আজকাল ওয়েবডেস্ক: জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে আন্দোলনের ঝাঁঝ আরও বাডা়তে মরিয়া বিরোধী 'ইন্ডিয়া' জোটে। আজ, সোমবার পরিকল্পিত মিছিলের কথা রয়েছে বিরোধী 'ইন্ডিয়া' জোটের। তা আগে সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে যাত্রা করে বিরোধী জোটের এক প্রতিনিধি দল ভারতের প্রধান বিচারপতির হাতে 'ভোট চুরি' সংক্রান্ত নথি তুলে দেবেন বলে স্থির হয়েছিল। কিন্তু, রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন না বলে জানিয়েছেন প্রধান বিছারপতি সূর্য কান্ত।
লোকসভা ও রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা যথাক্রমে রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়গে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়ার জন্য আজ বিকেল ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে সাক্ষাতের সময় চেয়েছিলেন। তাঁদের দাবির মধ্যে রয়েছে- 'ভোট চুরি' বন্ধ করা, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ প্রক্রিয়া বা 'স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন' (এসআইআর) স্থগিত করা এবং ফের কাগজের ব্যালট ব্যবস্থা চালু করা।
সূত্র জানিয়েছে, প্রধান বিচারপতির সিদ্ধান্ত ইমেলের মাধ্যমে ওই দুই নেতাকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁরা যেসব বিষয় উত্থাপন করতে চেয়েছিলেন, সেগুলো ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। তাই এ ধরনের বৈঠক করা অনুচিত বলে মনে করেন প্রধান বিচারপতি।
আদালত তার প্রশাসনিক ভূমিকার মাধ্যমে সরকারের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। নেতাদের বলা হয়েছে যে, তাঁরা বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজেদের মৌলিক অধিকার রক্ষার আবেদন জানাতে পারেন।
বিরোধী দল কেন প্রতিবাদ করছে?
এই আন্দোলনের মূল কারণ হল 'এসআইআর' চলাকালীন ভোটার তালিকা থেকে অন্যায়ভাবে নাম বাদ দেওয়া এবং তালিকায় কারচুপির অভিযোগ। বিরোধী দলগুলো নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিজেপি-র প্রতি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনেছে এবং জ্ঞানেশ কুমারের কাছে জবাবদিহি দাবি করেছে।
নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার বিভিন্ন বিষয়ে (মূলত 'এসআইআর' সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে) আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে খবর প্রকাশের পর এই বিতর্ক আরও তীব্র হয়।
অন্যদিকে কমিশনের বক্তব্য হল, আলোচনার সময় ভিন্নমত পোষণ করা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং তাদের আদেশগুলোর আইনি ভিত্তি রয়েছে ও সেগুলো বিধিবদ্ধ পদ্ধতি মেনেই নেওয়া হয়েছে।
'গণতন্ত্রের জন্য মিছিল'-এর পরিকল্পনা বিরোধীদের
কংগ্রেস সোমবারের এই প্রতিবাদ কর্মসূচিকে 'চলো দিল্লি – গণতন্ত্রের জন্য মিছিল' বলে অভিহিত করেছে এবং অংশগ্রহণকারীদের দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে কনট প্লেস ও বারাকাম্বা রোডের সংযোগস্থলে জড়ো হতে বলেছে।
রাহুল গান্ধী জানিয়েছেন যে, তরুণ সমাজ, বিরোধী দল এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা সুপ্রিম কোর্টের অভিমুখে মিছিল করবেন। তিনি অভিযোগ করেন, শনিবার দিল্লিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ ও বিজেপি সমর্থকরা হামলা চালিয়েছে।
মল্লিকার্জুন খাড়গে জানান, নেতারা প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ চেয়েছিলেন। তিনি মোদি ও শাহের বিরুদ্ধে অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগ এনে বলেন, "শনিবার পুলিশ মোতায়েন ও আটকের ঘটনাটিই প্রমাণ করে যে এই আন্দোলন নিয়ে সরকার ভীত।"
শুক্রবার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ
শুক্রবার বিজয় চকে বিরোধী দলীয় সাংসদদের আটকে দেয় পুলিশ। কয়েকজন সেখানে অবস্থান-বিক্ষোভ শুরু করেন, আর ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করে জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের বিষয়ে তাঁর হস্তক্ষেপ চাইতে রাষ্ট্রপতি ভবনে যান।
সাক্ষাতের পর বিরোধী নেতারা জানান, রাষ্ট্রপতি মুর্মু নির্বাচনী অনিয়মের প্রমাণ চেয়েছেন এবং তাঁদের উদ্বেগের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সম্মত হয়েছেন।
গান্ধী বলেন, রাষ্ট্রপতি যে অভিযোগগুলো অস্বীকার বা সে বিষয়ে কোনও প্রশ্ন তোলেননি, তা তাঁকে ‘হতবাক’ করেছে। তিনি দাবি করেন, কথিত ভোট চুরির বিষয়টি সারা দেশের জানা এবং বিরোধী দল রাষ্ট্রপতির কাছে এর প্রমাণ পেশ করবে।
সিজেপি ও বিরোধী জোটের আন্দোলনকে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। পদ্ম শিবিরের জাতীয় মুখপাত্র সম্বিত পাত্র অভিযোগ করেন, কিছু "নৈরাজ্যবাদী শক্তি" সম্প্রতি রাজধানীতে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছিল, তবে শনিবার তাদের সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, "যন্তর মন্তরের ঘটনাপ্রবাহ ভারতের প্রকৃত চিত্র নয়। যন্তর মন্তরে যা ঘটছে, যা আপনারা টিভি বা কিছু সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে দেখছেন, তা ভারতের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে না। ভারত শান্ত আছে এবং সুশাসনের অধীনে এগিয়ে চলেছে। 'ভিড়তন্ত্র'-এর (উত্তেজিত জনতা-র শাসন) ওপর 'লোকতন্ত্র'-এর (গণতন্ত্র) জয় হয়েছে।"
