মৃত যমজ ভাইয়ের পরিচয়ে ১৯ বছর ধরে আত্মগোপনে থাকা চীনের এক পলাতককে সম্প্রতি গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মৃত ভাইয়ের সাবেক প্রেমিকা তাকে শনাক্ত করার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
২০০২ সালে চীনের পূর্বাঞ্চলীয় ঝেজিয়াং প্রদেশের ইউহুয়ানে একটি ডাকাতির ঘটনা ঘটে। সাতজন সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে তার নগদ টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে।
স্থানীয় পুলিশ দ্রুত ছয়জন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে। তবে চেন পদবির সপ্তম সন্দেহভাজন পালিয়ে যান।
পুলিশ চেনকে খুঁজতে ব্যাপক তল্লাশি চালালেও তার সন্ধান পায়নি। একপর্যায়ে মামলাটির তদন্ত কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
এর পাঁচ বছর পর, চীনের মধ্যাঞ্চলীয় আনহুই প্রদেশ থেকে ইউহুয়ান পুলিশ একটি নোটিশ পায়। এতে জানানো হয়, সড়ক দুর্ঘটনায় চেনের মৃত্যু হওয়ায় তার পরিবারের নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে।
তাই পুলিশ মামলাটি বন্ধ করে দেয়। তাদের ধারণা ছিল, সন্দেহভাজনের মৃত্যু হওয়ায় তাকে আর খোঁজার প্রয়োজন নেই।
তবে ১৯ বছর পর নিয়মিত পর্যালোচনার সময় ইউহুয়ান পুলিশের হাতে আনহুই থেকে আসা একটি অস্বাভাবিক সূত্র আসে। এতে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ওই এলাকার এক ব্যক্তি বছরের পর বছর ধরে তার মৃত যমজ ভাইয়ের পরিচয়ে বসবাস করছেন।
অপরাধ তদন্তকারী লং ইউওয়েন ২০০২ সালের ডাকাতির মামলার নথি বের করেন। এরপর তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয়, জন্মস্থান ও পারিবারিক সম্পর্কের তথ্য মিলিয়ে দেখেন। এতে চেনের সঙ্গে সূত্রে উল্লেখ করা ব্যক্তির বেশ কিছু মিল খুঁজে পান।
ইউহুয়ান পুলিশ দ্রুত একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করে চেনের বিষয়ে তদন্ত করতে আনহুই প্রদেশে যায়।
সেখানে চেনের মা, বোন ও গ্রামের লোকজন তাকে আড়াল করেন। তারা বলেন, দুর্ঘটনায় ছোট চেন মারা গেছেন। কিন্তু বাস্তবে তিনি নিজের বড় যমজ ভাইয়ের পরিচয় নিয়েছিলেন। দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছিলেন ওই বড় ভাই।
এ ছাড়া স্থানীয় পারিবারিক নিবন্ধন দপ্তর, ট্রাফিক পুলিশ ও শ্মশানের সরকারি নথিতেও চেনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছিল। দুর্ঘটনার মূল নথিও সংগ্রহ করতে পারেনি পুলিশ। ফলে তাদের সন্দেহ প্রমাণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এরপর শেষ উপায় হিসেবে তারা পুরোনো পরিচয়পত্রের ছবি পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন। যমজ দুই ভাইয়ের চেহারায় উল্লেখযোগ্য মিল থাকলেও তাদের কিছু স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ছিল।
নথিপত্র পর্যালোচনার সময় পুলিশ জানতে পারে, ২০০৭ সালে চেনকে মৃত হিসেবে নিবন্ধন করার নয় দিন পর তার ‘বড়’ ভাই নাম পরিবর্তনের আবেদন করেছিলেন। একই সময়ে ওই ‘বড়’ ভাই নতুন পরিচয়পত্রের জন্য একটি ছবিও জমা দেন। ছবিটিতে তার মুখের গড়ন, অভিব্যক্তি ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য আগের ছবির তুলনায় সম্পূর্ণ আলাদা ছিল।
চেনের ঘনিষ্ঠ স্বজনেরা সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানালে পুলিশ তার বড় ভাইয়ের সাবেক প্রেমিকা ডেংকে খুঁজে বের করে। ওই নারীর সঙ্গে চেনের বড় ভাইয়ের বিয়ের কথাবার্তা চলছিল। তবে সড়ক দুর্ঘটনার পর তিনি হঠাৎ সম্পর্কটি ভেঙে দেন।
পুলিশ সংশ্লিষ্ট আইন ও নীতিমালা সম্পর্কে বুঝিয়ে বলার পর ডেং অবশেষে নিশ্চিত করেন, ১৯ বছর আগে দুর্ঘটনায় যিনি মারা গিয়েছিলেন, তিনি পলাতক চেন নন, তার বড় ভাই।
এরপর জুন মাসে চেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অপরাধ করার ২৪ বছর পর তাকে গ্রেপ্তার করা হলো।
তত দিনে নতুন পরিচয়ে স্বাভাবিক ও শান্ত জীবনযাপন করছিলেন চেন। তিনি আত্মবিশ্বাসী ছিলেন, পরিচয় বদলে আত্মগোপনে থাকার পরিকল্পনা সফল হবে।
চীনের ফৌজদারি আইন অনুযায়ী, তার তিন থেকে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
অনলাইনে একজন মন্তব্যকারী লিখেছেন, ‘এই ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ভুগতে হয়েছে সাবেক প্রেমিকাকেই।’
