হুক দিয়ে ইলেকট্রিসিটি নিব তোমরা চোখ বন্ধ করে থাকো এটার জন্য তুমি পয়সা পাবা। একটা সিন্ডিকেট যখন হয়ে যায় তখন কিন্তু সমস্যাটা আপনি যেইভাবে দেখতেছেন সেই ডায়মেনশনে আর থাকে না। এখন সমস্যাটা সেই লেভেলে চলে গেছে। সো আমি বলব সরকার যদি চৌকস হয় সিম্পটম দেখবে না। অভিযান ইজিবাইকের উপরে চালাবে না। অভিযান চালাবে প্রোডাকশন এন্ড থেকে।বিদ্যুৎ কোথায় কোথায় চুরি হচ্ছে? বিদ্যুৎ চোখের সামনে চুরি হয়। তেজগাঁওয়ে কি থানা নাই? তেজগাঁওয়ে কি ডেসকোর অফিস নাই? তারা দেখে না কেন? এটার নাম হলো সুশাসন।সিস্টেম চলমান থাকলে সমস্যাগুলি হয় না।ঢাকা একটা শহর ভাইব্রেন্ট সিটি তার ট্রাক টার্মিনাল নাই, বাস টার্মিনাল নাই, কার করার কথা রাজউক। রাজউক কী? রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। তো তার মানে সে টাউন প্ল্যানিংই জানে না। আপনি ওইখানে গিয়ে ধরেন কাউকে। এই প্ল্যানার তুমি ঢাকাকে তৈরি করলা একটা ট্রাক টার্মিনাল রাখলা না। তাহলে ওই জায়গায় সংস্কার করলে পূর্বাচলে ট্রাক টার্মিনাল পাইতেন। উত্তরাতে ট্রাক টার্মিনাল পাইতেন। কারণ পরিকল্পনায় ঘাটতি। আর আপনি চলে গেছেন হলো গিয়ে সিম্পটম ওরিয়েন্টেড। সো আমাদের এখানে যতগুলি কাজ হচ্ছে শো অফ। মিডিয়া যায় মিডিয়ার সামনে কিছু কিছু দেখায় বুলডোজার দিয়ে ভেঙ্গে ফেলে একবারও চিন্তা করে না। এক সপ্তাহ পরেই কিন্তু বসে যাবে এটা।সো টেকসই ভাবে সমাধান করতে গেলে আপনাকে বিজ্ঞানের আশ্রয় নিতে হবে। শো অফের কাজ না। বিজ্ঞানের আশ্রয়ের কথা বলছেন ইজি বাইকগুলো সাইন্টিফিক ওয়েতে তো তৈরি করা হয় নাই। আপনার বুয়েট থেকে তো পারতেন একটা ডিজাইন করে দিয়ে সেই ডিজাইনের আওতায় যদি চলে এটা খুব ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার মধ্যে। দেখেন ওইটাও কিন্তু সিম্পটমই দেখতেছেন অনেকেই কিন্তু বলে এই চালকগুলি কোনো রোড সেন্স নাই। একটা এনজিও চলে আসবে আমি সেই প্রশিক্ষণ দিব। একজন বলবে গাড়িটা অনিরাপদ। বুয়েটে এসে বলবে আমি নিরাপদ বানিয়ে ফেলব। চায়নাতে গেলে আপনি এমনি রেডিমেডই নিরাপদ পেয়ে যাবেন। এরা বিদ্যুতের হুক দিয়ে করে না আমি তাহলে আমি সরকারকে পয়সা দিয়েই করব। এটা তো সমাধান না। আমার চলার জায়গা নাই চলার জন্য বাসকে জায়গা দিতে হবে। ঐ জায়গায় কেউ যাচ্ছে না। সমস্যাটা চলে যাচ্ছে একটার থেকে আরেকটা। ম্যাক্সিমাম লোক বলে এগুলি রোড সেন্স নাই। গ্রামার নাই। এটা রিপেয়ারেবল তো। আমি তো প্রশিক্ষণ দেই। এদের রেজিস্ট্রেশন নাই তা রেজিস্ট্রেশন দেই। কিন্তু আর আল্টিমেটলি কি হবে পঙ্গপালের মতো চললে পরে। নদীতে যখন কচুরিপানা হয়ে যায় নৌযান চালাবে কিভাবে? আপনাকে তো বাস চালাতে হবে। পৃথিবীতে যারা সফল হয়েছে এরকম অনেক দেশ আছে একটা দেশে দেখাইতে পারবেন ইজিবাইক নিয়ে তারা সফল হয়েছে? ১৯৩ টা দেশ রাজধানী শহরে পঙ্গপালের মতো ইজি বাইক চলে, দেখাইতে পারবেন? কোনো মডেলেই দেখাতে পারবেন না কারণ সোসাইটি একসেপ্ট করেনা। যাদেরকে রাখা হইছে তাদের সক্ষমতার অভাব কেন হলো? এই সরকার কিন্তু সেই জায়গাটাই হাত দেওয়া উচিত। পুলিশ কেন পারে নাই? বিআরটিএ কেন পারে নাই? ডেসকো কেন হুক দিয়ে এটা চোখের সামনে সাংবাদিকরা দেখাচ্ছে। চলতে ফিরতে সবাই দেখে। তাহলে যেই লোক দেখে না তার সে হলো এই আনহোলি এক্টিভিটির একটা পার্টনার। তো সরকার ক্ষমতায় আছে টু থার্ড মেজরিটি নিয়ে আছে এই একাউন্টিবিলিটি এস্টাবলিশ করার জন্য। করছে না তো। করছে কোথায় ওই যে দেড় লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে একটা ইজিবাইক কিনল। তার পেইনটা কিন্তু সোসাইটিটা দেখছে। সে হলো এন্ড ইউজার। তাকে ডাম্পিং দিচ্ছে। বিদ্যুতের হুকে যেই সিস্টেমটা সিন্ডিকেটটা আছে প্রোডাকশন এন্ডে। সেখানে কিন্তু অভিযান নাই।রাশেদ আহমেদ: পূর্বাচলে একটি নান্দনিক সড়ক হয়েছে যেই সড়কটি এখন মেট্রো রেল নির্মাণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এটা ভেঙে ফেলতে হবে অনেক ক্ষেত্রে। কিন্তু বিশাল বিনিয়োগ তো হয়েছে। খরচ হয়েছে। তো এইটার উপর দিয়ে এটা ভেঙে করা কি যুক্তিসংগত কাজ হবে?ড. মো. শামসুল হক: দেশের বাইরে হলে একাউন্টেবল করত পরিকল্পনা কমিশনকে। পরিকল্পনা কমিশন নামটা দেখেন। পরিকল্পনা দেশের পরিকল্পনা করবে। কোন উন্নয়ন কার সাথে সমন্বয় করতে হবে। তারা করবেন। একটা পরিকল্পনা বিদ নাই পরিকল্পনা কমিশনে। এটাও কিন্তু সরকার কিন্তু জানেন না। পুরো পৃথিবীতে যেখানে পরিকল্পনা কমিশন থাকে দেশের উন্নয়ন করে তারা সবসময় সমন্বিত উন্নয়ন করে। ভাঙ্গাচোরার উন্নয়ন করে না। ভাঙতে গেলেই জনগণ তখন প্রশ্ন করে। আপনি কেন বুঝলেন না? তিনশ ফিটের রাস্তার আপনি বিনিয়োগ করলেন কয়েক হাজার কোটি টাকা। এখন বলতেছেন মেট্রো প্রজেক্টের খুঁটির জন্য আপনাকে আন্ডারপাসগুলির কিছু কিছু অংশ ভাঙতে হবে। ওয়াই সমন্বয় নাই কেন? রিয়েক্টিভ তো সবাই পারবে। আপনার তো দরকার নাই। পরিকল্পনা কমিশনে যেয়ে বসে থাকবে সেও দেখবে ও আচ্ছা ভাঙতে হবে ভাঙ্গেন। পরিকল্পনা কমিশনের কাজ হলো শত বছর পরে কি হতে যাচ্ছে। সড়ক মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনার যেটি হয় বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক বলা হয় লেখা থাকে। সেটি নিয়েও আপনি নানা সময় নানা কথা বলছেন।রাশেদ আহমেদ: এইটা আসলে করার কি এই মুহূর্তে?ড. মো. শামসুল হক: আমাদের দেশে মানুষ মরে প্রমাণ করে এটা ব্ল্যাক স্পট। এটাকে বলা হয় ডুয়েলিং ইন কেভ গুহায় বাস করার দেশে আছি আমরা। মানুষ মরে প্রমাণ করবে ব্ল্যাক স্পট তারপরে যেয়ে আপনি ট্রিটমেন্ট দিবেন। এটা অনেক প্রাগৈতিহাসিক চিন্তা। সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি এখন যেই অবস্থায় চলে আসছে। যেইসব সোসাইটিতে ভিশন জিরো হচ্ছে একটা লোকও রাস্তায় নামবে না। পার্লামেন্ট থেকে যখন এই টর দিয়ে দেয় সংশ্লিষ্টদের তারা কিন্তু এই জ্ঞানে বিজ্ঞানে এমন পর্যায়ে চলে গেছে দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ স্থান কিন্তু তারা আগের থেকেই নির্ণয় করে। তো ঝুঁকিপূর্ণ স্থান মানে দুর্ঘটনা প্রবণ। তাহলে আগের থেকে আপনি প্রিভেন্টিভ মেজার নেন রিয়াক্টিভ যাবেন কেন? তাই যে বললাম আমাদের এখানে রাস্তা বানানোর জন্য আগ্রহী আছে কিন্তু রাস্তাটা নিরাপদ হবে এটা যে ইন্টিগ্রাল পার্ট অফ ট্রান্সপোর্টেশন ডেভেলপমেন্ট এইটা আমাদের এখানে নাই। না আছে সরকারের, না আছে প্রতিষ্ঠানগুলির, না আছে পরিকল্পনা কমিশনের। যার ফলে আমাদের এখানে প্রায় চুয়ান্ন হাজার কোটি টাকা দিয়ে পদ্মা ব্রিজ এবং ঢাকা মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে করেছি। দুর্ঘটনা সরাতে পারি নাই। এটা বিদেশে কেউ ভাবতেও পারবে না।তেতাল্লিশটা স্পিড ব্রেকার বসানো হয়। প্রতিটা স্পিড ব্রেকার কিন্তু গল্প বলে এখানে এক দুর্ঘটনা ঘটেছে। মানুষ মারা গেছে। সেই কারণে মানুষ এসে একটা স্পিড ব্রেকার দিয়েছে। তো গাড়ি গতি পেতো না। ঈদের সময় যানজট হতো। তাহলে টাকা বিনিয়োগ করো। দুর্ঘটনা হবে না কিন্তু দ্রুত গতিতে চলবে। আমরা পারি নাই কেন? বদহজম হচ্ছে কেন? সামথিং রং। বানিয়েছি। আর তাকাই ও না এটার দিকে। কারণ ঐযে আমার আর কোন ইন্টারেস্ট নাই। হাইওয়ে পুলিশকে যেই পরিমাণ ফ্যাসিলিটি এখানে দিয়েছে। কিন্তু আপনি দেখবেন গত চার বছর ধরে যেই জায়গায় বাস থামার কথা সেই জায়গায় না থেমে অবৈধ জায়গায় থামছে। হাইওয়ে পুলিশ এখান দিয়ে আসলে চলাফেরা করে কিনা আমার সন্দেহ আছে। সেই অবৈধ জায়গায় যখন নামে দৌড়াদৌড়ি করে যাত্রী হাই স্পিডে কি দৌড়াদৌড়ি করা যায়? এটা ফোর ফোরটি ভোল্টের লাইন। মহাসড়ক মানে মহাবিপদের জায়গা। সো দেওয়া হলো হাইওয়ে পুলিশকে। একদিনে তো এই বাস স্টপেজটা হয় নাই চোখের সামনে হয়েছে। তার মানে ওনারা কাজ করছেন না। কাজ করলে প্রথম দিনেই কিন্তু এখানে থামা যাবে না দ্বিতীয় বার থাকলে তোমার রুট পারমিট বাতিল হবে। তাহলে আজকে কিন্তু অবৈধ এগুলি পেতেন না। কিন্তু ওনারা কেউ কাজ করে না।রাশেদ আহমেদ: রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভাবনা সম্পর্কে আপনাকে কিছু বলেছিলেন?ড. মো. শামসুল হক: প্রধানমন্ত্রী যেই ভাবনাটা করেছেন উনি বিদেশে থেকে উনি ভেবেছেন যে গণপরিবহনের যদি আমি সুন্দর একটা বিন্যাস দিতে পারি, মেট্রো, মনোরেল, বিআরটি দেন বাস রুট ফ্রেঞ্চাইজ যদি করতে পারি তাহলে এই যে ছোট ছোট গাড়ির উপরে নির্ভরশীলতা এটাকে তখন মানে ডিমান্ড অনুযায়ী কিন্তু সে ওয়াশ আউট হয়ে যাবে। উনি তো নিজেই বললেন যে আমাদের এখানে ট্যানারি তো চলে গেছে উনি জানতেন। তো ওখানে যদি আমরা কোনো ভাবে একটা মনোরেল হালকা পাতলা নিতে পারি। পুরান টাউনে তো বাসও ঢুকে না। তাহলে এরা যদি আশেপাশের কোনো মেট্রো স্টেশনের সাথে সমন্বয় করে, এইযে দেখেন ভাবনাটা কনসালটেন্টের ভাবা উচিত ছিল। কারণ সে জানে মনোরেল করবে না। সে করবে সব ভারী রেল। এইযে বললাম আমাদের দেশে যারা যারা বুঝে নেই আমরা আমাদের দেশটা অত্যন্ত জায়গা মতো লোক নাই। এখন অন্যান্য দেশেও কিন্তু জায়গা মতো লোক না থাকলে তখন বলে কোন ইন্দোনেশিয়ান অথবা কোন এনআরবি বলে নন রেসিডেন্ট বাংলাদেশি আছো পৃথিবীতে সুন্দর করে কাজ করছ দেশপ্রেমের ভিত্তিতে তুমি যদি আমাদের এখানে আসো আমি তোমাকে দিয়ে উন্নয়ন করতে চাই। জানা লোক বসান দেখেন টোটালি ডিফারেন্ট হয়ে যাবে।রাশেদ আহমেদ: সরকারের কাজ কিন্তু উন্নয়নের থেকে আগে প্রতিষ্ঠানগুলিকে সক্ষম করা।ড. মো. শামসুল হক: ১৯৩ টা দেশ পৃথিবীতে কীভাবে আগাচ্ছে? প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক আগাচ্ছে। প্রতিষ্ঠান না কাজ করলে একাউন্টেবল করে। একাউন্টেবল করে খারাপের জন্য না। বল তোমার কিভাবে সক্ষম আছো অক্ষম আছো তোমাকে কীভাবে সক্ষম করব। কি কি সাপোর্ট দিতে হবে। কিন্তু কাজ করতে হবে। কারণ তোমার অর্পিত দায়িত্ব। অবৈধ এক্টিভিটি হবে না। উল্টা পথে গাড়ি আসবে না। হাইওয়ে পুলিশ আছে। আপনি কি করেন? জবাবদিহিতাটা যদি সরকার এস্টাবলিশ না করে সরকারের পক্ষে পার্লামেন্টারি স্ট্যান্ডিং কমিটি যদি একটিভ না হয়। আপনি বিনিয়োগ করবেন কিন্তু দুর্ঘটনা যাবে না। কারণ দুর্ঘটনা ঠেকানোর জন্য আপনাকে কিন্তু গোড়াতেই কাজ করতে হবে।রাশেদ আহমেদ: অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে আমাদের সময় দেয়ার জন্য।ড. মো. শামসুল হক: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ খোলামেলা অনেক আলোচনা করার জন্য সুযোগ দেওয়ার জন্য।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗