ওয়াশিংটন, ১৮ অক্টোবর-মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কিছু দিক থেকে নির্ণায়কভাবে জয়ী হয়েছে এবং দেশটির পরমাণু কর্মসূচি ধ্বংস করে দিয়েছে।
তবে ভবিষ্যতে ইরান যাতে আবারও পরমাণু কর্মসূচি গড়ে তুলতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে দেশটির কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদি ও যাচাইযোগ্য অঙ্গীকার চায় ওয়াশিংটন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের আয়োজনে একটি টাউন হল অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ভ্যান্স।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসনের মেয়াদেই শুধু নয়, আগামী পাঁচ বছর বা তার পরেও ইরান যাতে পরমাণু অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই এখন তাদের মূল লক্ষ্য।
ভ্যান্স বলেন, “ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের মেয়াদে নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এখন থেকে পাঁচ বছর পর ইরানিরা কি আবারও পরমাণু অস্ত্রভান্ডার গড়ে তুলতে পারবে? তারা কি আবার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সক্ষমতা পুনর্গঠনের চেষ্টা করতে পারবে?”
তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ধ্বংস করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের সাফল্যের দাবি করলেও ভবিষ্যতে দেশটি যাতে আবার সেই সক্ষমতা অর্জন করতে না পারে, সে বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তা চায় ওয়াশিংটন।
ইরান দীর্ঘদিন ধরে পরমাণু অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তেহরানের দাবি, বিদ্যুৎ উৎপাদন, চিকিৎসাবিজ্ঞান ও গবেষণার মতো বেসামরিক প্রয়োজনে পরমাণু কর্মসূচি পরিচালনার অধিকার তাদের রয়েছে।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তেহরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। বিশেষ করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং পরমাণু প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থানে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে। ওয়াশিংটন চায়, ইরান যেন পরমাণু অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে না পারে। অন্যদিকে, তেহরান তার বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচি পরিচালনার অধিকার বজায় রাখার বিষয়ে অনড় রয়েছে।
ভ্যান্সের সাম্প্রতিক বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য শুধু ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলোর ক্ষতি করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ভবিষ্যতে দেশটি যাতে আবারও পরমাণু সক্ষমতা গড়ে তুলতে না পারে, সে জন্যও দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তা চায় ট্রাম্প প্রশাসন।
তবে ইরান এ ধরনের কোনো দীর্ঘমেয়াদি ও যাচাইযোগ্য অঙ্গীকার দিতে সম্মত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে ভ্যান্সের বক্তব্যে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। একইভাবে, এ ধরনের অঙ্গীকার কীভাবে যাচাই করা হবে বা তা নিশ্চিত করতে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে, সে বিষয়েও তিনি স্পষ্ট করে কিছু বলেননি।
এস এম/ ১৮ অক্টোবর ২০২৬
