এই সফরে প্রথমবারের মতো বোলারদের জন্য স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার দিন এল ইন্দোরে। পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে দারুণ এক জয়ে দুই-এক ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত। হোলকার স্টেডিয়ামে স্বাগতিক ভারত ১৪ রানে হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত কুড়ি ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ভারত সংগ্রহ করেছিল ২২৩ রান। জবাবে ক্যারিবীয়রা নির্ধারিত কুড়ি ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে তুলতে পারে ২০৯ রান। এর আগে এই সফরে প্রথমে ব্যাট করা কোনো দলই জয় পায়নি।
ভারতের পাহাড়সম লক্ষ্যের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বড় সংগ্রহের পথেই ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু রান তাড়ায় কাঙ্ক্ষিত সেই শিশির না থাকায় সুবিধা করতে পারেনি সফরকারীরা। পাওয়ার প্লের সুবিধা কাজে লাগিয়ে ক্যারিবীয়রা ১ উইকেটে সংগ্রহ করে ৫৪ রান। উইকেটে থিতু হয়ে শিমরন হেটমায়ার ৪৩ রান এবং নিকোলাস পুরান ৪২ রান করলেও রানরেটের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে একে একে সাজঘরে ফেরেন তাদের ব্যাটাররা। শেষদিকে শামার স্প্রিঙ্গার ৩৫ রানে অপরাজিত থাকলেও তা কেবল ব্যবধানই কমিয়েছে। ভারতের হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করে অর্শদীপ সিং ৪৪ রান খরচায় শিকার করেন ৩ উইকেট। এছাড়া নামান ধীর দুটি উইকেট তুলে নিয়ে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ধীরগতির হলেও পাওয়ার প্লের ফায়দা ঠিকই লুটে নেয় ভারত। অভিষেক শর্মার ৩০ বলে ঝড়ো ৬৯ রান এবং ঈশান কিষাণের সাথে তার মাত্র ৪০ বলের ১০৮ রানের চোখ জুড়ানো জুটি ভারতের রানের চাকা একশো ছাড়িয়ে নেয়। এটি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ভারতের দ্রুততম সেঞ্চুরি জুটি। অভিষেক মাত্র ১৮ বলেই তার ফিফটি পূর্ণ করেন। তবে মাঝপথে রোস্টন চেজের ঘূর্ণিতে মাত্র নয় রানের ব্যবধানে তিন উইকেট হারিয়ে কিছুটা হোঁচট খায় ভারত।
মধ্যের ওভারগুলোতে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারালেও শেষ পর্যন্ত প্রিন্স যাদবের ক্যামিও ইনিংসে দুই শ ছাড়ানো বড় সংগ্রহ পায় ভারত। ইনিংসের শেষ ওভারে প্রিন্স যাদব তিনটি চমৎকার চার হাঁকিয়ে দলকে ২২৩ রানের শক্ত অবস্থানে পৌঁছে দেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে রোস্টন চেজ, শামার স্প্রিঙ্গার এবং শামার জোসেফ প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট শিকার করেন। বল হাতে ভারতের বোলারদের সুশৃঙ্খল পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত ব্যবধান গড়ে দেয় এই রোমাঞ্চকর ম্যাচে।
