পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেছেন, খাইবার পাখতুনখাওয়ায় গভর্নরের শাসন জারি করা ছাড়া কেন্দ্রীয় সরকারের সামনে আর কোনো পথ খোলা ছিল না। ওই পরিস্থিতিকে তিনি ‘এখনই, নয়তো কখনোই নয়’—এমন এক মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
পিএমএল-এনের পার্লামেন্টারি পার্টির বৈঠকে বক্তব্য দিতে গিয়ে গতকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে প্রদেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি হয়েছে। পাকিস্তানের সমৃদ্ধির জন্য খাইবার পাখতুনখাওয়ার মানুষ সব সময় ত্যাগ স্বীকার করেছেন।
২০১৮ সালের মধ্যে পাকিস্তান থেকে সন্ত্রাসবাদ নির্মূল হয়েছিল। কিন্তু তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতৃত্বাধীন সাবেক সরকারের আমলে প্রদেশটিতে ‘সন্ত্রাসীদের’ নিয়ে আসা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন শাহবাজ।
وزیراعظم محمد شہباز شریف سے کنوینر متحدہ قومی موومنٹ ، وفاقی وزیر تعلیم ڈاکٹر خالد مقبول صدیقی کی زیر قیادت متحدہ قومی موومنٹ کے وفد کی ملاقات ہوئی. وفد میں وفاقی وزیر قومی صحت سید مصطفیٰ کمال، سینیٹر عامر ولی الدین چشتی، سینیٹر خالدہ اتیب، اراکین قومی اسمبلی ڈاکٹر محمد فاروق ستار، عبد العلیم خان، سید وسیم حسین، آسیہ اسحاق صدیقی، محمد جاوید حنیف خان، محمد معین عامر پیر زادہ، محمد اقبال خان، حسان صابر، صادق افتخار، ارشد عبداللہ وہرا، سید حفیظ الدین، سید امین الحق، خواجہ اظہار الحسن، احمد سلیم صدیقی، فرحان چشتی، نکہت شکیل خان، سبہین غوری، رانا انصر، صوفیہ سعید شاہ اور سنجے پروانی شامل تھے. ملاقات میں ملک کی مجموعی و سیاسی صورتحال پر تبادلہء خیال کیا گیا. وزیراعظم نے وفد کو صوبہء خیبر پختونخوا کی صورتحال پر اعتماد میں لیا. وزیرِ اعظم نے کہا کہ خیبر پختونخوا کے عوام کی بہترین مفاد میں یہ مشکل ترین فیصلہ کرنا پڑا. ہم نے بھرپور کوشش کی کہ کسی طرح ہمیں یہ انتہائی قدم نہ اٹھانا پڑے. ہم نے کھلے دل سے مذاکرات کئے لیکن دوسری جانب سے مثبت جواب نہیں ملا. خیبر پختونخوا میں بڑھتی ہوئے دہشت گردانہ حملوں میں عام شہریوں اور سکیورٹی فورسز کو نشانہ بنایا جا رہا تھا، جبکہ صوبائی حکومت دہشت گرد گروہوں کے خلاف کھل کر آواز اٹھانے میں ناکام رہی. وزیرِ اعظم نے مزید کہا کہ لانگ مارچ ملک کی بہتر ہوتی ہوئی معیشت کو تباہ کرنے کی سازش تھی. وفد نے وزیراعظم کو صوبہء خیبر پختونخوا کے حوالے سے حکومتی فیصلوں پر اپنی مکمل حمایت کا یقین دلایا. ملاقات میں نائب وزیراعظم و وزیر خارجہ محمد اسحاق ڈار، وزیر دفاع خواجہ محمد آصف، وفاقی وزیر قانون و انصاف اعظم نذیر تارڑ، وفاقی وزیر پارلیمانی امور ڈاکٹر طارق فضل چوہدری اور وزیراعظم کے مشیر برائے سیاسی امور و بین الصوبائی روابط رانا ثناء اللہ بھی موجود تھے۔
— Prime Minister's Office (@PakPMO) October 13, 2026
গত আড়াই বছরে খাইবার পাখতুনখাওয়ার পরিস্থিতির উন্নয়নে কেন্দ্রীয় সরকার সব ধরনের চেষ্টা চালিয়েছে বলেও দাবি করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সাবেক মুখ্যমন্ত্রী আলী আমিন গন্ডাপুরকেও সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। ‘দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ’ মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদির সঙ্গেও বৈঠক করা হয়েছিল।
২০১৮ সালের মধ্যে পাকিস্তান থেকে সন্ত্রাসবাদ নির্মূল হয়েছিল। কিন্তু পিটিআইয়ের নেতৃত্বাধীন সাবেক সরকারের আমলে প্রদেশটিতে (খাইবার পাখতুনখাওয়া) ‘সন্ত্রাসীদের’ নিয়ে আসা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন শাহবাজ।
শাহবাজের অভিযোগ, খাইবার পাখতুনখাওয়ার প্রাদেশিক সরকার দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছে। সেখানে কাউন্টার টেররিজম ডিপার্টমেন্ট (সিটিডি) শক্তিশালী করার বদলে তারা অবস্থান কর্মসূচি ও গালিগালাজের রাজনীতিকে উৎসাহিত করেছে। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কথা না বলায় ইমরান খানের প্রতিষ্ঠিত দলটিরও সমালোচনা করেন তিনি।
পিটিআইয়ের সঙ্গে সাম্প্রতিক আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আলোচনা প্রায় একটি সমঝোতায় পৌঁছে গিয়েছিল। কিন্তু পরে সেই প্রক্রিয়া ভেস্তে দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত পিটিআইয়ের প্রতিনিধিদল জানায়, তাদের প্রাদেশিক সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে। পরিস্থিতি ইচ্ছাকৃতভাবে নষ্ট করা হয়েছে, সম্ভবত ৯ মের ঘটনার (২০২৩ সালের এদিনে ইমরান খান গ্রেপ্তার হওয়ার পর সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা) পুনরাবৃত্তি ঘটানোর নির্দেশেই এমনটি করা হয়েছে।’

পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তিসহ বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে তাঁর দল এবং পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের মুখোমুখি অবস্থানের মধ্যে গত রোববার খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন জারি করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ সরকার সংবিধানের নিরাপত্তাসংক্রান্ত দুটি অনুচ্ছেদের আওতায় এ জরুরি অবস্থা জারির ঘোষণা দেয়। এর ফলে সেখানে পিটিআই পরিচালিত প্রাদেশিক সরকারের সব কার্যক্রম কার্যত স্থগিত হয়ে গেছে।
সরকার ও পিটিআইয়ের মধ্যে চলমান এ দ্বন্দ্বে সমঝোতার চেষ্টা করেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম-পাকিস্তানের (জেইউআই-এফ) নেতা মাওলানা ফজলুর রহমান।
শাহবাজ সরকারের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার কথা জানিয়েছে পিটিআই। দলের চেয়ারম্যান গহর আলী খান গতকাল বলেন, ‘গভর্নরের শাসন ও জরুরি অবস্থা জারির বিরুদ্ধে আমরা হাইকোর্টে আবেদন করছি।’
