কুমিল্লা থেকে নিখোঁজ হওয়া চার স্কুলছাত্রীকে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট এলাকা থেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ছেলের সঙ্গে পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতার সূত্র ধরে পরিবারের অজান্তে বাড়ি ছেড়েছিল তারা। এমনকি যাওয়ার সময় পরিবারের একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন বিক্রি করে সেই টাকা দিয়ে প্রথমে ঢাকায় এবং পরবর্তীতে সেখান থেকে হবিগঞ্জে চলে যায় তারা।
আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে কুমিল্লা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।
উদ্ধার হওয়া চার শিক্ষার্থী হলো—কুমিল্লা পুলিশ লাইন্স সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী মাহিন আক্তার (১২), ঝুমুর (১২), সোনিয়া (১৩) এবং তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী জান্নাত (৮)। এদের মধ্যে জান্নাত ও মাহিন আপন বোন।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ অক্টোবর সকালে নিয়মিত স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয় ওই চার শিক্ষার্থী। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তারা স্কুলে না ফেরায় এবং বাড়িতে না আসায় অভিভাবকদের সন্দেহ হয়। পরে বিষয়টি স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, ঘটনার পর তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হয় এবং দেশের সব থানায় বার্তা পাঠানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানা পুলিশের সহযোগিতায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করে উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আকর্ষণে তারা ঘর ছাড়ে। শিক্ষার্থীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিক্রি করা মোবাইল ফোন ও অন্যান্য আলামত উদ্ধারের পাশাপাশি অনলাইন পরিচয়ের আড়ালে অন্য কোনো চক্র জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের অনলাইন ব্যবহার ও স্মার্টফোন আসক্তি রোধে অভিভাবকদের আরও বেশি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে জেলা পুলিশ।
