পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বরখাস্ত মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি এবং তার মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্যকে আগাম সতর্কতামূলক আটক রাখা হয়েছে। গতকাল সোমবার পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
গত রবিবার সংবিধানের ২৩২ ও ২৩৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রদেশটিতে জরুরি অবস্থা ও গভর্নর শাসন জারি করে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার। এর পরই তাদের আটকের খবর জানিয়েছিল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। সোমবার রয়টার্সকে
দেওয়া এক বক্তব্যে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি নিশ্চিত করতে পারি যে মুখ্যমন্ত্রী (সোহেল আফ্রিদি) এবং তার মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্যকে আগাম সতর্কতামূলক হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, তাদের কারও বিরুদ্ধে বিচারযোগ্য মামলা থাকলে অভিযোগ গঠন করে বিচার করা হবে। তবে অন্যদের মুক্তি দেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, রবিবার তাদের আটক করা হয়েছে।
এদিকে, ঘটনার বিষয়ে অবগত পুলিশের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ডনকে জানিয়েছেন, আফ্রিদি, জাতীয় পরিষদের সদস্য (এমএনএ) জুনায়েদ আকবর এবং প্রাদেশিক পরিষদের স্পিকার বাবর সেলিম স্বাতিসহ আটজনকে ‘আগাম সতর্কতামূলক হেফাজতে’ নেওয়া হয়েছে।
রবিবার পর্যন্ত আফ্রিদির দলের সদস্যরাও তার অবস্থান সম্পর্কে কিছু জানতেন না বলে জানিয়েছিলেন। সূত্রগুলো বলেছিল, জনশৃঙ্খলা রক্ষা আইন (এমপিও)-এর ৩ নম্বর ধারায় মুখ্যমন্ত্রী ও আকবরকে তাদের নিজ নিজ বাড়িতে গৃহবন্দি রাখা হয়েছিল।
এদিকে, পিটিআইয়ের মুখপাত্র শেখ ওয়াকাস আকরাম বলেছেন, এসব গ্রেপ্তার কেন্দ্রীয় সরকারের পদক্ষেপের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যকে ‘প্রকাশ করে দিয়েছে’। তিনি আরও বলেন, ‘এসব পদক্ষেপের উদ্দেশ্য নিরাপত্তাসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা নয়; বরং পিটিআইকে দুর্বল করা, খাইবার পাখতুনখোয়ার নির্বাচিত সরকারকে খর্ব করা এবং প্রদেশটির জনগণের গণতান্ত্রিক রায়কে উপেক্ষা করা।’
পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার এবং পিটিআইয়ের নেতৃত্বাধীন খাইবার পাখতুনখোয়া প্রাদেশিক সরকারের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। বিভিন্ন ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকার ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে বিরোধ চলছে। এর মধ্যে সন্ত্রাসবাদ দমননীতি অন্যতম। গত ৩ অক্টোবর দুই পক্ষের আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পেছনে উভয় পক্ষই এ বিষয়টিকে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছিল।
পিটিআইয়ের ইসলামাবাদ অভিমুখে লংমার্চের সময়ও গভর্নর শাসন জারি করা হয়। ওই লংমার্চের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন আফ্রিদি। তবে লংমার্চটি খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে যায়। পরিকল্পিত বিক্ষোভ অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছে দলটি। তবে এ ধরনের যে কোনো উদ্যোগ ঠেকাতে প্রাদেশিক পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পেশোয়ারে সড়কের বিভিন্ন স্থানে পণ্যবাহী কনটেইনার দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এর এক দিন আগে ইন্টারনেট সংযোগে বিঘ্ন এবং মোবাইল ফোনের সেবা বন্ধ করে দেওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারাও ভোগান্তিতে পড়েন।
কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে প্রদেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছেন গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি। তাকে সহায়তা করার জন্য ১১ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞনির্ভর উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়েছে। পরিষদের প্রথম বৈঠকে সভাপতিত্ব করার সময় কুন্দি পুনর্ব্যক্ত করেন, ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াই’ তার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। জরুরি অবস্থা জারির পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকার খাইবার পাখতুনখোয়ায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদস্য ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনের অনুমোদনও দিয়েছে।
